...|...|...

সারাদেশ

শ্বশুরবাড়ির দ্বন্দ্ব মেটাতে গিয়ে হামলার শিকার জামাই

মাদারীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৯ আগস্ট ২০২৬, রাত ১১:০৭ | আপডেট: ২৭ আগস্ট ২০২৬, বিকেল ৩:৩৭
Shares
শ্বশুরবাড়ির দ্বন্দ্ব মেটাতে গিয়ে হামলার শিকার জামাই

শ্বশুরবাড়ির দ্বন্দ্ব মেটাতে গিয়ে হামলার শিকার জামাই। ছবি: টাইমস টুডে

মাদারীপুরের কালকিনিতে শ্বশুরবাড়ির পারিবারিক দ্বন্দ্ব মেটাতে গিয়ে শ্যালকের হামলার শিকার হয়েছেন মো. সিদ্দীক হাওলাদার (৬৮) নামে এক ব্যক্তি। দুই শ্যালকের বিরোধ মেটাতে গিয়ে সিদ্দীক এক পক্ষের হয়ে পক্ষপাতিত্ব করেছেন এমন অভিযোগে তার গোপনাঙ্গে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গুরুতর আঘাত করা হয়। হামলায় তার গোপনাঙ্গসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়েছে বলে জানা গেছে।

রবিবার (৯ আগস্ট) দুপুরে কালকিনি পৌর এলাকার পাঙ্গাশিয়া গ্রামের ঘরামী বাড়ির ব্রিজের ওপর এ হামলার ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

হামলার ঘটনায় সিদ্দীক হাওলাদার, তার ছেলে আজিজুল হাওলাদারসহ তিনজন আহত হয়েছেন। আহতদের প্রথমে কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবার, পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কালকিনি পৌর এলাকার পাতাবালি গ্রামের কৃষক সিদ্দীক হাওলাদার পাঙ্গাশিয়া গ্রামের হাছেন ঘরামীর মেয়ে রেহেনাকে বিয়ে করেন। সম্প্রতি তার দুই শ্যালকের মধ্যে পারিবারিক বিরোধ সৃষ্টি হয়। পরে দুলাভাই সিদ্দীক হাওলাদার বিষয়টি মীমাংসা করে দেন। তবে বিরোধ মেটাতে গিয়ে সিদ্দীক এক পক্ষের হয়ে পক্ষপাতিত্ব করেছেন- এমন অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে।

এর জের ধরে রবিবার দুপুরে পাঙ্গাশিয়া গ্রামের ঘরামী বাড়ির ব্রিজের ওপর সিদ্দীক হাওলাদারের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়। এ সময় তাকে দা দিয়ে কোপানো হয়। তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তার ছেলে আজিজুল হাওলাদারসহ আরও দুজন আহত হন।

আহতদের স্বজনদের অভিযোগ, হামলায় সিদ্দীক হাওলাদারের গোপনাঙ্গে গুরুতর আঘাত করা হয়েছে। বর্তমানে অস্ত্রোপচারের পর তার শারীরিক অবস্থার বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। এ ঘটনায় সিদ্দীক হাওলাদার ও তার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

আহত সিদ্দীক হাওলাদারের পুত্রবধূ রজিনা বেগম বলেন, আমার শ্বশুর ও আমার স্বামীসহ তিনজনকে সাজ্জাদ ঘরামী কুপিয়ে আহত করেছেন। আমার শ্বশুরের গোপনাঙ্গে গুরুতর আঘাত করা হয়েছে। আমরা খুব দুশ্চিন্তায় আছি। এ ঘটনায় আমরা মামলা করব।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত সাজ্জাদ ঘরামীর মা আয়সা বেগম জানান, তার জামাই ও ছেলের সাথে মারামারি হয়েছে। ছেলেরও হাত-পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জহিরুল আলম বলেন, হামলার ঘটনায় অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আহত সিদ্দীক হাওলাদারের অস্ত্রোপচারের পর তার আঘাতের প্রকৃত অবস্থা ও পরবর্তী চিকিৎসা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।