বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরির লাশ তুরাগ নদ থেকে উদ্ধারের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় এসেছে শেখ হাসিনার দেশত্যাগের সময়কার একটি ভিডিও। ওই ভিডিও ধারণ বা ছড়িয়ে দেওয়ার সাথে তাহসিফ জড়িত ছিলেন বলে দাবি করা হলেও, মৃত্যুর প্রায় তিন মাস আগে এক পডকাস্টে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছিলেন তিনি। অভিযোগের পক্ষে কী প্রমাণ রয়েছে, সেই প্রশ্নও তুলেছিলেন তাহসিফ।
গত ২১ জুলাই ‘Speak With Rashid’ নামের একটি ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে নিজের চাকরি, বিমানবাহিনীর অভিজ্ঞতা এবং তাকে নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন সম্পর্কে কথা বলেন তাহসিফ। ওই প্রতিবেদনকে প্রোপাগান্ডা বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সাক্ষাৎকারের শেষ পর্যায়ে উপস্থাপক শেখ হাসিনার দেশত্যাগের সময়কার ভিডিওর প্রসঙ্গ তোলেন। এ সময় তাহসিফের বিরুদ্ধে প্রকাশিত অভিযোগগুলো সম্পর্কে তার বক্তব্য জানতে চাওয়া হয়।
জবাবে তাহসিফ বলেন, ওখানে তারা ক্লিয়ারলি লিখেছে ভিডিওটি আমি ছড়িয়েছি। আমি যে শুট করেছি, এটাও তারা বলেনি। বলেছে রিফাত আশরাফী ভিডিওটা করেছে এবং আমি ভিডিওটা নাকি ছড়িয়ে দিয়েছি। আমি যদি ভিডিওটা করেও থাকি, ছড়িয়েও থাকি, হোয়াট ইজ দ্য প্রুভ দে আর হ্যাভিং। এটাও হতে পারে, এজন্য (এই অভিযোগের জন্য) আমি হয়তো আজকে এয়ার ফোর্সে নেই।
এরপর উপস্থাপক জানতে চান, শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও ধারণ ও ছড়িয়ে দেওয়ার কারণেই তাকে বিমানবাহিনী থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলে তিনি মনে করেন কি না।
উত্তরে তাহসিফ বলেন, হতে পারে। যে ঘটনাগুলো ওই সময় ঘটেছিল। সবকিছু আমি বলব না। আমারও কিছু অপরাগতা আছে। আমার মনে হয়, এই অভিযোগের কারণে তারা এই জিনিসটা করেছে।
তাহসিফের বক্তব্যে অভিযোগের বিষয়টি উঠে এলেও, ভিডিওটি ধারণ বা ছড়িয়ে দেওয়ার বিষয়ে তিনি কোনো অকাট্য প্রমাণের কথা উল্লেখ করেননি। বরং অভিযোগের পক্ষে কী প্রমাণ রয়েছে, সে প্রশ্নই তুলেছিলেন তিনি।
এদিকে তাহসিফের মৃত্যুর পর তার এক বন্ধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে শেখ হাসিনার ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার সাথে তার সম্পৃক্ততার দাবি করেছেন। বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে কর্মরত কে এস এম ইনতিসার ইনজামাম নামের ওই ব্যক্তি নিজের পোস্টে তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনাকে রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার কথা জানান।
ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরি। হাসিনার ভিডিও ভাইরাল করার সাথে জড়িত এই ছেলেটার লাশ আজকে তুরাগ নদীতে ভেসে আসছে। গত পরশু রাতে সে বাইরে যায় এরপর এই ঘটনা। তার লাশের ছবিতে হাতে কাদা মাখা। বাকি সব ক্লিন, এইটা কিসের লক্ষণ আমি এখনি বলতে চাইনা তবে এইটা ব্যক্তিগত কোন কোন্দল বা এক্সিডেন্ট ক্লিয়ারলি প্রমাণিত না হলে। আমি ধরে নিব এইটা পলিটিকাল।
তাহসিফের সাথে নিজের বন্ধুত্বের কথাও উল্লেখ করেছেন ইনতিসার ইনজামাম। তিনি লেখেন, Tahsif Souri আদমজী কলেজে আমার বন্ধু ছিল এবং পরবর্তীতে আমরা ৭৯ বিএমএ equivalent coursemate হিসাবে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে জয়েন্ট সার্ভিস কোর্স করি। ওর সাথে আমার জীবনের আদর্শ আকাশ ও পাতাল। কিন্তু আমি যখনই কোন তালিম টাইপ কথা বলতাম চুপ করে শুনত। যদিও I wish he could understand better, but we all lead our lives in our way, maybe that’s what got to him.
আরেক অংশে তিনি দাবি করেন, ৫ আগস্টের ভিডিও ফাঁসের পর তাহসিফের মানহানি করা হয়েছিল। তবে তার বিরুদ্ধে কোনো পুলিশি মামলা করা যায়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি। ইনতিসার লেখেন, “আমার জানা মতে যদিও বহুল হারে মানহানি করা হয়েছিল। তাই আমার বিশ্বাস সব কিছু সেই হাসিনার হেলিকপ্টার এর ভিডিও ফাঁস এর সাথে কানেক্টেড। কারণ ৫ই আগস্টের ঘটনার আগেও ফ্যালকন এই তার ১ সপ্তাহ আগে আমার সাথে দেখা হয়, সে সাধারণ ডিউটি করছিল।”
তাহসিফের বন্ধুর এসব বক্তব্য ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দাবির স্বাধীন সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার তথ্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। একইভাবে তাহসিফের মৃত্যুর সাথে শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করার মতো তথ্যও এখানে নেই। ফলে তার মৃত্যুর কারণ এবং ভিডিওসংক্রান্ত দাবির সত্যতা নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রামাণ্য তথ্য গুরুত্বপূর্ণ।



