...|...|...

জাতীয়

শেখ মুজিবকে হত্যার পর আ.লীগ নেতারা মোশতাকের মন্ত্রিসভায় যোগ দেন: স্পিকার

টাইমস টুডে প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৭ নভেম্বর ২০২৬, বিকেল ৩:০৫
Shares
শেখ মুজিবকে হত্যার পর আ.লীগ নেতারা মোশতাকের মন্ত্রিসভায় যোগ দেন: স্পিকার

জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতা খন্দকার মোশতাক আহমদের মন্ত্রিসভায় যোগ দিয়েছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। তিনি বলেছেন, ওই সময় আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ ও মন্ত্রিসভার সদস্যরা পরদিনই খন্দকার মোশতাকের মন্ত্রিসভায় শপথ গ্রহণ করেন।

শনিবার (৭ নভেম্বর) প্রকাশিত এক ভিডিওতে তাকে এসব কথা বলতে শোনা যায়।

স্পিকার বলেন, ১৯৭১ সালে শেখ মুজিবুর রহমানের অতুলনীয় জনপ্রিয়তা থাকলেও ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ডের পর সারাদেশে কোনো ধরনের প্রতিবাদ হয়নি। এত বড় দল আওয়ামী লীগও নীরব ছিল। আরও দুঃখজনক বিষয় হলো, আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ ও তার মন্ত্রিসভার সদস্যরা পরদিনই ঘাতক খন্দকার মোশতাকের মন্ত্রিসভায় যোগ দিয়েছিলেন। সিনিয়র দুই-তিনজন ছাড়া আগের মন্ত্রিসভার বাকি সদস্যরা বিকেলে শপথ নেন।

১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহ বুঝতে হলে ১৫ আগস্টের ঘটনা থেকে শুরু করতে হবে উল্লেখ করে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, শেখ মুজিবুর রহমান সেনাবাহিনীর কয়েকজন কর্মকর্তা ও একটি ছোট সেনাদলের হাতে পরিবার-পরিজনসহ নিহত হন। এরপর হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া সাত-আটজন কর্মকর্তা বঙ্গভবনে অবস্থান নেন এবং খন্দকার মোশতাককে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেন।

তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর ওই কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে ছিলেন প্রথম বেঙ্গল ল্যান্সারের উপ-অধিনায়ক মেজর ফারুক রহমান এবং দ্বিতীয় ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারির কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবদুর রশিদ।

স্পিকার আরও বলেন, ২৫ আগস্ট সেনাবাহিনীর উপপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে সেনাপ্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। ফারুক-রশিদের নেতৃত্বাধীন ছোট গোষ্ঠীটি রাষ্ট্র পরিচালনায় হস্তক্ষেপ করে এবং সেনাবাহিনীতে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেয়। এ জন্য প্রতিদিন সেনাবাহিনীর বিভিন্ন পদে রদবদল ও পদায়নের আদেশ দেওয়া হতো, যাতে ঢাকা শহরে তাদের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়।

অন্যদিকে, রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও খন্দকার মোশতাক আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্যদের নিয়ে প্রতিদিন বঙ্গভবনে বৈঠক করতেন বলে জানান হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তার ভাষ্য, ধীরে ধীরে আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে পুনর্বাসিত করা কিংবা নতুন ধাঁচে দলটিকে গড়ে তোলার চেষ্টা করছিলেন মোশতাক। পাশাপাশি সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমানের মাধ্যমে সেনাবাহিনীতে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করার পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছিল।