...|...|...

সারাদেশ

শীতের সবজির চাহিদা মেটাতে ব্যস্ত মাদারীপুরের কৃষকরা

শফিক স্বপন, মাদারীপুর
প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:১৪
Shares
শীতের সবজির চাহিদা মেটাতে ব্যস্ত মাদারীপুরের কৃষকরা

আর মাত্র কয়েকদিনের মধ্যেই পুরোপুরি বাজারে উঠতে শুরু করবে দেশীয় শীতকালীন নানা সবজি। শীতকালীন শাক-সবজি চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন মাদারীপুরের পাঁচ উপজেলার কৃষকরা। নিরাপদ সবজি উৎপাদনে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে কৃষি বিভাগ।

চলতি মৌসুমে মাদারীপুরের পাঁচ উপজেলায় শীতকালীনসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিভিন্ন উপজেলায় বছরজুড়েই কমবেশি নানা ধরনের সবজির চাষ হয়ে থাকে।

মাদারীপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর মাদারীপুর সদর উপজেলায় ১ হাজার ১০ হেক্টর, কালকিনি ও ডাসার উপজেলায় ১ হাজার ৭০০ হেক্টর, রাজৈরে ৮০০ হেক্টর এবং শিবচরে ১ হাজার হেক্টর জমিতে সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

মাদারীপুর সদর, শিবচর, রাজৈর, কালকিনি ও ডাসার উপজেলার বিভিন্ন জমিতে ইতোমধ্যে ফুলকপি, বাঁধাকপি, বেগুন, টমেটো, আলু, শাক, গাজর, শসা, শিম, মূলা, লাউ, মরিচসহ বিভিন্ন ধরনের শীতকালীন সবজি রোপণ শুরু হয়েছে।

মাদারীপুর সদর উপজেলার বাহেরচর কাতলা গ্রামের কৃষক বাশার সরদার বলেন, এবার ৩৫ শতক জমিতে সবজি চাষ করছি। শীতকালীন সবজি চাষ করে ভালো ফলন ও লাভের আশা করছি।

ছিলারচর ইউনিয়নের চরলক্ষ্মী গ্রামের কৃষক আলমগীর মোল্লা বলেন, আমি ১৩ বিঘা জমিতে সবজি চাষের উদ্যোগ নিয়েছি। ইতোমধ্যে লাউ, শসা, ঢেঁড়স, বেগুনসহ বিভিন্ন সবজি রোপণ করেছি।

শিবচর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের কৃষক তামিম মাদবর বলেন, কৃষি বিভাগের পরামর্শে মূলা, শসা, বেগুন, লাউসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ শুরু করেছি। বর্তমানে ৪০ শতাংশ জমিতে প্রায় ৫০ হাজার টাকা খরচ করে শসা চাষ করেছি। ইতোমধ্যে সেখান থেকে ৭০ হাজার টাকা আয় হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এখানকার কৃষকরা শীতকালীন বিভিন্ন ফসলের পাশাপাশি সারা বছর নানা ধরনের সবজি চাষ করছেন। এতে তারা ভালো আয় করছেন এবং সংসারে সচ্ছলতা ফিরছে।

মাদারীপুর জেলা কৃষি কর্মকর্তা ড. রহিমা বলেন, চলতি শীত মৌসুমে মাদারীপুর জেলায় ৪ হাজার ৩২০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ধরনের শীতকালীন সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কৃষকদের প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে বিনামূল্যে সবজির বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, মাদারীপুরে সবজি চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। নিরাপদ সবজি উৎপাদনে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে প্রতি বছরের মতো এবারও কৃষকরা সবজি বিক্রি করে লাভবান হবেন বলে আশা করছি।