সামনেই আসছে শীতকাল। শহুরে যান্ত্রিক জীবনে খোলা জায়গা বা বাগান করার সুযোগ কম থাকলেও একটু সদিচ্ছা থাকলেই বাড়ির সামান্য জায়গা বা ছোট ব্যালকনিতেই তৈরি করে নেওয়া সম্ভব ছোট্ট এক কিচেন গার্ডেন।
বিশেষ করে অক্টোবর মাস এই ঘরোয়া বাগান তৈরির জন্য অত্যন্ত উপযোগী সময়। বারান্দা, জানালার ধারে কিংবা রান্নাঘরের কাউন্টারে সামান্য পরিচর্যাতেই কচি পাতায় ভরিয়ে তোলা যায় ঘরের কোণ। যারা গার্ডেনিং এ একদম নতুন, তাদের জন্য মাইক্রোগ্রিনস বা কচি চারা চাষ হতে পারে দারুণ এক শুরু। চলুন, জেনে নেই সহজে চাষযোগ্য কিছু মাইক্রোগ্রিনস সম্পর্কে।
মুলার চারা: মাইক্রোগ্রিনস চাষে নতুনদের জন্য মুলার চারা অন্যতম সেরা বিকল্প। বীজ ছড়ানোর পর সাধারণত মাত্র ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যেই এগুলো তোলার উপযুক্ত হয়ে ওঠে। আর্দ্র মাটিতে বীজ ছড়িয়ে পর্যাপ্ত আলো ও বাতাসের ব্যবস্থা করলেই দ্রুত চারা বেড়ে ওঠে।
সরিষা গাছ: সরিষার কচি পাতাতেও রয়েছে চমৎকার ঝাঁঝালো স্বাদ।
সালাদ বা স্যান্ডউইচে ভিন্ন মাত্রা যোগ করতে এই শাক দারুণ কার্যকর। বীজ খুব ঘন করে না ছড়িয়ে মাটি হালকা আর্দ্র রাখলে ৭ থেকে ১২ দিনের মধ্যেই এগুলো সংগ্রহ করা সম্ভব।
লালশাকের চারা: অ্যামারান্থ বা লালশাকের কচি পাতার আকর্ষণীয় লালচে-বেগুনি আভা শুধু খাবারকে সুস্বাদু করে না, বরং সাজসজ্জাতেও আনে ভিন্ন রূপ। ছোট বীজগুলো একটু পাতলা করে ছড়িয়ে নিয়মিত আর্দ্রতা বজায় রাখলে সাধারণত ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে এগুলো খাওয়ার উপযোগী হয়।
যে বিষয়গুলোতে খেয়াল রাখা জরুরি
বাড়িতে এই মাইক্রোগ্রিনস ফলানো খুব একটা কঠিন নয়।
তবে ভালো ফলনের জন্য কয়েকটি ছোট বিষয় মাথায় রাখা দরকার—
১। পরিষ্কার ট্রে বা পাত্র ব্যবহার করা
২। ভালো মানের বীজ নির্বাচন করা
৩। পর্যাপ্ত আলো ও বাতাসের উপস্থিতি নিশ্চিত করা
৪। পরিমিত ও নিয়ন্ত্রিত পানি দেওয়া
একটু যত্ন আর নিয়ম মেনে চললেই শীতের আমেজে রান্নাঘরের জানলার পাশেই পেতে পারেন সতেজ ও পুষ্টিকর সবুজ পাতার ছোঁয়া।


