একটি কক্ষে অফিসের কাজ, আর তিনটি কক্ষে চলছে পাঁচ শ্রেণির পাঠদান। এর মধ্যেই দেয়ালে ফাটল ধরা পুরোনো ভবন, বৃষ্টিতে ছাদ চুইয়ে শ্রেণিকক্ষে পানি পড়ার সমস্যা। এভাবেই চলছে জয়পুরহাট নার্সারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম।
বিদ্যালয়টির অবস্থানও বেশ গুরুত্বপূর্ণ জায়গায়। এক পাশে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়, অন্য পাশে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়। কাছেই জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও উপজেলা পরিষদ। প্রাথমিক শিক্ষার অবকাঠামো ও কার্যক্রম তদারকির কেন্দ্রের এত কাছে থেকেও বিদ্যালয়টির অবকাঠামোগত সংকট দীর্ঘদিন ধরে কাটেনি।
১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ করা হয় ২০১৩ সালে। ৮৩ শতক জায়গার ওপর গড়ে ওঠা বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ছয়জন শিক্ষক ও ১০২ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। পাঁচ কক্ষের পুরোনো ভবনের একটি কক্ষ ইতোমধ্যে পরিত্যক্ত। বাকি চারটির একটি ব্যবহার হচ্ছে দাফতরিক কাজে। ফলে শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কক্ষ থাকছে মাত্র তিনটি।
বিদ্যালয়ের জায়গা থাকলেও পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষের ব্যবস্থা নেই। ফলে জায়গার সংকট নয়, প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর অভাবই বিদ্যালয়টির পাঠদান ব্যবস্থায় বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া প্রাক-প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের জন্যও আলাদা কোনো কক্ষ নেই। কক্ষসংকটের কারণে একটি কক্ষে দুই শিফটে ক্লাস নিতে হয়।
বিদ্যালয়ের ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। ছাদ চুইয়ে শ্রেণিকক্ষে পানি পড়ার কথাও জানিয়েছেন শিক্ষকরা। ভবনের এই অবস্থায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিদ্যালয়ের তৃতীয় ও পঞ্চম শ্রেণির দুই শিক্ষার্থী জানায়, দেয়ালে ফাটল থাকায় ভবনে ক্লাস করার সময় তাদের ভয় লাগে। ভবনের কারণে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলেও তারা আশঙ্কা করে।
প্রধান শিক্ষক লাইলা আকতার জাহান বলেন, ২০১৮ সালে বিদ্যালয়ে যোগ দেওয়ার সময় থেকেই ভবনটির এমন অবস্থা দেখছেন। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জানানো হয়েছে। তবে এখনো নতুন ভবন নির্মাণ হয়নি।
লাইলা আকতার জাহান আরও বলেন, বিদ্যালয়ের ভবনের দুরবস্থার কারণে অনেক অভিভাবক সন্তানকে ভর্তি করানোর পর অন্য বিদ্যালয়ে নিয়ে যান। বিদ্যালয় খোলা থাকা অবস্থায় ভূমিকম্প হলে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলেও আশঙ্কা রয়েছে।
সহকারী শিক্ষক ইশরাত জাহান বলেন, বিদ্যালয়ের পরিবেশ ভালো না থাকায় দিন দিন শিক্ষার্থী কমছে। গ্রামের অনেক বিদ্যালয়ে নতুন ভবন নির্মাণ হলেও জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্রে থাকা এই বিদ্যালয়ে নতুন ভবন হচ্ছে না। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য একটি মাত্র ওয়াশরুম থাকায় ভোগান্তি হয়।
অভিভাবকদের দুজন বলেন, জরাজীর্ণ ভবনে সন্তানদের পাঠিয়ে তারা দুশ্চিন্তায় থাকেন। জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্রে একটি সরকারি বিদ্যালয়ের এমন অবস্থা তাদের প্রত্যাশিত নয়। দ্রুত নিরাপদ ভবন ও পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষের ব্যবস্থা করার দাবি জানান তারা।
বিদ্যালয়ে স্যানিটেশন ব্যবস্থাও পর্যাপ্ত নয়। ১০২ শিক্ষার্থী ও ছয়জন শিক্ষকের জন্য রয়েছে মাত্র একটি ওয়াশরুম। ফলে শ্রেণিকক্ষ সংকটের পাশাপাশি এই সমস্যাটিও শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জয়পুরহাট সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শামীম ইকবাল বলেন, বিদ্যালয়টির ভবন অনেক পুরোনো এবং দেয়ালে ফাটল ধরেছে। নতুন ভবন নির্মাণের জন্য অনেক আগেই সংশ্লিষ্ট দফতরে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে।



