লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজে শিক্ষক সংকট চরমে। দর্শন ও যুক্তিবিদ্যা বিষয়ে একজনও শিক্ষক নেই। বাংলা বিষয়ে একজন, রাষ্ট্রবিজ্ঞানে দুইজন,ইংরেজিতে দুইজন, ইসলামের ইতিহাসে একজন, ব্যবস্থাপনা দুুইজন,সমাজ বিজ্ঞানে তিনজন শিক্ষক দিয়ে নানা সমস্যায় খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম। এতে মানসম্মত শিক্ষাকার্যক্রম থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।
কলেজ সূত্রে জানা গেছে,১৯৯৪ সালে অর্নাস কার্যক্রম চালু হওয়ার পর থেকে বাংলা, ইংরেজি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, পদার্থ বিজ্ঞান, রসায়ন ও গণিতসহ ১১টি বিষয়ে অনার্স কোর্স, ৭টি বিষয়ে মাস্টার্স, তিনটি বিষয়ে প্রিলি চালু আছে। এসব বিষয়ে প্রায় নয় হাজারের অধিক শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। বর্তমানে মোট ৭৫টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৩৮ জন, পদশূন্য ৩৭ টি শিক্ষকপদে। অর্ধেক জনবল দিয়ে চলছে শিক্ষাদান। এতে প্রতিষ্ঠানটিতে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের জন্য দূর-দূরান্ত থেকে আসা শিক্ষার্থীরা পড়েছেন চরম বিপাকে। শিক্ষক সংকট থাকায় মানসম্মত পাঠদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।
বাংলা বিষয়ে উচ্চ মাধ্যমিক ও অর্নাস সহ প্রায় দেড় হাজার শিক্ষার্থী বিপরীতে শিক্ষক মাত্র একজন,ইংরেজি বিষয়ে শিক্ষক আছে দুইজন, দর্শন ও যুক্তিবিদ্যায় নেই কোনো শিক্ষক, রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অর্নাস-মাস্টার্স মিলিয়ে হাজারের অধিক শিক্ষার্থীর জন্য দুইজন রয়েছে শিক্ষক, এভাবে প্রত্যেকটি বিষয়ে রয়েছে শিক্ষক সংকট। তবে প্রতিষ্ঠান কতৃপক্ষ জানান,শিক্ষক সংকট থাকলেও অতিথি শিক্ষক দিয়ে চলছে শিক্ষা কার্যক্রম। তবে শিক্ষক স্বল্পতাকে বিবেচনায় নিয়ে পড়ালেখা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন অকপটে।
শিক্ষার্থীরা বলছেন, শিক্ষক সংকটের কারণে নিয়মিত ক্লাস হচ্ছে না তাদের। নানা সংকটে ব্যবহারিক ক্লাস থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। নিয়মিত ক্লাস না পাওয়ায় হুমকির মুখে পড়েছে তাদের শিক্ষাজীবন।
আর শিক্ষকরা বলছেন, শিক্ষক সংকট থাকায় অতিরিক্ত ক্লাস নিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এতে মানসম্মত শ্রেণি কার্যক্রম থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।
সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান রিয়া বলেন,আমাদের বর্তমানে সবচেয়ে বড় সংকট হচ্ছে শিক্ষক, শিক্ষকরা আন্তরিক। একই শিক্ষককে বারবার ক্লাস নিতে হচ্ছে। যার ফলে নিয়মিত পাঠদান হচ্ছে না।
রাস্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী নাইমুর রহমান বলেন, আমাদের বিভাগে ৭জন শিক্ষক থাকার কথা কিন্তু আছেন ২জন, আর দুইজন অতিথি শিক্ষকদের দিয়ে কোনোমতে ক্লাস চলছে। মাঝে মধ্যে ক্লাস বাদ যায়। আমাদের পড়াশোনা ক্ষতি হচ্ছে।
শিক্ষার্থী ইসরাত আরা বলেন,'শিক্ষক স্বল্পতার কারণে আমাদের নিয়মিত ক্লাস হচ্ছে না। এতে পড়াশুনা থেকে পিছিয়ে পড়ছি আমরা। অথচ কলেজটি লক্ষ্মীপুর জেলার শ্রেষ্ট বিদ্যাপিঠ। শিক্ষক সংকট দূরীকরণে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া দরকার, না হলে হুমকির মধ্যে পড়বে আমাদের শিক্ষাজীবন।'
দ্বাদশের শিক্ষার্থী কামাল হোসেন বলেন,নিয়মিত ক্লাসগুলোই হচ্ছে না। এতে শিক্ষাজীবন নিয়ে হুমকির মধ্যে পড়ছি আমরা। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, মানসম্মত শিক্ষা না পেলে, ভবিষ্যৎ-এ দেশ ও জাতির কল্যাণে আমরা আদৌ কি কোন ভুমিকা রাখতে পারব?'
রাস্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক মাকসুদ আলম বলেন,'এই বিভাগে আমরা মাত্র দুইজন শিক্ষক রয়েছি। অনার্স, ডিগ্রি ও একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণিতে শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা করতে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের গুণগত শিক্ষা প্রদান আমরা দিতে পারছি না। শ্রেণি কার্যক্রম গতিশীল করার লক্ষ্যে দ্রুত শিক্ষক সংকট সমাধান করা দরকার। তা নাহলে মানসম্মত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হবেন শিক্ষার্থীরা।
বাংলা বিভাগের শিক্ষক মীর মাহবুবুর রহমান বলেন,আমি একজন শিক্ষক দীর্ঘদিন যাবত বাংলা বিভাগের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ক্লাস, পরীক্ষা সহ সকল কার্যক্রম পরিচালনার করে আসছি, এতে করে হিমশিম খেতে হচ্ছে। পাশাপাশি ৩জন অতিথি শিক্ষক দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছি। দ্রুত শিক্ষক সংকট সমাধান করা দরকার।
লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. ইউসুফ বলেন, অত্র কলেজে ১১টি বিষয়ে অনার্স কোর্স, ৭টি বিষয়ে মাস্টার্স, তিনটি বিষয়ে প্রিলি চালু আছে। বর্তমানে মোট ৭৫টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৩৮ জন,পদশূন্য ৩৭ টি শিক্ষকপদে। মানসম্মত শিক্ষাকার্যক্রম থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। তারপরও আমরা অতিথি শিক্ষক দিয়ে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছি। যাতে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার ব্যাঘাত না ঘটে। সংকটের 'বিষয়টি বার বার কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও সমাধান মেলেনি। বর্তমানে এই বিষয়ে পানিসম্পদ মন্ত্রী এ্যানী চৌধুরী মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছেন, আশাকরি খুব দ্রুতই সমস্যার সমাধান হবে।


