...|...|...

খেলা

রেকর্ডের বন্যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজকে উড়িয়ে সিরিজ জিতল ভারত

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১ অক্টোবর ২০২৬, রাত ১২:১৭ | আপডেট: ১ অক্টোবর ২০২৬, ভোর রাত ৪:৪৭
Shares
রেকর্ডের বন্যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজকে উড়িয়ে সিরিজ জিতল ভারত

ছবি: সংগৃহীত

গুয়াহাটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে রেকর্ডের পর রেকর্ড গড়ে দারুণ এক জয় পেয়েছে ভারত। ক্যারিবীয়দের ৪০৫ রানের বিশাল লক্ষ্য ৮ উইকেট ও ৩৯ বল হাতে রেখেই পেরিয়ে গেছে স্বাগতিকরা। এই জয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই তিন ম্যাচের সিরিজ ২-০ ব্যবধানে নিজেদের করে নিয়েছে ভারত।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের দেওয়া ৪০৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভারতের জয়ের নায়ক অধিনায়ক শুভমান গিল। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের সেরা ২২৩ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন তিনি। মাত্র ১১৭ বলে দ্বিশতক পূর্ণ করে ওয়ানডেতে দ্রুততম ডাবল সেঞ্চুরির নতুন রেকর্ডও গড়েছেন এই ওপেনার।

গিলের এই ইনিংসের সুবাদে ওয়ানডেতে একাধিক ডাবল সেঞ্চুরি করা ব্যাটারের তালিকায় রোহিত শর্মার পর দ্বিতীয় ক্রিকেটার হিসেবে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। একই সাথে অধিনায়ক হিসেবে ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানের রেকর্ডও গড়েছেন ভারতীয় এই ব্যাটার।

৪০৬ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়ায় ভারতকে উড়ন্ত সূচনা এনে দেন গিল ও রোহিত শর্মা। দুজনের দারুণ ব্যাটিংয়ে দ্রুতই নিয়ন্ত্রণে চলে আসে ম্যাচ। গিল তুলে নেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ১১তম শতক। রোহিতও খেলেন ১০১ রানের দুর্দান্ত ইনিংস, যা ওয়ানডেতে তার ৩৫তম সেঞ্চুরি।

উদ্বোধনী জুটি ভাঙার পর গিলের সাথে যোগ দেন বিরাট কোহলি। তবে বড় রান তাড়ায় প্রত্যাশিত ইনিংস খেলতে পারেননি তিনি। র‍্যাম্প শট খেলতে গিয়ে ক্যাচ দিয়ে ২৯ রানে ফেরেন কোহলি। এরপর রুতুরাজ গায়কোয়াড়কে সাথে নিয়ে নির্বিঘ্নে দলের জয় নিশ্চিত করেন গিল।

এই জয় ওয়ানডে ইতিহাসে ভারতের সর্বোচ্চ রান তাড়ার রেকর্ড। একই সাথে এটি ওয়ানডেতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সফল রান তাড়ার ঘটনাও। এই তালিকায় সবার ওপরে রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ২০০৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৪৩৪ রান তাড়া করে জিতেছিল প্রোটিয়ারা।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। মাত্র ৯ রানে কিচি কার্টির উইকেট হারানোর পর ঘুরে দাঁড়ায় ক্যারিবীয়রা। জন ক্যাম্পবেল ও শাই হোপের ব্যাটে গড়ে ওঠে ১১০ রানের জুটি।

৬৮ বলে ৯টি চার ও ৫টি ছক্কার সাহায্যে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ওয়ানডে সেঞ্চুরি তুলে নেন ক্যাম্পবেল। তবে শতক পূরণের পরের ওভারেই গুরনুর ব্রারের বলে ক্যাচ দিয়ে বিদায় নেন তিনি।

এরপর হোপের সাথে জুটি বাঁধেন জাঙ্গু। তৃতীয় উইকেটে দুজন যোগ করেন ১৮২ রান। ব্যাটিংয়ের জন্য সহায়ক উইকেটে ভারতীয় বোলারদের ওপর চড়াও হয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে বড় সংগ্রহের পথে এগিয়ে নেন তারা।

হোপ পূর্ণ করেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ২০তম সেঞ্চুরি। এর মাধ্যমে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে ওয়ানডেতে সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরি করা ব্যাটারদের তালিকায় ব্রায়ান লারাকে ছাড়িয়ে যান তিনি। ক্যারিবীয়দের হয়ে সর্বোচ্চ ২৫টি ওয়ানডে সেঞ্চুরি রয়েছে ক্রিস গেইলের।

অন্যদিকে মাত্র ৭০ বলে নিজের দ্বিতীয় ওয়ানডে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন জাঙ্গু। শতক হাঁকানোর পর মাঠে লাফিয়ে উঠে ঘুসি ছুড়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন তিনি।

তবে সেঞ্চুরি করার পর দ্রুতই ছন্দ হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। হোপের বিদায়ের পর প্রথম বলেই ‘ডায়মন্ড ডাক’-এ ফেরেন শেরফেন রাদারফোর্ড। এরপর রবীন্দ্র জাদেজার বলে আউট হন জাঙ্গু। শেষদিকে রোস্টন চেসের অপরাজিত ২৯ রানের ইনিংসে ভর করে ৪০০ পেরিয়ে ৭ উইকেটে ৪০৫ রানের বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

ম্যাচে জোড়া উইকেট নিয়ে ওয়ানডেতে ২০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন ভারতের বাঁহাতি রিস্ট স্পিনার কুলদীপ যাদব। তবে বোলারদের সেই সাফল্য শেষ পর্যন্ত ম্লান করে দিয়ে গিলের রেকর্ড গড়া ব্যাটিংয়ে বিশাল লক্ষ্য অনায়াসে টপকে যায় ভারত।