বাংলা সাহিত্যের আধুনিক কবিতার অন্যতম প্রধান স্রষ্টা জীবনানন্দ দাশের ৭২তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ ২২ অক্টোবর। প্রকৃতি, প্রেম, নিঃসঙ্গতা, স্মৃতি ও বিষণ্নতার অনন্য কাব্যভাষায় বাংলা কবিতাকে সমৃদ্ধ করেছেন তিনি। মৃত্যুর সাত দশকের বেশি সময় পরও তার কবিতা পাঠকের মনে তৈরি করে চলেছে এক স্বতন্ত্র অনুভবের জগৎ।
১৮৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন জীবনানন্দ দাশ। বাংলার প্রকৃতি ও মানুষের জীবন তার কবিতায় পেয়েছে ভিন্নমাত্রার প্রকাশ। নদী, মাঠ, পাখি, ধানসিঁড়ি নদী কিংবা বাংলার চিরচেনা নিসর্গ-সবকিছুই তার কবিতায় হয়ে উঠেছে স্মৃতি, সৌন্দর্য ও গভীর জীবনবোধের অনুষঙ্গ।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রভাববলয় থেকে বেরিয়ে নিজস্ব শব্দচয়ন, চিত্রকল্প ও কাব্যদর্শনের মাধ্যমে বাংলা কবিতায় আধুনিকতার স্বতন্ত্র ধারা নির্মাণ করেন জীবনানন্দ। তার কবিতায় একদিকে যেমন বাংলার প্রকৃতির নিবিড় সৌন্দর্য ফুটে উঠেছে, অন্যদিকে তেমনি প্রকাশ পেয়েছে মানুষের একাকিত্ব, সময়ের প্রবাহ এবং জীবনের অনিশ্চয়তা।
জীবনানন্দ দাশের উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘ঝরা পালক’, ‘ধূসর পাণ্ডুলিপি’, ‘বনলতা সেন’, ‘মহাপৃথিবী’, ‘সাতটি তারার তিমির’ ও ‘রূপসী বাংলা’। বিশেষ করে ‘রূপসী বাংলা’ কাব্যগ্রন্থে বাংলার প্রকৃতি ও জনপদের যে কাব্যিক রূপ ফুটে উঠেছে, তা তাকে প্রকৃতিপ্রেমী কবি হিসেবে বিশেষ পরিচিতি দিয়েছে।
জীবদ্দশায় তার সাহিত্যকর্ম সব সময় সমান স্বীকৃতি পায়নি। তবে পরবর্তী সময়ে তার কবিতা ও সাহিত্যদর্শন বাংলা সাহিত্যে গভীর প্রভাব বিস্তার করে। আধুনিক বাংলা কবিতার বিকাশে তার অবদান নিয়ে সাহিত্যসমালোচকদের আগ্রহ আজও অব্যাহত।
১৯৫৪ সালের ১৪ অক্টোবর কলকাতায় ট্রাম দুর্ঘটনায় আহত হন জীবনানন্দ দাশ। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২২ অক্টোবর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যু বাংলা সাহিত্যে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের অবসান ঘটালেও তার সৃষ্টিকর্ম তাকে পাঠকের কাছে চিরস্মরণীয় করে রেখেছে।


