...|...|...

ধর্ম

রিজিক বৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ ৪ আমল

টাইমস টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২ নভেম্বর ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:৫৯ | আপডেট: ২ নভেম্বর ২০২৬, সন্ধ্যা ৭:০২
Shares
রিজিক বৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ ৪ আমল

ছবি: এআই জেনারেটেড

ইসলামে হালাল ও উত্তম উপায়ে রিজিক অন্বেষণের জন্য গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পবিত্র কোরআনেও সালাত আদায়ের পর জমিনে ছড়িয়ে পড়ে মহান আল্লাহর অনুগ্রহ (রিজিক) সন্ধানের নির্দেশ রয়েছে। দৈনন্দিন জীবনে রিজিকে বরকত ও বৃদ্ধি পাওয়ার জন্য হাদিস ও কোরআনের আলোকে প্রধান ৪টি আমল উল্লেখ করা হলো:

ওয়াক্তমতো নামাজ আদায় করা

পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ অন্যতম ফরজ ইবাদত। পবিত্র কোরআনে ৮২ বার নামাজের কথা এসেছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই সালাত (নামাজ) মুমিনদের ওপর নির্দিষ্ট সময়ে ফরজ।’ (সুরা নিসা, আয়াত : ১০৩)

এ ক্ষেত্রে যথাসময়ে সালাত আদায় করা খোদ মহান আল্লাহর কাছেও অধিক প্রিয় আমল। আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ (রা.) বলেন, আমি রাসুল (সা.) কে জিজ্ঞাসা করলাম, কোন আমল আল্লাহর নিকট অধিক প্রিয়? তিনি (নবীজি সা.) বললেন, যথাসময়ে সালাত আদায় করা। ইবনু মাসঊদ (রা.) পুনরায় জিজ্ঞাসা করলেন, এরপর কোনটি? তিনি বললেন, এরপর পিতা-মাতার প্রতি সদ্ব্যবহার। ইবনু মাসঊদ (রা.) আবার জিজ্ঞাসা করলেন, এরপর কোনটি? রাসুল (সা.) বললেন, এরপর আল্লাহর পথে জিহাদ বা জিহাদ ফী সাবিলিল্লাহ্। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৫০২)

অন্যদিকে নামাজের সাথে রিজিকের সংশ্লিষ্টতার কথা পবিত্র কোরআনেও এসেছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘আর তোমার পরিবার-পরিজনকে সালাত আদায়ের আদেশ দাও এবং নিজেও তার ওপর অবিচল থাকো। আমি তোমার কাছে কোনো রিজিক চাই না। আমিই তোমাকে রিজিক দিই। আর শুভ পরিণাম তো মুত্তাকীদের জন্য।’ (সুরা ত্বহা, আয়াত : ১৩২)

নিয়মিত ইস্তিগফার পড়া

রিজিকে বরকত লাভের সহজ একটি আমল হলো নিয়মিত ইস্তিগফার পড়া। ইব্‌ন আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, রাসুল (সা.) বলেছেন- যে ব্যক্তি নিয়মিত ইস্তিগফার পাঠ করে, আল্লাহ তা’য়ালা তাকে সব ধরনের বিপদ-আপদ থেকে মুক্ত করবেন এবং সব রকম দুশ্চিন্তা থেকে রক্ষা করবেন এবং তার জন্য এমন স্থান থেকে রিজিকের ব্যবস্থা করবেন, যা সে কল্পনাও করতে পারে না। (সুনান আবু দাউদ, হাদিস : ১৫১৮)

মহান রবের শুকরিয়া আদায় করা

রিজিকে বরকত লাভের অন্যতম একটি উপায় হলো মহান রবের শুকরিয়া আদায় করা। কারণ, তিনিই রিজিকের মালিক। বান্দা শুকরিয়া আদায় করলে আল্লাহ নেয়ামত বাড়িয়ে দেন।

পবিত্র কোরআনে খোদ মহান রব ইরশাদ করেছেন, ‘যদি তোমরা শুকরিয়া আদায় কর, তবে আমি অবশ্যই তোমাদের (নেয়ামত) বাড়িয়ে দেবো, আর যদি তোমরা অকৃতজ্ঞ হও, নিশ্চয়ই আমার আজাব বড় কঠিন।’ (সুরা ইব্রাহিম, আয়াত : ৭)

আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করা

রিজিক বৃদ্ধির ক্ষেত্রে আত্মীয়তার সম্পর্কেরও ভূমিকা রয়েছে। কারণ, আত্মীয়তা রক্ষা করলে রিজিকে বরকত লাভ হয়। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, আমি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি- যে ব্যক্তি তার রিজিক প্রশস্ত করতে এবং আয়ু বৃদ্ধি করতে চায়, সে যেন তার আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করে। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৫৫৫৯)

ইবাদত-বন্দেগির পাশাপাশি দৈনন্দিন জীবনে এসব আমল নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে রিজিকে বরকত ও শান্তি অর্জন সম্ভব। মহান আল্লাহ তা’আলা আমাদের আমলগুলো করার তৌফিক দান করুন। আমিন।