...|...|...

রংপুর

রাষ্ট্রপতিকে বরণে প্রস্তুত ঠাকুরগাঁও

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সন্ধ্যা ৭:৫৬ | আপডেট: ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৮:৪৩
Shares
রাষ্ট্রপতিকে বরণে প্রস্তুত ঠাকুরগাঁও

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের আগমনকে ঘিরে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে ঠাকুরগাঁওয়ে।

রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর)  দুই দিনের সফরে নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে আসছেন দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর নিজ জেলায় এটিই হবে তার প্রথম সফর।

রাষ্ট্রপতির আগমন উপলক্ষে জেলা শহরে শুরু হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও স্থাপনাগুলোতে চলছে সাজসজ্জা, নির্মাণ করা হচ্ছে তোরণ, কোথাও লাগানো হচ্ছে আলোকসজ্জা। পাশাপাশি শহর ও আশপাশের এলাকার সৌন্দর্যবর্ধন এবং পরিচ্ছন্নতার কাজও চলছে।

রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানাতে প্রশাসনের পাশাপাশি রাজনৈতিক দল, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যেও তৈরি হয়েছে উৎসাহ-উদ্দীপনা। তার সফরকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে রয়েছে ব্যাপক আগ্রহ ও কৌতূহল।

সফরের প্রথম দিন রাষ্ট্রপতি ঠাকুরগাঁওয়ে পৌঁছানোর পর আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। পরে তিনি একটি নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেবেন। ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয় মাঠে নাগরিক কমিটির আয়োজনে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

এ সফরকে ঘিরে রাষ্ট্রপতির নিজ শহরের মানুষের মধ্যে বিশেষ আবেগ কাজ করছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের সাথে যে ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের সম্পর্ক, রাষ্ট্রপতি হিসেবে সেই পরিচিত শহরে তার প্রথম সফরকে স্মরণীয় করে রাখতে নেওয়া হচ্ছে নানা উদ্যোগ।

রাষ্ট্রপতির দুই দিনের সফরের দ্বিতীয় দিন ৭ সেপ্টেম্বর ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের কর্মসূচি রয়েছে। ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জ সড়কের পাশে সদর উপজেলার জামালপুর এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

দীর্ঘদিন ধরেই ঠাকুরগাঁওয়ে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়ে আসছিলেন জেলার মানুষ। উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়ানো, শিক্ষার্থীদের অন্য জেলায় যাওয়ার প্রবণতা কমানো এবং উত্তরাঞ্চলে শিক্ষা ও গবেষণার নতুন সুযোগ তৈরির প্রত্যাশা থেকে এ দাবি গুরুত্ব পেয়ে আসছে।

রাষ্ট্রপতির সফরের সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের কর্মসূচি যুক্ত হওয়ায় বিষয়টি জেলার মানুষের কাছে বাড়তি গুরুত্ব পেয়েছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হলে ঠাকুরগাঁওসহ আশপাশের জেলার শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ আরও বিস্তৃত হবে।

রাষ্ট্রপতির আগমনকে কেন্দ্র করে ঠাকুরগাঁও শহরের চিত্রও বদলে যাচ্ছে। ব্যস্ত হয়ে উঠেছে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও এলাকাগুলো। প্রশাসনিক প্রস্তুতির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও বাড়ছে আগ্রহ।

নিজ জেলার সন্তান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে এবার রাষ্ট্রপতি হিসেবে স্বাগত জানাতে অপেক্ষায় ঠাকুরগাঁওবাসী। তার দুই দিনের সফর এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন—দুটি ঘটনাকেই জেলার ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।

রবিবার যতই এগিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে প্রস্তুতির ব্যস্ততা। সব আয়োজনের মধ্য দিয়ে যেন রাষ্ট্রপতিকে বরণে প্রস্তুত হচ্ছে পুরো ঠাকুরগাঁও।