...|...|...

বিশ্ব

রাশিয়ার ‘নিউমোনিক প্লেগ’ নিয়ে যে কারণে উদ্বিগ্ন যুক্তরাষ্ট্র

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৭ অক্টোবর ২০২৬, বিকেল ৪:৫৫
Shares
রাশিয়ার ‘নিউমোনিক প্লেগ’ নিয়ে যে কারণে উদ্বিগ্ন যুক্তরাষ্ট্র

ছবি: সংগৃহীত

রাশিয়ার একটি ল্যাবরেটরিতে ঘটা এক বিজ্ঞানীর রহস্য মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশটিতে মারাত্মক সংক্রামক ‘নিউমোনিক প্লেগ’ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই ঘটনায় ওয়াশিংটন গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মস্কোকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছেন।

বুধবার (৭ অক্টোবর) মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের তথ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প জানিয়েছেন যে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে খুব দ্রুতই তার কথা হবে।

এর আগে, সোমবার সম্ভাব্য এই প্লেগ পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আমরা তাদের সাহায্য করব। যতদূর সম্ভব, আমরা তাদের সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করব। তবে এখন পর্যন্ত রাশিয়ায় নিউমোনিক প্লেগের প্রাদুর্ভাবের কোনো সুনির্দিষ্ট ও নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

ল্যাব দুর্ঘটনা ও মৃত্যুর রহস্য

পুরো ঘটনার সূত্রপাত দারিয়া শিপিলোভা নামের এক রুশ ল্যাবকর্মীর আকস্মিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাইবেরিয়ার একটি অ্যান্টি-প্লেগ রিসার্চ ইনস্টিটিউটে কাজ করার সময় প্লেগের জীবাণু বহনকারী একটি টেস্ট টিউব ভেঙে ফেলেছিলেন তিনি। পরবর্তীতে মারাত্মক নিউমোনিয়ার লক্ষণ নিয়ে গত ২৯ সেপ্টেম্বর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং ১ থেকে ২ অক্টোবরের মধ্যবর্তী সময়ে তার মৃত্যু হয়।

তবে শিপিলোভার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি। রুশ স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের দাবি, তিনি ‘অজ্ঞাত কারণে নিউমোনিয়ায়’ মারা গেছেন এবং তার কর্মস্থলের কোনো জীবাণুর সাথে এই অসুস্থতার যোগসূত্র মেলেনি।

এদিকে, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে কর্তৃপক্ষ সংলগ্ন এলাকায় কড়াকড়ি আরোপ করেছে। মৃত ওই ল্যাবকর্মীর সংস্পর্শে এসেছিলেন এমন প্রায় ২০০ মানুষকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং একটি শিশু ও মাতৃসদন হাসপাতালসহ মোট পাঁচটি চিকিৎসাকেন্দ্র কোয়ারেন্টিনে রয়েছে। রুশ জনস্বাস্থ্য সংস্থার দাবি, কোয়ারেন্টিনে থাকা কেউ এখনো নতুন কোনো সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হননি এবং সামগ্রিক মহামারি পরিস্থিতিও স্থিতিশীল রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক মহলের নজরদারি

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা দফতর এবং রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) পররাষ্ট্র দপ্তরের সাথে যৌথভাবে পুরো বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর রাশিয়ার কাছে এই ঘটনা সম্পর্কিত আরও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশের তাগিদ দিয়েছে। একই সাথে স্মরণ করিয়ে দিয়েছে যে, দ্রুত রোগ শনাক্ত করে চিকিৎসা শুরু করা গেলে সাধারণ অ্যান্টিবায়োটিক দিয়েই প্লেগ নিরাময় সম্ভব। ইউরোপীয় কমিশনও পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিউমোনিক প্লেগ হলো প্লেগের সবচেয়ে মারাত্মক রূপ, যা আক্রান্ত ব্যক্তির শ্বাস-প্রশ্বাসের ক্ষুদ্র কণার মাধ্যমে ছড়াতে পারে। তবে শিপিলোভার মৃত্যুর পর তার মাধ্যমে অন্য কারও দেহে এই রোগ ছড়িয়ে পড়ার কোনো প্রমাণ মেলেনি। সাধারণত সংক্রামিত প্রাণী বা ইঁদুরের গায়ে থাকা মাছির কামড়েই মানুষে প্লেগ ছড়ায়।

এদিকে রুশ কর্মকর্তাদের বক্তব্যেও কিছুটা গরমিল দেখা গেছে। ইরকুতস্কের গভর্নর একজন বাসিন্দার ‘বিশেষ বিপজ্জনক সংক্রমণে’ আক্রান্ত হওয়ার কথা স্বীকার করলেও সরাসরি প্লেগের নাম নেননি। অন্যদিকে বুরিয়াতিয়ার গভর্নর শিপিলোভার ওই অঞ্চলে যাওয়ার খবর অস্বীকার করে জানান যে সেখানে কোনো প্লেগের প্রাদুর্ভাব নেই।

যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগের কারণ

নিউমোনিক প্লেগ চিকিৎসাযোগ্য হলেও দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এটি অত্যন্ত প্রাণঘাতী হতে পারে। এছাড়া এই রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া ‘ইয়েরসিনিয়া পেস্টিস’ অতীতে জৈবিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের ইতিহাস থাকায় রাশিয়ার প্লেগ গবেষণাগারে সম্ভাব্য নিরাপত্তা ত্রুটির খবর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাড়তি উৎকণ্ঠা তৈরি করেছে।

তবে বর্তমান পরিস্থিতিকে কোনো বৈশ্বিক মহামারি হিসেবে দেখার মতো কোনো জোরালো প্রমাণ এখনও নেই। মূলত রাশিয়ার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত এবং ল্যাবকর্মী শিপিলোভার মৃত্যুর আসল কারণ স্পষ্ট হওয়ার পরেই জানা যাবে মস্কো যুক্তরাষ্ট্রের এই সহায়তার প্রস্তাব গ্রহণ করবে কি না।