সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে নাঈম মোল্লা (১৬) নামের এক কিশোর নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় মো. রবিন (১৬) ও তাজ (১৫) নামের আরো দুই কিশোর আহত হয়েছে।
শুক্রবার (৩ জুলাই) দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার আগানগর ইউনিয়নের আমবাগিচা এলাকায় চলচ্চিত্র অভিনেতা ডিপজলের ভাড়াটিয়া বাড়ির গলিতে তাজ ও রবিন গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
আহত রবিনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আর তাজকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সংঘর্ষের সময় নাঈম মোল্লা তৃতীয় পক্ষ হিসেবে তাদের থামানোর চেষ্টা করলে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।
এরপর স্থানীয়রা এগিয়ে এলে উভয় পক্ষের কিশোররা পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা আহত নাঈম ও রবিনকে উদ্ধার করে রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার (৪ জুলাই) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে নাঈম মারা যায়। পরে রবিনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
মৃত নাঈম মোল্লা মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার জাফরগঞ্জ গ্রামের মজিদ মোল্লার ছেলে। সে পরিবারের সঙ্গে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আমবাগিচা পানির ট্যাংকি এলাকায় বসবাস করতেন এবং প্যান্ট তৈরির একটি কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
আহত রবিন কুমিল্লার মেঘনা থানার মোহাম্মদপুর গ্রামের রমজান আলীর ছেলে। সে পরিবারের সঙ্গে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের গোলাম বাজার এলাকায় বসবাস করেন। অপরদিকে, তাজকে গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে মিটফোর্ড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ হেফাজতে নেয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তাজ ও রবিনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। গত রমজান মাসে তারাবির নামাজকে কেন্দ্র করে প্রথম দ্বন্দ্বের সূত্রপাত হয়। কয়েকদিন আগে বুড়িগঙ্গা নদীতে নৌকায় চলাচলের সময় সিনিয়র-জুনিয়র বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে আবারও বাগবিতণ্ডা হয়। সেই বিরোধের জের ধরেই শুক্রবার রাতে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। মৃত নাঈম ওই বিরোধের পক্ষভুক্ত ছিলেন না, নাঈম ঘটনাস্থলে গিয়ে সংঘর্ষ থামানোর চেষ্টা করতেই হামলার শিকার হন বলে জানান স্থানীয়রা।
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। লাশ সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
এছাড়া উভয় পক্ষ মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে উল্লেখ করে ওসি জানান, তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

