...|...|...

রাজনীতি

যে নিজের পরিচয় গোপন করে অপকর্ম করে, সেই বড় গুপ্ত: জামায়াত আমির

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৬:০২ | আপডেট: ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ১:১৭
Shares
যে নিজের পরিচয় গোপন করে অপকর্ম করে, সেই বড় গুপ্ত: জামায়াত আমির

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, যারা নিজের পরিচয় গোপন করে অপকর্ম ও দুর্নীতিতে জড়ায়, তারাই সবচেয়ে বড় গুপ্ত। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে দেওয়া পরিবর্তনের নানা প্রতিশ্রুতির ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও তার বাস্তবায়ন হয়নি।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাতে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে ১১ দলীয় জোটের লংমার্চের সমাপনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণ দুটি ভোট দিয়েছিল-একটি জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচনের জন্য এবং অন্যটি রাজনীতির পরিবর্তন ও সংস্কার পরিষদের সদস্য নির্বাচনের উদ্দেশ্যে। নির্বাচনের আগে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।

তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘ছয় মাস চলে গেল, যারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তারা কি তাদের কথা রেখেছে?’

জামায়াত আমির বলেন, দেশের মানুষ আশা করেছিল ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি হবে না, আদালতে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে, সন্তানরা ভালো শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে এবং দেশ থেকে চাঁদাবাজি, ঘুষ ও দুর্নীতি দূর হবে। তবে এসব প্রত্যাশার কোনোটি বাস্তবায়িত হয়নি।

ঢাকা বিমানবন্দরে এক প্রবাসীর স্বর্ণ ছিনতাইয়ের একটি ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ছিনতাইয়ের সময় অভিযুক্তরা নিজেদের আওয়ামী লীগের লোক পরিচয় দিয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে ধরা পড়ার পর তাদের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে ভিন্ন তথ্য সামনে আসে।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যে নিজের পরিচয় গোপন করে অপকর্ম করে, দুর্নীতি করে, সেই হচ্ছে সবচেয়ে বড় গুপ্ত।’

সমাবেশে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, দেশের বিদ্যমান সমস্যার সমাধান করতে না পারলে সরকারকে তা জনগণের কাছে স্বীকার করতে হবে এবং বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনায় বসতে হবে।

তিনি অভিযোগ করেন, সংসদ কার্যকর না হওয়ায় রাজনৈতিক আন্দোলন রাজপথে গড়িয়েছে। প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, সংসদকে কার্যকর করে রাজনৈতিক সংকট সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, অতীতের স্বৈরাচারী শক্তির পুনরুত্থানের সুযোগ দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে বাংলাদেশে নতুন কোনো স্বৈরাচারের পথও তৈরি করতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় জোটের সমন্বয়ক এইচ এম হামিদুর রহমান আজাদ বলেন, দেশের বিভিন্ন সংকট নিয়ে জনগণের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। গ্যাস সংকট নিয়ে সরকারের বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তবতার মিল নেই বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এনসিপির নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, জনগণের দাবি আদায়ে ছয় দফা দাবিতে আন্দোলন চলছে। এসব দাবির বিষয়ে জবাবদিহি না হলে আন্দোলন আরও কঠোর কর্মসূচির দিকে যেতে পারে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

সমাবেশকে কেন্দ্র করে শনিবার দুপুর থেকেই চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে লালদীঘি ময়দানে জড়ো হতে থাকেন। সন্ধ্যার আগেই মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায় বলে আয়োজকদের দাবি।

কক্সবাজার, তিন পার্বত্য জেলা, চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলা ও মহানগরের বিভিন্ন থানা এলাকা থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মী মিছিল নিয়ে সমাবেশে অংশ নেন। তাদের হাতে বিভিন্ন পোস্টার, প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার দেখা যায়, যেখানে জোটের ছয় দফা দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়।

সমাবেশকে ঘিরে লালদীঘি মাঠ ও আশপাশের এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ডগ স্কোয়াড নিয়ে তল্লাশি চালাতেও দেখা যায়।

এর আগে শনিবার সকাল সোয়া ৮টার পর রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বর থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে ১১ দলীয় জোটের লংমার্চ শুরু হয়।