...|...|...

বিশ্ব

মার্কিন সেনা হত্যা বা আটক করলে ৩০ হাজার ডলার পুরস্কার ঘোষণা ইরানের

টাইমস টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ আগস্ট ২০২৬, বিকেল ৫:৪৫ | আপডেট: ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ১০:৪০
Shares
মার্কিন সেনা হত্যা বা আটক করলে ৩০ হাজার ডলার পুরস্কার ঘোষণা ইরানের

ইরানের সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল আমির হাতামি। ছবি: সংগৃহীত

কোনো মার্কিন সেনাসদস্যকে হত্যা বা আটক করতে পারলে ৩০ হাজার মার্কিন ডলার পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরানের সেনাবাহিনী। কোনো নারী এই কাজ করতে পারলে পুরস্কারের পরিমাণ দ্বিগুণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে। রবিবার (১৬ আগস্ট) ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশটির সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল আমির হাতামি এই ঘোষণা দেন।

মেজর জেনারেল আমির হাতামি জানান, মার্কিন সেনাদের বন্দি করা বা কাবু করার জন্য সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে ‘বিপুলসংখ্যক অনুরোধ’ পাওয়ার পরই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগ্রাসী মার্কিন বাহিনীর কোনো সদস্যকে হত্যা বা আটক করে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করলেই এই অর্থ দেওয়া হবে।

একই সাথে পশ্চিম এশিয়া থেকে মার্কিন সেনাদের অবিলম্বে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে সেনাপ্রধান স্পষ্ট করেন যে, পারস্য উপসাগর, ওমান উপসাগর কিংবা হরমুজ প্রণালিতে ঢোকার কোনো অধিকার মার্কিন বাহিনীর নেই।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা চালালে সংঘাতের সূচনা হয়। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর এপ্রিলে একটি যুদ্ধবিরতি ও জুনে একটি শান্তি আলোচনার রূপরেখা তৈরি হলেও তা শেষ পর্যন্ত আলো দেখেনি। তবে চলমান এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ইরানের ভূখণ্ডে মার্কিন পদাতিক বাহিনীর সরাসরি কোনো স্থায়ী উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

এর আগে এপ্রিলে ভূপাতিত এক মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের অস্ত্র ব্যবস্থা কর্মকর্তাকে (ডব্লিউএসও) উদ্ধার করতে প্রায় ২০০ সেনা ও ১৭০টি বিমান নিয়ে ইরানে বিশেষ অভিযান চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। সেই উদ্ধার অভিযানের সময় ইরানি বাহিনীর হামলায় আমেরিকার একটি এ-১০ যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সি-১৩০ পরিবহন বিমানসহ বেশ কয়েকটি সামরিক উড়োজাহাজ পরিত্যক্ত ঘোষণা করে ধ্বংস করতে বাধ্য হয় মার্কিন বাহিনী।

সংঘাত শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত জর্ডান ও ইরাকসহ প্রতিবেশী দেশগুলোতে অন্তত ১৭ জন মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে সবশেষ ঘটনাটি ঘটে জুলাই মাসে। বর্তমানে দক্ষিণ ইরান ও হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে বিচ্ছিন্ন হামলা-পাল্টা হামলা অব্যাহত রয়েছে। মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে পরোক্ষ যোগাযোগ চললেও এখন পর্যন্ত বড় কোনো কূটনৈতিক অগ্রগতির লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।