ইবাদত শুধু করলেই হয় না, তা হেফাজত করাও জরুরি। অনেক সময় মানুষের কিছু অভ্যাস, অন্তরের কিছু রোগ ও আচরণ ভালো কাজের সওয়াব কমিয়ে দিতে পারে। ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে, লোক দেখানো মনোভাব, নিজের আমল নিয়ে অহংকার, উপকার করে খোঁটা দেওয়া, ছোট নেক আমলকে অবহেলা করা এবং গুনাহের পর ইবাদত ছেড়ে দেওয়া- এসব বিষয় ইবাদতের ক্ষতি করতে পারে।
লোক দেখানো ইবাদত
আল্লাহর সন্তুষ্টির বদলে মানুষের প্রশংসা পাওয়ার উদ্দেশ্যে কোনো আমল করা ইবাদতের অন্যতম বড় ক্ষতির কারণ। কেউ যদি মানুষের প্রশংসায় আনন্দিত হয় বা প্রশংসা না পেলে কষ্ট পায়, তাহলে নিজের নিয়ত যাচাই করা জরুরি।
বেশি ইবাদত করার কারণে নিজেকে অন্যদের চেয়ে উত্তম মনে করা ইসলামে পছন্দনীয় নয়। বরং নেক আমল মানুষের বিনয় ও নম্রতা বাড়ানোর কথা।
উপকার করে খোঁটা দেওয়া
দান-সদকা বা কোনো উপকার করার পর তা বারবার স্মরণ করিয়ে দেওয়া এবং কাউকে কষ্ট দেওয়া ভালো কাজের মর্যাদা নষ্ট করতে পারে।
ছোট ভালো কাজকে অবহেলা করা
হাসিমুখে কথা বলা, কাউকে সাহায্য করা, সামান্য দান করা বা ভালো পরামর্শ দেওয়ার মতো ছোট আমলকেও গুরুত্ব দেওয়া উচিত। দোয়া করার পর দ্রুত ফল না পেয়ে হতাশ হওয়া ঠিক নয়। ধৈর্য ধরে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা প্রয়োজন।
গুনাহের পর ইবাদত ছেড়ে দেওয়া
গুনাহ হয়ে গেলে অনেকে হতাশ হয়ে ইবাদত থেকে দূরে সরে যান। অথচ ইসলামের শিক্ষা হলো, তওবা করে আবার আল্লাহর পথে ফিরে আসা।
অন্যকে তুচ্ছ মনে করা
নিজের ইবাদতের কারণে অন্য মানুষকে ছোট করে দেখা অহংকারের প্রকাশ। একজন মুমিনের উচিত নিজের সংশোধনের দিকে বেশি মনোযোগ দেওয়া।
তাই নেক আমল করার পাশাপাশি নিয়ত ঠিক রাখা, বিনয়ী থাকা এবং আল্লাহর কাছে নিজের আমল কবুলের জন্য দোয়া করাও জরুরি।

