...|...|...

বিশ্ব

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনা ‘অর্থহীন’ বলছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৬ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ১:১৭ | আপডেট: ৬ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ১:৫৬
Shares
যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনা ‘অর্থহীন’ বলছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট

ছবি: সংগৃহীত

আলোচনার পরও ইরানের ওপর তিন দফা হামলার অভিযোগ তুলে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনা ‘অর্থহীন’ বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তাঁর দাবি, ওয়াশিংটন সমঝোতা চায় না; বরং ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের পতন ঘটানোই তাদের লক্ষ্য।

সংবাদমাধ্যম ডেইলি সাবাহ জানায়, সোমবার (৫ অক্টোবর) রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনার প্রতিবেদনে পেজেশকিয়ানকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, ‘আলোচনার পরেও তারা এ পর্যন্ত আমাদের ওপর তিনবার হামলা চালিয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে তারা আসলে আলোচনার পক্ষপাতী নয়; বরং তাদের লক্ষ্য হলো ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানকে উৎখাত করা।’

ইরানের প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘যে শত্রু প্রতিদিন গুপ্তহত্যা, নিষেধাজ্ঞা, চাপ ও হুমকির আশ্রয় নেয় এবং নিজেদের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে, তাদের সাথে আলোচনা করা অর্থহীন।’

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে আকস্মিক হামলা শুরু করলে মধ্যপ্রাচ্যে এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়। সে সময়ও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনা চলছিল।

জুনে সংঘাতের স্থায়ী সমাধানের রূপরেখাসংবলিত একটি সমঝোতা স্মারকে সম্মত হয় বিবদমান পক্ষগুলো। তবে হরমুজ প্রণালীতে ইরানি বাহিনীর জাহাজে হামলার জেরে আবার সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। এরপর আলোচনা কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে দুই দেশের সাম্প্রতিক পরোক্ষ আলোচনাও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি আনতে পারেনি।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে অবশ্য সামরিক অভিযানের বদলে অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর কৌশল নিয়েছে ওয়াশিংটন। গত ১ সেপ্টেম্বরের পর থেকে ইরানে নতুন কোনো হামলা চালায়নি যুক্তরাষ্ট্র।

এর মধ্যেই রবিবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেছেন, সামরিক শক্তি কিংবা নতুন নিষেধাজ্ঞা দিয়ে এই সংঘাতের সমাধান সম্ভব নয়। আবার হামলা হলে আরও শক্তিশালী প্রতিরোধের অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, ‘এর কোনো সামরিক সমাধান নেই, কিংবা নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমেও এর কোনো সমাধান মিলবে না।’

আরাঘচির মতে, কেবল ‘ন্যায়বিচার ও ন্যায্যতার ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত আলোচনা’ এই সংঘাতের অবসান ঘটাতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দাবি, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখতে এই যুদ্ধ প্রয়োজনীয়। তবে তেহরান দীর্ঘদিন ধরেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির লক্ষ্য থাকার কথা অস্বীকার করে আসছে। যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দেওয়ার পর আলোচনার মূল গুরুত্ব সরে যায় এই নৌপথ পুনরায় চালুর দিকে।

যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হরমুজ প্রণালীতে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে ইরান। তাদের অনুমতি ছাড়া চলাচলের চেষ্টাকারী জাহাজে হামলাও চালাচ্ছে দেশটি। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। অবরোধ লঙ্ঘনের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট জাহাজেও হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী।

ব্রিটিশ সামুদ্রিক সংস্থা ইউকেএমটিও জানিয়েছে, রোববার এই জলপথ অতিক্রমের সময় একটি ট্যাঙ্কার হামলার শিকার হয়। পরদিন সোমবার ইরানি বাহিনীর হামলার হুমকিতে আরেকটি ট্যাঙ্কার পিছু হটতে বাধ্য হয়।