...|...|...

বিশ্ব

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ২৩ অঙ্গরাজ্যে লড়েছেন ৫১ মুসলিম প্রার্থী

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ নভেম্বর ২০২৬, সকাল ১১:৪৫ | আপডেট: ৪ নভেম্বর ২০২৬, সকাল ১১:৪৬
Shares
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ২৩ অঙ্গরাজ্যে লড়েছেন ৫১ মুসলিম প্রার্থী

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে (মিডটার্ম ইলেকশন) দেশটির ২৩টি অঙ্গরাজ্যে অন্তত ৫১ জন মুসলিম প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। কংগ্রেস থেকে শুরু করে অঙ্গরাজ্য, কাউন্টি ও স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে লড়ছেন তারা। প্রার্থীদের অধিকাংশই ডেমোক্র্যাট দলের হলেও রয়েছেন রিপাবলিকান, স্বতন্ত্র ও গ্রিন পার্টির প্রার্থীও।

প্রেসিডেন্টের মেয়াদের মাঝামাঝি সময়ে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচন যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় সরকারের নেতৃত্ব নির্ধারণ করবে। প্রার্থীদের তালিকায় রয়েছেন বর্তমান জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে প্রথমবারের মতো নির্বাচনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরাও।

এমএনটিভির এক পর্যালোচনায় এ তথ্য উঠে এসেছে। সংস্থাটি দেশজুড়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের তালিকা পর্যালোচনা করে মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রচলিত নামগুলো শনাক্ত করেছে। পরে কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস (সিএআইআর) ও এমগেজ অ্যাকশনের ভোটার নির্দেশিকা, জনপ্রতিনিধিদের রেকর্ড এবং সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন যাচাই করে তাদের মুসলিম পরিচয় নিশ্চিত করেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৫১ জনের মধ্যে ১১ জন কংগ্রেসের বিভিন্ন আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাদের একজন মিশিগানের আব্দুল এল-সায়েদ। তিনি নির্বাচিত হলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সিনেটর হওয়ার ইতিহাস গড়বেন। প্রতিনিধি পরিষদের ১০ প্রার্থীর মধ্যে রয়েছেন বর্তমান কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমর, রাশিদা তালিব ও আন্দ্রে কারসন।

এ ছাড়া অঙ্গরাজ্য আইনসভার ৩৪টি আসন, কাউন্টি ও স্থানীয় পর্যায়ের চারটি পদ এবং বিচারক পদের একটি আসনে লড়ছেন মুসলিম প্রার্থীরা। টেক্সাসের কম্পট্রোলার পদে গ্রিন পার্টির হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন শেহলা ফয়জি।

দলীয় পরিচয় অনুযায়ী, প্রার্থীদের মধ্যে ৪০ জন ডেমোক্র্যাট, চারজন রিপাবলিকান, চারজন নির্দলীয়, দুজন স্বতন্ত্র এবং একজন গ্রিন পার্টির। ভৌগোলিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি মুসলিম প্রার্থী রয়েছেন মিনেসোটায় আটজন। এরপর মিশিগানে ছয়জন, টেক্সাসে চারজন এবং নিউইয়র্ক, জর্জিয়া, কানেকটিকাট ও ইলিনয়ে তিনজন করে প্রার্থী রয়েছেন।

এবারের নির্বাচনে কয়েকটি আসন ঘিরে রয়েছে বিশেষ ঐতিহাসিক সম্ভাবনা। আব্দুল এল-সায়েদ সিনেটর নির্বাচিত হলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সিনেটর হবেন। অন্যদিকে, নিউ জার্সিতে প্রথম মুসলিম কংগ্রেস সদস্য, নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের আইনসভায় প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান এবং টেক্সাস তথা যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলে প্রথম মুসলিম কাউন্টি এক্সিকিউটিভ নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় রাজনীতিতে মুসলিম-বিদ্বেষী বক্তব্যের মধ্যেই চলছে এসব প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচার। গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান এবং ফিলিস্তিন ইস্যুও অনেক মুসলিম প্রার্থীকে রাজনীতিতে সক্রিয় হতে ভূমিকা রেখেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এমএনটিভির হিসাবে, দেশজুড়ে আরও প্রায় ৫০ জন সম্ভাব্য মুসলিম প্রার্থীকে শনাক্ত করা হয়েছে। তবে তাদের ধর্মীয় পরিচয় স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব না হওয়ায় তালিকায় রাখা হয়নি। সংস্থাটির দাবি, ৫১ জনের এই সংখ্যা চূড়ান্ত নয়, বরং নিশ্চিত হওয়া প্রার্থীদের সর্বনিম্ন হিসাব। নামের ভিত্তিতে প্রার্থী শনাক্ত করার পদ্ধতির কারণে কৃষ্ণাঙ্গ আমেরিকান মুসলিম ও ইসলাম গ্রহণকারীদের অনেকেই তালিকার বাইরে থেকে যেতে পারেন। ফলে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।