প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মোংলা সফর ঘিরে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। মোংলা বন্দর, সুন্দরবন ও ঐতিহ্যবাহী হিরণ পয়েন্টের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পরিবেশগত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি বন্দরের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা পর্যালোচনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। বাগেরহাট, মোংলা, রামপাল ও খুলনাসহ বিভিন্ন এলাকার বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও এ সফর ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন আশার সঞ্চার।
প্রধানমন্ত্রীকে কাছ থেকে একনজর দেখতে বিভিন্ন এলাকা থেকে ছুটে আসেন দলীয় নেতাকর্মীরা। সফরকালে গাড়িবহর নিয়ে যাওয়ার পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গাড়ি থেকে নেমে সাধারণ মানুষ ও নেতাকর্মীদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এ সময় তিনি তাদের সাথে হাত মেলান এবং খোঁজখবর নেন। প্রিয় নেতাকে এত কাছ থেকে পেয়ে উপস্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে।
প্রধানমন্ত্রীর এ সফরকে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়নের নতুন সম্ভাবনা হিসেবে দেখছেন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা। তাদের প্রত্যাশা, মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আধুনিকায়ন, যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়ন, শিল্পায়ন, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে। একই সাথে সুন্দরবনের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে আশা তাদের।
মোংলা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান মানিক বলেন, আমাদের প্রিয় নেতার মোংলায় আগমন এবং বন্দরের উন্নয়ন পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের জন্য অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। আমরা আশা করি, মোংলা বন্দরকে আরও আধুনিক ও গতিশীল করার পাশাপাশি এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের উন্নয়ন প্রত্যাশা পূরণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
রামপাল উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. তুহিন বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে আমরা আশাবাদী। বিশেষ করে রামপাল-মোংলা অঞ্চলের অবকাঠামো, শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান ও যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হলে স্থানীয় মানুষের জীবনমানের ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটবে।
বাগেরহাটের স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নের দাবি জানিয়ে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মোল্লা আতিকুর রহমান রাসেল বলেন,বাগেরহাটে একটি মানসম্মত মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল নির্মাণ এখন সময়ের দাবি। উন্নত চিকিৎসাসেবার জন্য এ অঞ্চলের মানুষকে প্রায়ই অন্য জেলায় যেতে হয়। আমরা আশা করি, প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে বাগেরহাটবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে উদ্যোগ নেবেন।
বাগেরহাট জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নেয়ামুল কবির রাহুল বলেন,প্রধানমন্ত্রীর এ সফর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। মোংলা বন্দরকে ঘিরে শিল্পায়ন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি বাগেরহাটের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে তরুণ প্রজন্মের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং এ অঞ্চলের সামগ্রিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন,প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মোংলা সফর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের জন্য অত্যন্ত আনন্দের ও আশাব্যঞ্জক। মোংলা বন্দর দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এ বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিকায়ন, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে এ অঞ্চলের উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচন সম্ভব। পাশাপাশি সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। আমরা আশা করি, প্রধানমন্ত্রীর এ সফরের মধ্য দিয়ে মোংলা বন্দর, বাগেরহাটসহ পুরো দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়ন আরও গতিশীল হবে এবং স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের পথ সুগম হবে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, মোংলা বন্দরের বাণিজ্যিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা, শিল্পকারখানা গড়ে তোলা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি বাগেরহাটের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একই সাথে সুন্দরবনের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা ও পর্যটন সম্ভাবনাকে টেকসইভাবে কাজে লাগানোর বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে।
সব মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রীর মোংলা সফরকে ঘিরে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের মধ্যে উন্নয়ন ও সম্ভাবনা নিয়ে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। এখন স্থানীয়দের অপেক্ষা, এ সফরের মধ্য দিয়ে উঠে আসা সম্ভাবনা ও প্রত্যাশাগুলো বাস্তব উন্নয়ন কার্যক্রমে কতটা প্রতিফলিত হয়।


