ভারতে মুসলিম ব্যক্তিগত আইনে প্রচলিত ‘তালাক-ই-হাসান’ পদ্ধতিকে বৈধ বলে পর্যবেক্ষণ করেছেন গৌহাটি হাইকোর্ট। তবে বিবাহবিচ্ছেদ নিবন্ধনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আইন মেনে চলতে হবে বলে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার ৮ সেপ্টেম্বর বিচারপতি অরুণ দেব চৌধুরী এ আদেশ দেন।
তালাক-ই-হাসান হলো মুসলিম ব্যক্তিগত আইনে প্রচলিত একটি বিবাহবিচ্ছেদ পদ্ধতি। এতে স্বামী নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে তিনবার ‘তালাক’ উচ্চারণ করেন। প্রতিটি উচ্চারণের মধ্যবর্তী সময়ে স্বামী-স্ত্রীর পুনর্বিবেচনা ও পুনর্মিলনের সুযোগ থাকে। এটি তাৎক্ষণিক তিন তালাক বা তালাক-ই-বিদআত থেকে ভিন্ন। ২০১৭ সালে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট তাৎক্ষণিক তিন তালাককে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে।
গৌহাটি হাইকোর্টে করা আবেদনে আসামের ওই মুসলিম ব্যক্তি জানান, ২০১৬ সালে তার বিয়ে হয়। ২০১৮ সালে তার স্ত্রী বাড়ি ছেড়ে চলে যান। পরে একাধিকবার সমঝোতার চেষ্টা করেও সফল হননি তারা। এরপর ২০২৬ সালের ২২ মার্চ, ২৬ এপ্রিল ও ২৭ মে পৃথকভাবে তালাক উচ্চারণ করেন বলে আবেদনে উল্লেখ করেন তিনি।
আবেদনকারী আদালতে দাবি করেন, ভারতে তালাক-ই-হাসানের ওপর কোনো আইনগত নিষেধাজ্ঞা নেই এবং মুসলিম ব্যক্তিগত আইনে নির্ধারিত প্রক্রিয়াও তিনি সম্পন্ন করেছেন। তাই তার বিবাহবিচ্ছেদ নিবন্ধনের নির্দেশ দেওয়া উচিত।
তবে আসাম সরকার জানায়, এ ধরনের বিবাহবিচ্ছেদ নিবন্ধনের জন্য আগে যে আইন কার্যকর ছিল, সেটি বাতিল হয়ে গেছে। বিষয়টি বিবেচনা করে হাইকোর্ট বলেন, আবেদনকারী যে পদ্ধতিতে তালাক-ই-হাসান উচ্চারণ করেছেন, তা বৈধ তালাকের একটি রূপ এবং বর্তমানে এটি নিষিদ্ধ নয়।
তবে ১৯৩৫ সালের আইন বাতিল ও ওই আইনের অধীনে থাকা পদ বিলুপ্ত হওয়ায় আবেদনকারীকে ২০২৪ সালের আসাম বাধ্যতামূলক মুসলিম বিবাহ ও বিবাহবিচ্ছেদ নথিভুক্তকরণ আইনের আওতায় সংশ্লিষ্ট বিবাহ ও বিবাহবিচ্ছেদ নিবন্ধকের কাছে যাওয়ার নির্দেশ দেন আদালত।
এদিকে ওই ব্যক্তির স্ত্রী শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন না। তাকে নোটিশ পাঠানো হলেও তিনি অংশ নেননি। তবে আদালত স্পষ্ট করেছে, তার অনুপস্থিতির অর্থ আইনগত অধিকার শেষ হয়ে যাওয়া নয়। তিনি চাইলে তালাক-ই-হাসানের বৈধতা বা কার্যকারিতা উপযুক্ত আদালত বা আইনগত ফোরামে চ্যালেঞ্জ করতে পারবেন।
সূত্র: এনডিটিভি


