...|...|...

ধর্ম

মুমিনদের মধ্যে সবচেয়ে ভালো যে ৩ শ্রেণির মানুষ

টাইমস টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৬:৩১
Shares
মুমিনদের মধ্যে সবচেয়ে ভালো যে ৩ শ্রেণির মানুষ

মুমিনদের মধ্যে সবচেয়ে ভালো যে ৩ শ্রেণির মানুষ। ছবি: সংগৃহীত

ইসলামে একজন মানুষের মর্যাদা শুধু তার বাহ্যিক পরিচয় বা সম্পদের ওপর নির্ভর করে না; বরং ঈমান, তাকওয়া, উত্তম চরিত্র ও মানুষের সাথে তার আচরণই প্রকৃত মর্যাদার মানদণ্ড। কোরআন ও হাদিসে এমন কিছু মানুষের গুণের কথা বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে, যারা আল্লাহর কাছে অধিক মর্যাদার অধিকারী।

এর মধ্যে তিন শ্রেণির মানুষের গুণ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

১. যারা ঈমানের সাথে তাকওয়া অবলম্বন করেন

আল্লাহর কাছে মানুষের মর্যাদার অন্যতম প্রধান মাপকাঠি হলো তাকওয়া। অর্থাৎ আল্লাহকে ভয় করে তাঁর নির্দেশ মেনে চলা এবং নিষিদ্ধ কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখা।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে তোমাদের মধ্যে সে-ই অধিক মর্যাদাসম্পন্ন, যে তোমাদের মধ্যে অধিক তাকওয়াবান।’ (সুরা আল-হুজুরাত, আয়াত ১৩)

তাই একজন মুমিনের প্রকৃত শ্রেষ্ঠত্ব তার অর্থ-সম্পদ, বংশ বা সামাজিক অবস্থানে নয়; বরং আল্লাহভীতি ও সৎকর্মে।

২. যাদের চরিত্র সবচেয়ে সুন্দর

ইসলামে উত্তম চরিত্রের বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। মানুষের সাথে নম্রতা, সত্যবাদিতা, ক্ষমাশীলতা, আমানতদারি ও সুন্দর আচরণ একজন মুমিনের গুরুত্বপূর্ণ গুণ।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে উত্তম সে-ই, যার চরিত্র সবচেয়ে সুন্দর।’ (সহিহ বুখারি)

আরেক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) জানিয়েছেন, কিয়ামতের দিন মুমিনের আমলনামায় উত্তম চরিত্রের চেয়ে ভারী আর কোনো আমল হবে না। (সুনান আবু দাউদ, জামে তিরমিজি)

অর্থাৎ শুধু বেশি ইবাদত করাই নয়, মানুষের সাথে সুন্দর আচরণ করাও একজন মুমিনের শ্রেষ্ঠত্বের বড় পরিচয়।

৩. যারা মানুষের জন্য সবচেয়ে বেশি উপকারী

ইসলামে মানুষের কল্যাণে কাজ করারও ব্যাপক গুরুত্ব রয়েছে। অন্যের বিপদে পাশে দাঁড়ানো, অসহায়কে সাহায্য করা, ক্ষুধার্তকে খাবার দেওয়া এবং মানুষের প্রয়োজন পূরণে সহযোগিতা করা মুমিনের গুরুত্বপূর্ণ গুণ।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মানুষের মধ্যে আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় সে ব্যক্তি, যে মানুষের জন্য সবচেয়ে বেশি উপকারী।’ (আল-মুজামুল আওসাত, তাবরানি)

অন্যের কল্যাণে কাজ করার মাধ্যমে একজন মুমিন শুধু মানুষের উপকারই করেন না, বরং আল্লাহর সন্তুষ্টিও অর্জনের চেষ্টা করেন। তাই মানুষের পাশে দাঁড়ানো, তাদের কষ্ট লাঘব করা এবং কল্যাণে এগিয়ে আসা ইসলামে অত্যন্ত প্রশংসনীয়।

কোরআন-হাদিসের আলোকে মুমিনের শ্রেষ্ঠত্ব নির্ধারণে ঈমান, তাকওয়া, উত্তম চরিত্র ও মানুষের কল্যাণে ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই একজন প্রকৃত মুমিনের লক্ষ্য হওয়া উচিত শুধু নিজের ইবাদত বাড়ানো নয়; বরং চরিত্র সুন্দর করা, আল্লাহভীতি অর্জন করা এবং মানুষের উপকারে নিজেকে নিয়োজিত করা।

এসব গুণ যার মধ্যে যত বেশি থাকবে, ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী তার মর্যাদাও তত বেশি হওয়ার আশা করা যায়।