মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার পঞ্চসার ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ দয়ালবাজারের রাস্তাটি দীর্ঘ মাস ধরে বেহাল দশায় পড়ে রয়েছে। নির্মাণকাজের চরম ধীরগতি এবং রহস্যজনকভাবে কাজ বন্ধ রাখায় এই এলাকার কয়েক হাজার মানুষের জনদুর্ভোগ বহুলাংশে বেড়ে গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঠিকাদারের নানা টালবাহানা ও অজুহাতে দীর্ঘদিন ধরে থমকে আছে জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের উন্নয়নকাজ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সড়কটি এই ইউনিয়নের ৪, ৫ ও ৬ নম্বর—এই তিনটি ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সরকারপাড়ার মাদবর বাড়ির পাকা সেতুর পশ্চিম অংশ থেকে পূর্ব অংশের দয়ালবাজারের রিপন ভ্যারাইটিজ স্টোর পর্যন্ত সামান্য কিছু আরসিসি ঢালাইয়ের কাজ করেই তা বন্ধ করে দেয়।
এরপর দয়ালবাজারের মূল অংশ এবং ফিরিঙ্গিবাজার ও বিনোদপুরের প্রবেশমুখ পর্যন্ত আগের রাস্তার পুরো পিচ ও ইট তুলে ফেলা হয়। কিন্তু রাস্তা খুঁড়ে ফেলে রাখার পর তা আর সংস্কার করা হয়নি; বরং তোলার পর ফেলে রাখা ইটের টুকরো ও খোয়া রাস্তার ওপরই স্তূপ করে রাখায় সব ধরনের যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।
সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাতে খোঁড়াখুঁড়ি করা এসব অংশে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে কাদা-পানিতে একাকার হয়ে যাওয়া এই পথে এখন আর হেঁটেও চলাচল করা যাচ্ছে না। রাস্তাটির পরবর্তী অংশের নির্মাণকাজও বন্ধ রয়েছে। কবে নাগাদ এই দুর্ভোগের অবসান ঘটবে এবং রাস্তাটির কাজ শেষ হবে, তার কোনো সুনির্দিষ্ট উত্তর কারও জানা নেই। এতে স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা চরম বিপাকে পড়েছেন।
এলাকাবাসীর মতে, এই প্রাচীন সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন মিরকাদিম পৌরসভা, বিনোদপুর ও ফিরিঙ্গিবাজারে যাতায়াত করতে হয়। বিশেষ করে বিনোদপুর ও ফিরিঙ্গি বাজার জেলার একমাত্র চালের বড় আড়ত হওয়ায় অর্থনৈতিক ও ব্যবসায়িক দিক থেকে এই রাস্তার গুরুত্ব অপরিসীম। ব্যবসায়ীদের দাবি, পুরো কাজ একসঙ্গে শুরু না করে অন্তত দয়ালবাজারের মসজিদ পর্যন্ত আপাতত রাস্তাটির কাজ সম্পন্ন করা হলে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা কিছুটা স্বস্তি পেত। কিন্তু বর্তমানে সেখানে কোনো ধরনের কাজই হচ্ছে না।
এ বিষয়ে পঞ্চসার ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সালামত বলেন, ‘এই সড়কের দুই পাশে বাজারসহ অসংখ্য মিল-কারখানা রয়েছে। তাদের কাঁচামাল ও উৎপাদিত পণ্য আনা-নেওয়ার জন্য এই পথের কোনো বিকল্প নেই। এলাকার অর্থনৈতিক সচলতা বজায় রাখতে রাস্তাটি দ্রুত নির্মাণ করা অত্যন্ত জরুরি।’
দ্রুত এই জনদুর্ভোগের অবসান ঘটিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে রাস্তাটির নির্মাণকাজ পুনরায় চালুর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীরা।



