ভাঙারি ব্যবসায়ী লাল চাঁদ ওরফে সোহাগকে হত্যার মামলায় প্রধান আসামি মাহমুদুল হাসান মাহিনের জামিন কার্যত আটকে গেছে। হাইকোর্টের দেওয়া অন্তর্বর্তীকালীন জামিনের আদেশ রবিবার (৪ অক্টোবর) স্থগিত করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক।
এর আগে, গত ২৮ সেপ্টেম্বর বিচারপতি মো. রুহুল কুদ্দুস ও বিচারপতি সৈয়দ হাসান যুবাইরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ মাহিনকে ছয় মাসের জন্য জামিন মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে স্থায়ী জামিন কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করা হয়। আসামির পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান। বিষয়টি জনসমক্ষে আসে ১ অক্টোবর।
রাষ্ট্রপক্ষের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, মাহিনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ না থাকায় হাইকোর্ট এই সুবিধা দিয়েছিলেন, এমনটাই জানান ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দা সাজিয়া শারমিন। তবে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল আগেই জানিয়েছিলেন, এই আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করবে। সেই আবেদনের শুনানি শেষেই চেম্বার আদালত জামিন স্থগিত করলেন।
মামলার নথিতে বলা হয়েছে, গত বছরের ৯ জুলাই পুরান ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতাল-সংলগ্ন রজনী ঘোষ লেনে ৩৯ বছর বয়সী সোহাগের ওপর একদল লোক হামলা চালায়। প্রথমে ধারালো অস্ত্রের আঘাত, পরে ইট ও পাথর দিয়ে বারবার আঘাত করে তাকে মেরে ফেলা হয়। ঘটনাটি প্রকাশ্য রাস্তায় ঘটে। এর ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সারা দেশে ক্ষোভ ও আলোচনা তৈরি হয়।
হত্যাকাণ্ডের পরদিন সোহাগের বড় বোন মঞ্জুয়ারা বেগম কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। এতে ১৯ জনের নাম উল্লেখ ছিল, সঙ্গে অজ্ঞাতপরিচয় ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়। তদন্ত শেষে চলতি বছরের ১২ জুলাই ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত ২১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে মামলাটি বিচারের জন্য পাঠান।


