প্রতিপক্ষ দলের ফরোয়ার্ডের সাথে মাঠে সংঘর্ষের ঘটনায় তার মৃত্যু। সেই মর্মান্তিক ঘটনার শোক ও মানসিক আঘাত সামলে উঠতে না পেরে জাতীয় দল থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন ইকুয়েটোরিয়াল গিনির গোলকিপার হেসুস ওউয়োনো। ফলে চলতি মাসে আফ্রিকা কাপ অব নেশন্সের বাছাইপর্বের দুটি ম্যাচে খেলতে পারবেন না ২৫ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) এক বিবৃতিতে ওউয়োনোর জাতীয় দল থেকে সরে দাঁড়ানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ইকুয়েটোরিয়াল গিনির ফুটবল ফেডারেশন। আগামী ১২ নভেম্বর ঘরের মাঠে এবং ১৬ নভেম্বর জিম্বাবুয়ের হারারেতে স্বাগতিকদের বিপক্ষে ম্যাচ রয়েছে তাদের।
ঘটনার সূত্রপাত গত সোমবার স্পেনের দ্বিতীয় বিভাগের একটি ম্যাচে। আন্দোরা ও তেনেরিফের মধ্যকার খেলায় বল দখলের লড়াইয়ে তেনেরিফের ফরোয়ার্ড হেসুস দে মিগেলের সাথে সংঘর্ষ হয় গোলকিপার ওউয়োনোর। সংঘর্ষের পর গুরুতর আহত অবস্থায় দে মিগেলকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন থাকার পর মঙ্গলবার সকালে মারা যান তিনি।
এই ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন ওউয়োনো। বুধবার এক আবেগঘন বার্তায় নিজের কষ্টের কথা তুলে ধরেন তিনি।
ওউয়োনো বলেন, "আমার জীবনের সবচেয়ে কঠিন দিনগুলো পার করছি এখন। কী বলব কোনো ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না, যা ঘটে গেছে তা মানসিকভাবে মেনে নেওয়াও আমার পক্ষে অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। জানি অনেক প্রশ্ন উঠবে, সেগুলোর মুখোমুখিও আমি হব সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা বজায় রেখে।"
তিনি আরও বলেন, "তবে সত্যি বলতে, এই মুহূর্তে হেসুস আর এই অসহনীয় যন্ত্রণা ছাড়া আমি অন্য কিছু নিয়ে ভাবতে পারছি না। শান্তিতে ঘুমাও, হেসুস।"
মাঠের এই দুর্ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সমালোচনা ও হয়রানির মুখে পড়েছেন ওউয়োনো। তার ইনস্টাগ্রাম পোস্টে অনেকেই তাকে 'খুনি' বলে মন্তব্য করেন। এমন পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় করে দেন তিনি।
ওউয়োনোর পাশে দাঁড়িয়েছে ইকুয়েটোরিয়াল গিনি ফুটবল ফেডারেশন। এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, সতীর্থের মৃত্যুর ঘটনায় গোলকিপার বর্তমানে গভীর শোক ও তীব্র মানসিক আঘাতের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। এই কঠিন সময়ে তার প্রতি পূর্ণ সমর্থন ও সহমর্মিতা রয়েছে ফেডারেশনের।
২৫ বছর বয়সী ওউয়োনো কৈশোর থেকেই ইকুয়েটোরিয়াল গিনির জাতীয় দলের গোলপোস্ট সামলাচ্ছেন। সবশেষ তিনটি আফ্রিকা কাপ অব নেশন্সেও দলের প্রধান গোলরক্ষক ছিলেন তিনি। ২০২৭ সালের আসরের বাছাইপর্বের প্রথম দুটি ম্যাচেও খেলেছেন এই গোলকিপার। তবে সতীর্থের মৃত্যুর ঘটনায় সৃষ্ট মানসিক বিপর্যয়ের কারণে আপাতত জাতীয় দলের দায়িত্ব থেকে বিরতি নিচ্ছেন তিনি।



