...|...|...

শিক্ষা

মাত্র তিন মাসে আইইএলটিএস প্রস্তুতির সম্পূর্ণ গাইডলাইন

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২৬, বিকেল ৪:০০ | আপডেট: ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকেল ৫:৪৪
Shares
মাত্র তিন মাসে আইইএলটিএস প্রস্তুতির সম্পূর্ণ গাইডলাইন

ছবি: সংগৃহীত

আইইএলটিএস পরীক্ষার তারিখ চূড়ান্ত হয়ে গেলে প্রথম যে প্রশ্নটা মাথায় আসে তা হলো- এখন কী করব? শুরু থেকেই একের পর এক মক টেস্ট দেব, নাকি আগে ইংরেজির দুর্বল জায়গাগুলো নিয়ে কাজ করব? চারটি অংশে কি সমান সময় দেব, নাকি যেখানে সমস্যা বেশি, সেখানে বেশি মনোযোগ দেব?

তিন মাসের প্রস্তুতির সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, পুরো সময়টাকে কয়েকটি স্পষ্ট ধাপে ভাগ করে এগোনো যায়। তবে মনে রাখা জরুরি, তিন মাস সবার জন্য যথেষ্ট নয়- আপনার ইংরেজির বর্তমান দক্ষতা ও কাঙ্ক্ষিত ব্যান্ড স্কোরের ওপর প্রস্তুতির প্রকৃত সময় অনেকটাই নির্ভর করবে।

তাই ১২ সপ্তাহে কত ঘণ্টা পড়বেন, শুধু সেই হিসাব না করে কখন কী নিয়ে কাজ করবেন, সেই পরিকল্পনাটাই আগে ঠিক করে নেওয়া দরকার।

শুরুতেই নিজের অবস্থান বুঝুন

প্রথম সপ্তাহেই একটি পূর্ণাঙ্গ মক টেস্ট দিয়ে দেখুন বর্তমানে আপনি কোথায় আছেন। সম্ভব হলে পরীক্ষার মতো সময় ধরে লিসেনিং, রিডিং ও রাইটিং অংশগুলো সম্পন্ন করুন। স্পিকিংয়ের জন্য নিজের উত্তর রেকর্ড করেও শুনে দেখতে পারেন।

শুধু স্কোর দেখলেই হবে না-কোন ধরনের প্রশ্নে বেশি ভুল হচ্ছে, সেটিও খেয়াল করুন:

  • রিডিং শেষ করতে সময় বেশি লাগছে?
  • লিসেনিংয়ে বানান ভুল হচ্ছে?
  • রাইটিংয়ে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে লেখা শেষ করতে পারছেন না?
  • স্পিকিংয়ে উত্তর জানা থাকলেও বলতে গিয়ে আটকে যাচ্ছেন?

এই সমস্যাগুলো চিহ্নিত করেই পরবর্তী তিন মাসের পরিকল্পনা সাজাতে হবে।

প্রথম মাস: ভিত্তি ও পরীক্ষার ধরন বুঝুন

প্রথম মাসের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত আইইএলটিএসের চারটি অংশের সাথে ভালোভাবে পরিচিত হওয়া- লিসেনিং, রিডিং, রাইটিং ও স্পিকিংয়ে কী ধরনের প্রশ্ন আসে এবং প্রতিটি অংশে কতটা সময় পাওয়া যায়, তা জেনে নেওয়া।

রিডিং: বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন আলাদাভাবে অনুশীলন করুন। শুরুতেই দ্রুত শেষ করার চাপ না নিয়ে কেন উত্তর ভুল হচ্ছে, সেটি বোঝার চেষ্টা করুন।

লিসেনিং: শুধু মক টেস্টের অডিও না শুনে নিয়মিত ইংরেজি শোনার অভ্যাস তৈরি করুন- সংবাদ, সাক্ষাৎকার, পডকাস্ট বা নিজের আগ্রহের যেকোনো বিষয়। কোনো অংশ বুঝতে সমস্যা হলে আবার শুনুন এবং নতুন শব্দ বা উচ্চারণ খেয়াল করুন।

রাইটিং: প্রশ্ন বুঝে উত্তর দেওয়ার দিকে গুরুত্ব দিন। ভূমিকা, মূল অংশ ও উপসংহার কীভাবে সাজাবেন, তার চর্চা করুন। কঠিন শব্দ ব্যবহারের চেয়ে বক্তব্য পরিষ্কারভাবে প্রকাশের অভ্যাস গড়ে তুলুন।

স্পিকিং: প্রতিদিন কিছুটা সময় ইংরেজিতে কথা বলুন, একা হলেও সমস্যা নেই। পরিচিত কোনো বিষয় নিয়ে এক-দুই মিনিট কথা বলে নিজের ফোনে রেকর্ড করে দেখতে পারেন।

দ্বিতীয় মাস: দুর্বল জায়গায় বেশি সময় দিন

এক মাস অনুশীলনের পর নিজের দুর্বল জায়গাগুলো আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠার কথা। তাই দ্বিতীয় মাসে চারটি অংশে সমান সময় দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

ধরুন, রিডিং ও লিসেনিংয়ে ভালো করছেন, কিন্তু রাইটিংয়ে কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে যেতে পারছেন না- তাহলে রাইটিংয়ে তুলনামূলক বেশি সময় দিন। আবার স্পিকিংয়ে বারবার থেমে গেলে নিয়মিত কথা বলার চর্চা বাড়াতে হবে।

এই সময় একটি ‘ভুলের খাতা’ রাখতে পারেন। রিডিংয়ে কোন ধরনের প্রশ্নে ভুল হচ্ছে, লিসেনিংয়ে কোন শব্দ শুনতে সমস্যা হচ্ছে, রাইটিংয়ে কী ধরনের ভুল বারবার হচ্ছে- সব লিখে রাখুন।

সপ্তাহ শেষে সেই তালিকা দেখলে নিজের দুর্বলতার ধরন বোঝা সহজ হবে। এই মাস থেকেই সময় ধরে অনুশীলনের পরিমাণও বাড়ান, কারণ উত্তর জানা আর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উত্তর দিতে পারা- এই দুটি সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়।

তৃতীয় মাস: পরীক্ষার পরিবেশে অনুশীলন করুন

শেষ মাসে নতুন কৌশল শেখার চেয়ে এতদিনের প্রস্তুতিকে পরীক্ষার উপযোগী করে তোলার দিকে মনোযোগ দিন। নির্দিষ্ট সময় ধরে পূর্ণাঙ্গ মক টেস্ট দিন। পরীক্ষা কম্পিউটারভিত্তিক হলে কম্পিউটারে টাইপ করেই রাইটিং অনুশীলন করুন।

প্রতিটি মক টেস্টের পর শুধু ব্যান্ড স্কোর নিয়ে না ভেবে ভুল বিশ্লেষণ করুন:

  • আগের ভুলগুলো কি এখনও হচ্ছে?
  • সময়ের অভাবে কোনো অংশ বাদ যাচ্ছে?
  • তাড়াহুড়ার কারণে সহজ প্রশ্নে ভুল হচ্ছে?

স্পিকিংয়ের ক্ষেত্রেও মুখস্থ উত্তরের বদলে স্বাভাবিকভাবে কথা বলার চেষ্টা করুন। সম্ভব হলে বন্ধু, শিক্ষক বা অন্য কারও সাথে পরীক্ষার মতো করে অনুশীলন করুন।

প্রতিদিন কত ঘণ্টা পড়বেন?

তিন মাসের প্রস্তুতিতে প্রতিদিন ঠিক কত ঘণ্টা পড়তেই হবে, এমন কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম নেই। কারও জন্য প্রতিদিন এক-দুই ঘণ্টা মনোযোগী অনুশীলন কার্যকর, আবার কারও আরও বেশি সময় প্রয়োজন হতে পারে।

সময়ের হিসাবের চেয়ে বরং সপ্তাহের জন্য ছোট ছোট লক্ষ্য ঠিক করুন- যেমন, নির্দিষ্ট কয়েকটি রিডিং অনুশীলন শেষ করা, দুটি রাইটিং লেখা কিংবা কয়েক দিন স্পিকিং রেকর্ড করা।

এতে ‘আজ দুই ঘণ্টা পড়েছি’ বলার বদলে আসলে কী কাজ হলো, সেটি বোঝা যায়। এক দিন পাঁচ ঘণ্টা পড়ে পরের চার দিন কিছু না করার চেয়ে নিয়মিত ছোট চর্চা অনেক বেশি কার্যকর।

শুধু মক টেস্টেই আটকে থাকবেন না

প্রতিদিন পূর্ণাঙ্গ মক টেস্ট দিলেই দ্রুত উন্নতি হবে- বিষয়টা এমন নয়। মক টেস্ট মূলত আপনি কোথায় দাঁড়িয়ে আছেন এবং কোথায় সমস্যা হচ্ছে, সেটি বুঝতে সাহায্য করে।

কোনো রিডিংয়ে দশটি ভুল হলে সাথে সাথে আরেকটি রিডিং শুরু না করে আগের ভুলগুলো ভালোভাবে দেখুন। রাইটিং লিখে শুধু রেখে দিলেও হবে না- সম্ভব হলে কারও কাছ থেকে ফিডব্যাক নিন, অথবা নির্ভরযোগ্য মূল্যায়নের মানদণ্ড দেখে নিজের লেখা যাচাই করুন। ভুল ধরার পর সেটি ঠিক করার কাজটাই আসলে প্রস্তুতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

শেষ সপ্তাহে নতুন চাপ নয়

পরীক্ষার আগের সপ্তাহে হঠাৎ পড়ার সময় দ্বিগুণ করার দরকার নেই। বরং যেসব ভুল নিয়মিত হচ্ছিল, সেগুলো আরেকবার ঝালাই করে নিন। পরীক্ষার নিয়ম, সময় এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে নিন।

পরীক্ষার আগের রাতে নতুন শব্দের দীর্ঘ তালিকা মুখস্থ করা বা রাত জেগে মক টেস্ট দেওয়ার চেয়ে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া অনেক বেশি কাজে দেবে।

সংক্ষেপে ১২ সপ্তাহের পরিকল্পনা

  • ১ম সপ্তাহ - পূর্ণাঙ্গ মক টেস্ট দিয়ে নিজের অবস্থান যাচাই।
  • ১ম মাস (২য়-৪র্থ সপ্তাহ) - পরীক্ষার ধরন বোঝা, চারটি অংশের ভিত্তি তৈরি। 
  • ২য় মাস (৫ম-৮ম সপ্তাহ) - দুর্বল জায়গায় বেশি সময় দেওয়া, ভুলের খাতা রাখা। 
  • ৩য় মাস (৯ম-১১তম সপ্তাহ) - সময় ধরে পূর্ণাঙ্গ মক টেস্ট, ভুল বিশ্লেষণ। 
  • শেষ সপ্তাহ - নতুন পড়াশোনা নয়, পুরোনো ভুল ঝালাই ও বিশ্রাম। 

শেষ কথা

তিন মাসে আইইএলটিএসের প্রস্তুতির মূল বিষয় হলো, পরিকল্পনাটি নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী সাজানো। প্রথম মাসে পরীক্ষাকে বুঝুন, দ্বিতীয় মাসে দুর্বল জায়গাগুলো নিয়ে কাজ করুন, আর তৃতীয় মাসে সময় ধরে পরীক্ষার মতো পরিবেশে অনুশীলন করুন।

অন্য কেউ কত দিনে কত ব্যান্ড স্কোর পেয়েছেন, সেই হিসাবের সঙ্গে নিজের প্রস্তুতি মেলানোর প্রয়োজন নেই। তিন মাস শেষে লক্ষ্য হওয়া উচিত শুধু বেশি অনুশীলন করা নয়, বরং আগের চেয়ে কম ভুল করা এবং পরীক্ষার প্রতিটি অংশ আত্মবিশ্বাসের সাথে সামলাতে পারা।