...|...|...

সারাদেশ

মসজিদ কমিটি নিয়ে বিরোধের জেরে হামলা, বিএনপি নেতা নিহত

শেরপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৬ নভেম্বর ২০২৬, রাত ১০:৩৯
Shares
মসজিদ কমিটি নিয়ে বিরোধের জেরে হামলা, বিএনপি নেতা নিহত

নিহত বিএনপি নেতা। ছবি: সংগৃহীত

শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলায় একটি মসজিদের পরিচালনা কমিটি নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘর্ষে আবু সালেহ আহমেদ (৬০) নামে স্থানীয় বিএনপির এক নেতা নিহত হয়েছেন। 

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) জুমার নামাজের আগে উপজেলার নলকুড়া ইউনিয়নের ভারুয়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আবু সালেহ আহমেদ ভারুয়া গ্রামের বাসিন্দা। তিনি নলকুড়া ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য এবং ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও দলীয় নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় তিন সপ্তাহ আগে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হন সালেহ আহমেদ। এ নিয়ে একটি পক্ষের আপত্তি ছিল। শুক্রবার জুমার নামাজ শুরুর আগে বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় সালেহ আহমেদ মাথায় আঘাত পান এবং মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

পরে উপস্থিত মুসল্লিরা তাকে উদ্ধার করে ঝিনাইগাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নলকুড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আজহারুল ইসলাম সুজা দাবি করেন, নামাজের আগে আলোচনা না করে নামাজ শেষে বিষয়টি মীমাংসার আহ্বান জানিয়েছিলেন সালেহ আহমেদ। কিন্তু পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তার ওপর হামলা চালানো হয়। তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

নিহতের ছোট ভাই জয়নাল অভিযোগ করেন, পরিকল্পিত হামলার কারণেই তার ভাই নিহত হন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।

নলকুড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও ইউনিয়ন চেয়ারম্যান জামান বলেন, খুতবার আগে কথা বলা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করা হলেও একপর্যায়ে হাতাহাতি শুরু হয়। এতে সালেহ আহমেদ আহত হন এবং পরে তিনি নিহত হন।

ঝিনাইগাতী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক শাহজাহান আকন্দ বলেন, নিহত ব্যক্তি দলের সদস্য ছিলেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখে দলীয়ভাবে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ঝিনাইগাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম নুর মোহাম্মদ বলেন, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে এবং অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।