...|...|...

ধর্ম

মসজিদের পাশে কবর দিলে কি আজাব কম হয়

টাইমস টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২৬, সকাল ৯:৫২ | আপডেট: ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ১:৪৮
Shares
মসজিদের পাশে কবর দিলে কি আজাব কম হয়

মৃত স্বজনকে মসজিদের পাশে দাফনের ফজিলত কী। ছবি: সংগৃহীত

মৃত স্বজনকে মসজিদের পাশে দাফন করার আগ্রহ অনেক মানুষের মধ্যেই দেখা যায়। অনেকের ধারণা, মসজিদের আজান, নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত ও জিকিরের কারণে সেখানে সমাহিত ব্যক্তি বিশেষ কোনো ফজিলত লাভ করেন। তবে ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে এ ধারণার কোনো ভিত্তি নেই বলে জানিয়েছেন আলেমরা।

তাদের মতে, মসজিদের পাশে বা মসজিদের আঙিনায় কবর থাকলেই মৃত ব্যক্তির কবরের আজাব কমে যাবে কিংবা তিনি বেশি সওয়াব পাবেন—এমন কোনো বক্তব্য কোরআন বা সহিহ হাদিসে পাওয়া যায় না।

ইসলামি বিধান অনুযায়ী, মৃত ব্যক্তির উপকারের অন্যতম মাধ্যম হলো তার রেখে যাওয়া নেক আমল। বিশেষ করে সদকায়ে জারিয়া, উপকারী জ্ঞান এবং নেক সন্তানদের দোয়া মৃত্যুর পরও তার আমলের পাল্লায় যোগ হতে থাকে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, মানুষ মৃত্যুবরণ করলে তার আমল বন্ধ হয়ে যায়, তবে তিনটি আমল অব্যাহত থাকে—সদকায়ে জারিয়া, এমন জ্ঞান যা থেকে মানুষ উপকৃত হয় এবং নেক সন্তান যে তার জন্য দোয়া করে। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৬৩১)

আলেমদের মতে, মসজিদের আশপাশে বড় পরিসরে কবরস্থান থাকা ভিন্ন বিষয়। এতে মুসল্লিরা কবর জিয়ারত ও মৃতদের জন্য দোয়া করার সুযোগ পান। কিন্তু শুধু বিশেষ মর্যাদা পাওয়ার আশায় মসজিদের পাশে আলাদা করে একটি বা কয়েকটি কবর তৈরি করা ইসলামি দৃষ্টিতে উৎসাহিত নয়।

আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, মসজিদের পাশে বা আঙিনায় কবর দিলে বিশেষ সওয়াব পাওয়া বা কবরের আজাব কমে যাওয়ার কোনো প্রমাণ নেই। সাধারণ কবরস্থানেই দাফন করা সুন্নাহসম্মত।

তিনি আরও বলেন, অহংকার বা আলাদা মর্যাদা দেখানোর উদ্দেশ্যে পারিবারিক কবরস্থান তৈরি করা উচিত নয়। তবে অহংকারের উদ্দেশ্য না থাকলে পারিবারিক কবরস্থান করার ক্ষেত্রে সমস্যা নেই।

ইসলামি স্কলারদের মতে, কবরের মর্যাদা নির্ধারণ করে স্থান নয়, বরং মৃত ব্যক্তির আমল। তাই মসজিদের পাশে দাফন নয়, বরং জীবদ্দশায় নেক কাজ ও মৃত্যুর পর তার জন্য দোয়া করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

এ ছাড়া রাসুলুল্লাহ (সা.) কবরকে ইবাদতের স্থানে পরিণত করার বিষয়ে সতর্ক করেছেন। তাই মসজিদ ও কবরের বিষয়টি শরিয়তের নির্দেশনা অনুযায়ী আলাদা রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন আলেমরা।