ভোলা থেকে সরাসরি মূল ভূখণ্ডে গ্যাস আনতে পাইপলাইন নির্মাণে অন্তত সাত বছর সময় লাগবে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাই মূল ভূখণ্ডে গ্যাস নেওয়ার দীর্ঘ অপেক্ষায় না থেকে ভোলাতেই শিল্প-কারখানা, সার কারখানা ও নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।
আজ বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত সংসদ সদস্য সুলতানা আহমেদের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাইপলাইন নির্মাণে দীর্ঘ সময় লাগবে বলেই বিকল্প ও দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপে জোর দেওয়া হচ্ছে। ভোলায় যাতে বিপুলসংখ্যক শিল্প-কারখানা গড়ে ওঠে, সে লক্ষ্যে কাজ শুরু হয়েছে। গ্যাসভিত্তিক এসব কারখানা বাস্তবায়িত হলে ভোলায় ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী হবে।
ভোলায় একটি বড় সার কারখানা ও ৫০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র গড়ে তোলার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ভোলার গ্যাস সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হবে।
ভোলা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নূরুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকারের ২০২৬ সালের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে আগামী পাঁচ বছরের (জুলাই ২০২৬-জুন ২০৩১) জন্য বিশেষ কৌশলগত উন্নয়ন কাঠামো প্রণয়ন করা হয়েছে। এই মাস্টারপ্ল্যানে ভোলার প্রাকৃতিক সম্পদ, জলবায়ু ঝুঁকি ও আঞ্চলিক চাহিদাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
গ্যাসের কার্যকর ব্যবহারের বিষয়ে সংসদে জানানো হয়, ভোলায় একটি নতুন ৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভেদুরিয়া ও ইলিশা গ্যাসক্ষেত্র থেকে প্রতিদিন ৬০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস এলএনজিতে রূপান্তর করে লাইটারেজের মাধ্যমে খুলনার বিদ্যুৎ হাবে সরবরাহের উদ্যোগ চলছে।
সমুদ্রসম্পদ ব্যবহারের পরিকল্পনা তুলে ধরে সরকারপ্রধান বলেন, নতুন কাঠামোর অধীনে ভোলা ও আশপাশের দ্বীপগুলোকে ‘ব্লু ইকোনমির সেন্ট্রাল জোনের’ প্রধান কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এর আওতায় ইলিশ ও মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ, সমন্বিত কৃষি বিকাশ এবং উপকূলীয় টেকসই অবকাঠামো নির্মাণে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ভোলার অর্থনীতিতে নতুন বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।


