...|...|...

সারাদেশ

ভোর থেকে অসুস্থ শিশু

হাসপাতালে গিয়েও মিলল না চিকিৎসক, অতঃপর মৃত্যু

খুলনা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৬, রাত ৯:৪২ | আপডেট: ২২ অক্টোবর ২০২৬, রাত ৯:৪৭
Shares
হাসপাতালে গিয়েও মিলল না চিকিৎসক, অতঃপর মৃত্যু

খুলনার কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ছবি: টাইমস টুডে

খুলনার কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে চিকিৎসক না পাওয়ায় দেড় মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে অসুস্থ অবস্থায় মুয়াজ আব্দুল্লাহ নামের শিশুটিকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

পরিবারের দাবি, চিকিৎসকের অপেক্ষায় থাকার মধ্যেই শিশুটির মৃত্যু হয়। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, শিশুটিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল। চিকিৎসক ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীর মধ্যে যোগাযোগের ঘাটতির কারণে শিশুটিকে যথাসময়ে চিকিৎসকের কাছে নেওয়া যায়নি।

শিশুটির মামা রাকিব হাসান জানান, বৃহস্পতিবার ভোর থেকে মুয়াজ কান্নাকাটি করছিল। পরে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তাকে কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে জরুরি বিভাগে কোনো চিকিৎসককে পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

রাকিব হাসান আরও জানান, জরুরি বিভাগে দায়িত্বে থাকা কর্মীরা বাইরের ওষুধের দোকান থেকে দুটি ওষুধ আনতে বলেন। ওষুধ আনার পর শিশুটিকে নেবুলাইজেশন দেওয়া হয়। এরপর চিকিৎসক এসে দেখবেন বলে জানানো হয়। চিকিৎসকের অপেক্ষায় সকাল ৯টা পর্যন্ত হাসপাতালে অবস্থান করলেও কোনো চিকিৎসক শিশুটিকে দেখতে আসেননি বলে অভিযোগ পরিবারের। একপর্যায়ে শিশুটির মৃত্যু হয়।

পরিবারের অভিযোগ, সময়মতো চিকিৎসক পাওয়া গেলে শিশুটিকে বাঁচানো সম্ভব হতো কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে মুঠোফোনে জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম হোয়াটসঅ্যাপে বার্তার মাধ্যমে জানান, শিশুটি জ্বর ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে এসেছিল। তার অবস্থা ভালো ছিল না। জরুরি বিভাগে দায়িত্ব পালনকারী মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট মামুন শিশুটিকে নেবুলাইজেশন দেন।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই দিন চিকিৎসক ইমরান দায়িত্বে ছিলেন। তিনি আগের রাতের দায়িত্ব শেষ করে সকাল ৮টার দিকে চিকিৎসকদের কক্ষে যান এবং সাড়ে ৮টার দিকে বহির্বিভাগে যান। দুর্গাপূজার সরকারি ছুটির কারণে হিন্দু ধর্মাবলম্বী চিকিৎসকের সংখ্যা কম থাকায় তাকে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছিল বলে জানান উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।

ডা. রেজাউল করিমের ভাষ্য, নেবুলাইজেশন দেওয়ার পর শিশুটিকে চিকিৎসক ইমরানের কাছে বহির্বিভাগে নিয়ে যেতে বলা হয়। তবে চিকিৎসক কোন কক্ষে আছেন, তা পরিবারের সদস্যরা বুঝতে পারেননি। অন্যদিকে, চিকিৎসকও শিশুটির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে অবগত হননি। এভাবে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ মিনিট পার হওয়ার পর শিশুটির মৃত্যু হয়। পরে তাকে জরুরি বিভাগে ফিরিয়ে আনা হলে চিকিৎসক তমালিকা পরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেন বলে জানান তিনি।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আরও জানান, দায়িত্বপ্রাপ্ত মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্টের উচিত ছিল চিকিৎসক ইমরান বা চিকিৎসক তমালিকার সাথে ফোনে যোগাযোগ করে শিশুটির অবস্থা জানানো। তা করা হলে চিকিৎসক শিশুটিকে দেখতে পারতেন বলে তার মত। এ ঘটনাকে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মী ও চিকিৎসকের মধ্যে যোগাযোগের ঘাটতি হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

সর্বশেষ ডা. রেজাউল করিম জানান, ঘটনাটি তদন্তের জন্য ছুটির পর সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগপত্র পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে খুলনার সিভিল সার্জন ডা. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা ছিল না। এ ব্যাপারে অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

শিশুটির মৃত্যুর ঘটনায় জরুরি বিভাগে চিকিৎসকের উপস্থিতি, রোগীকে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে পৌঁছানোর ব্যবস্থা এবং হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে চিকিৎসায় কোনো অবহেলা হয়েছিল কি না এবং সময়মতো চিকিৎসা পেলে শিশুটিকে বাঁচানো সম্ভব হতো কি না, তা নিশ্চিত হতে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।