...|...|...

বরিশাল

বয়স জালিয়াতি করে গ্রাম পুলিশের চাকরি, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে তদন্ত দাবি

বরগুনা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৭ আগস্ট ২০২৬, সন্ধ্যা ৭:৩৫ | আপডেট: ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ২:৪৮
Shares
বয়স জালিয়াতি করে গ্রাম পুলিশের চাকরি, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে তদন্ত দাবি

বয়স জালিয়াতি করে গ্রাম পুলিশের চাকরি করার অভিযোগ মো. জাফরের বিরুদ্ধে। ছবি: টাইমস টুডে

বরগুনার তালতলীতে বয়স জালিয়াতি করে এক যুগ ধরে গ্রাম পুলিশের চাকরি করার অভিযোগ উঠেছে মো. জাফর নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় একাধিকবার সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত নেওয়া হয়নি কোনো আইনগত ব্যবস্থা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার কড়ইবাড়িয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের (হেলেঞ্চাবাড়িয়া গ্রাম) গ্রাম পুলিশ হিসেবে কর্মরত রয়েছেন মো. জাফর। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী, গ্রাম পুলিশ পদে নিয়োগের বয়সসীমা ২০ থেকে ৩০ বছর। তবে ২০১৪ সালে নিয়োগের সময় তার বয়স ছিল ৩৫ বছর ১১ মাস ৭ দিন। অর্থাৎ নির্ধারিত বয়সসীমা পার হওয়ার প্রায় ছয় বছর পর তিনি জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে সরকারি নীতিমালা অমান্য করে চাকরিতে যোগ দেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০০৮ সালে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হন মো. জাফর। সে সময় তার অফিসিয়াল নথিতে জন্মতারিখ ছিল ২৭ মে ১৯৭৮ এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা ছিল পঞ্চম শ্রেণি। তবে চাকরিতে যোগদানের দুই বছর পর ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৬ সালে চাকরির বয়স বৈধ করার উদ্দেশ্যে তিনি এনআইডিতে নাম ও শিক্ষাগত যোগ্যতা অপরিবর্তিত রেখে জন্মতারিখ পরিবর্তনের আবেদন করেন। পরে সংশোধন করে জন্মতারিখ ৪ মে ১৯৮৪ করা হয়।

অথচ তার ছোট ভাই মো. মাইনুদ্দিনের এনআইডিতে জন্মতারিখ ১ মার্চ ১৯৮২ সাল অপরিবর্তিত রয়েছে এবং এখন পর্যন্ত তিনি এনআইডির তথ্য সংশোধনের জন্য কোনো আবেদন করেননি।

অভিযোগ রয়েছে, সরকারি বিধিমালা অমান্য করে জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগ নেওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হলেও অদৃশ্য ক্ষমতার কারণে তিনি এখনও গ্রাম পুলিশ পদে বহাল রয়েছেন। এ ঘটনায় বঞ্চিত চাকরিপ্রার্থী নোমান হোসেন একাধিকবার উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিলেও অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কোনো আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

বঞ্চিত চাকরিপ্রার্থী নোমান হোসেন বলেন, জাফর ভাই বয়সের তথ্য গোপন ও এনআইডি জালিয়াতি করে অবৈধভাবে চাকরিটি হাতিয়ে নিয়েছেন। যোগ্য ও সঠিক বয়সের প্রার্থী হওয়া সত্ত্বেও আমি চাকরি থেকে বঞ্চিত হয়েছি। আমি একাধিকবার প্রশাসনকে লিখিতভাবে জানিয়েও কোনো বিচার পাইনি। অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে তার জালিয়াতি চিহ্নিত করে চাকরিচ্যুত করা এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মো. জাফর বলেন, আমি চাকুরী করতেছি, বেতন-ভাতা সবকিছুই ঠিকমতো তুলতেছি। আমাদের পরিবারের সকলের বয়স পরিবর্তন করে কাগজপত্র জমা দেওয়া আছে। এছাড়া আমার কিছু বলার নেই।

এ বিষয়ে তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অতীশ সরকার বলেন, বিষয়টি আপনার মাধ্যমে অবগত হলাম। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে খুব শিগগিরই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।