বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার ব্যালন ডি’অর জয় একজন ফুটবলারের ক্যারিয়ারে বিশেষ অর্জন। সোনালি ট্রফি হাতে নেওয়ার পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে পরিচিতি ও তারকাখ্যাতি বাড়ে বিজয়ীর। তবে এই পুরস্কার জিতলেই আয়োজকদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ পাওয়া যায় না। বরং ব্যালন ডি’অর জয় ক্লাবের বোনাস, পৃষ্ঠপোষকতা ও বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে একজন ফুটবলারের আয়ের সুযোগ বাড়িয়ে দিতে পারে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতে লন্ডনের প্যালাডিয়াম থিয়েটারে ব্যালন ডি’অর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। পুরস্কারটি ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহের পাশাপাশি বিজয়ী কত অর্থ পান এবং সোনালি ট্রফিটির মূল্য কত, তা নিয়েও কৌতূহল রয়েছে।
১৯৫৬ সালে ফরাসি সাময়িকী ‘ফ্রান্স ফুটবল’ ব্যালন ডি’অর পুরস্কার চালু করে। প্রথম দিকে ইউরোপের সেরা ফুটবলারকে এই সম্মান দেওয়া হতো। পরবর্তী সময়ে পুরস্কারটির পরিধি বাড়ানো হয়। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ফুটবলাররা এই স্বীকৃতির জন্য বিবেচিত হন। পুরুষদের পাশাপাশি নারী ফুটবলারদের জন্যও রয়েছে ব্যালন ডি’অর ।
তবে ব্যালন ডি’অর জিতলে আয়োজক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে নির্ধারিত অঙ্কের নগদ অর্থ পাওয়ার নিয়ম নেই। ফ্রান্স ফুটবল বিজয়ীদের হাতে ট্রফি তুলে দিলেও এর সাথে অর্থ পুরস্কার দেয় না। ফলে পুরস্কার জয়ের জন্য সরাসরি আয়োজকদের কাছ থেকে অর্থ পাওয়ার সুযোগ নেই।
তবে ক্লাবের সাথে কোনো ফুটবলারের চুক্তিতে ব্যালন ডি’অর জয়ের জন্য বিশেষ বোনাসের শর্ত থাকলে তিনি বড় অঙ্কের অর্থ পেতে পারেন। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী এই বোনাসের পরিমাণ খেলোয়াড়ভেদে আলাদা হয়। এ ধরনের চুক্তির সব তথ্য প্রকাশ্যে না আসায় নির্দিষ্ট অঙ্ক বলা কঠিন।
পুরস্কার জয়ের আরেকটি বড় সুবিধা হলো বাণিজ্যিক মূল্য বৃদ্ধি। ব্যালন ডি’অর জয়ী ফুটবলারের পরিচিতি ও জনপ্রিয়তা বাড়ায় বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সাথে নতুন চুক্তি, বিজ্ঞাপন এবং পৃষ্ঠপোষকতা থেকে আয় করার সুযোগ তৈরি হয়। তবে এই আয় নির্ভর করে খেলোয়াড়ের জনপ্রিয়তা, বাজারে তার চাহিদা এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তির ওপর।
ব্যালন ডি’অর জয়ের পর পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বোনাস পাওয়ার নজিরও রয়েছে। ২০১৮ সালে পুরস্কার জয়ের পর ক্রোয়েশিয়ার ফুটবলার লুকা মদরিচ তার পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান নাইকির কাছ থেকে প্রায় আট লাখ ইউরো বোনাস পেয়েছিলেন বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। এই অর্থ ফ্রান্স ফুটবলের দেওয়া পুরস্কার ছিল না বরং পৃষ্ঠপোষকের সাথে চুক্তির আওতায় পাওয়া বোনাস বলে উল্লেখ করা হয়েছিল।
এদিকে ব্যালন ডি’অরের সোনালি ট্রফি পুরোপুরি সোনার তৈরি এমন ধারণাও প্রচলিত রয়েছে। বাস্তবে ট্রফিটির নির্মাণে একাধিক উপাদান ব্যবহার করা হয়। ফরাসি গহনা নির্মাতা প্রতিষ্ঠান মেলেরিও এটি হাতে তৈরি করে। ট্রফির বলের আকৃতির অংশটি পিতল দিয়ে তৈরি করে তাতে সোনার প্রলেপ দেওয়া হয়। নিচের অংশে থাকে পাইরাইট পাথরের ভিত্তি। এটি তৈরি করতে কারিগরদের প্রায় ১০০ ঘণ্টা সময় ব্যয় করতে হয়।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ব্যালন ডি’অর ট্রফির নির্মাণমূল্য প্রায় তিন হাজার ইউরো বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে আয়োজক বা নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ট্রফিটির নির্দিষ্ট মূল্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি। তাই এই অঙ্ককে নিশ্চিত বাজারমূল্য হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।
সব মিলিয়ে ব্যালন ডি’অর জয়ের সাথে সরাসরি অর্থ পুরস্কার না থাকলেও এই স্বীকৃতি একজন ফুটবলারের আর্থিক সম্ভাবনা বাড়াতে পারে। ক্লাবের বোনাস, পৃষ্ঠপোষকতা ও বিজ্ঞাপনের চুক্তির মাধ্যমে সেই অর্জন থেকে আর্থিক সুবিধা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।



