...|...|...

বিশ্ব

বৈশ্বিক অর্থনীতি নিয়ে আশাবাদ ও উদ্বেগের কথা জানালেন আইএমএফ প্রধান

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, সন্ধ্যা ৭:৩৩
Shares
বৈশ্বিক অর্থনীতি নিয়ে আশাবাদ ও উদ্বেগের কথা জানালেন আইএমএফ প্রধান

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) গুরুত্বপূর্ণ অবদান থাকলেও এ খাতে বিনিয়োগ কমে যাওয়ার ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রধান ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা। তাঁর মতে, এআই খাতে মন্দা দেখা দিলে তার প্রভাব বিশ্বজুড়ে অনুভূত হবে। অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন চাপ তৈরি করছে।

সংবাদমাধ্যম এএফফি জানায়, ব্যাংককে অনুষ্ঠিত আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভায় এআইয়ের সম্ভাবনা ও ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা করেন বিশেষজ্ঞ ও নীতিনির্ধারকরা। মঙ্গলবার প্রকাশিত আইএমএফের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডেটা সেন্টার ও মাইক্রোচিপে বিপুল বিনিয়োগ বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের অবদান রাখছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে যে অর্থনৈতিক ধাক্কা তৈরি হয়েছে, তা সামাল দিতে এআই-সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সহায়তা করেছে।

আইএমএফের প্রধান অর্থনীতিবিদ সিলভানা তেনরেইরো জানান, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বিশ্ব বাণিজ্য বেড়েছে ৮ দশমিক ৩ শতাংশ। এআই-সংশ্লিষ্ট পণ্যগুলোর অবদান না থাকলে এই প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৬ শতাংশের কাছাকাছি থাকত বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ব্যাংক অব কানাডার গভর্নর টিফ ম্যাকলেম বলেন, এআই এখন বিশ্ব অর্থনীতির প্রায় সব ক্ষেত্রেই প্রভাব ফেলছে। মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি), শেয়ারবাজার ও বন্ডবাজারে এর প্রভাব দৃশ্যমান। তাঁর মতে, এই প্রযুক্তির প্রভাব বিস্তারের প্রক্রিয়া এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।

এদিকে, এআই খাতে অতিরিক্ত বিনিয়োগ নিয়ে সতর্ক করেছেন কর্মকর্তারা। ফেডারেল রিজার্ভের চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শ এআইকে তাঁর জীবদ্দশায় বিশ্ব অর্থনীতির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে তিনি মনে করেন, প্রযুক্তিটির ভবিষ্যৎ প্রভাব এবং এ খাতের বাজারকাঠামো নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

আইএমএফের প্রধান ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা এএফপিকে বলেন, এআই খাতে মন্দা দেখা দিলে তার প্রভাব পুরো বিশ্বে পড়বে। মানুষের আস্থা কমে গিয়ে বিনিয়োগ প্রত্যাহার শুরু হলে তা আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

আইএমএফের এক প্রতিবেদনে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, এআই খাতে বিনিয়োগ কমে গেলে ২০২৮ সালের মধ্যে বৈশ্বিক জিডিপি ০.৪ শতাংশ কমতে পারে। এ খাতে বিনিয়োগ দুর্বল হয়ে পড়া কিংবা প্রত্যাশা অনুযায়ী মুনাফা না আসার কারণে বাজারে বড় ধরনের সংশোধন দেখা দিতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলেও এআই খাতের প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হতে পারে। মুডিস অ্যানালিটিক্সের অর্থনীতিবিদদের মতে, জ্বালানির উচ্চমূল্য ও কঠোর আর্থিক পরিস্থিতি পরিচালন ব্যয় এবং সুদের হার বাড়িয়ে দিতে পারে। এতে এআইভিত্তিক ব্যবসার দীর্ঘমেয়াদি মুনাফা ও টিকে থাকার সক্ষমতা নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বাড়বে।

এআই নিয়ন্ত্রণ নিয়েও মতভেদ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো নেতারা সরকারি নিয়ন্ত্রণ সীমিত রাখার পক্ষে থাকলেও প্রযুক্তি খাতের অনেকেই ঝুঁকি কমাতে সুনির্দিষ্ট আইন প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছেন।

জর্জিয়েভা বলেন, যথাযথ সুরক্ষাব্যবস্থা না থাকলে এআইয়ের ক্ষেত্রে সুযোগের তুলনায় ঝুঁকির পরিমাণ বেশি হয়ে উঠতে পারে। ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে এআইয়ের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর পাশাপাশি বিনিয়োগ ও আর্থিক স্থিতিশীলতার ঝুঁকিগুলোও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।