...|...|...

রাজনীতি

বিরোধীদলের ওপর গোয়েন্দাগিরি অত্যন্ত বিপজ্জনক: হাসনাত

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ৯:৫৩ | আপডেট: ২১ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ১০:৩৮
Shares
বিরোধীদলের ওপর গোয়েন্দাগিরি অত্যন্ত বিপজ্জনক: হাসনাত

ছবি: সংগৃহীত

রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাকে ব্যবহার করে বিরোধী রাজনৈতিক দলের ওপর নজরদারি চালানোর বার্তা দেওয়াকে ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক ও প্রমাণিত ফ্যাসিবাদী চরিত্র’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল হাসনাত (হাসনাত আবদুল্লাহ)।

একই সঙ্গে ফ্যামিলি কার্ড ও ফার্মার কার্ড প্রকল্পের ব্যয়, সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি এবং ডেটাবেজ তৈরির জন্য বরাদ্দ নিয়ে বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সরকারের কর্মকাণ্ডের কঠোর সমালোচনা করে এসব কথা বলেন তিনি।

পোস্টে হাসনাত আবদুল্লাহ লেখেন, একজন প্রধানমন্ত্রী কি রাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা ব্যবহার করে বিরোধীদলের ওপর গোয়েন্দাগিরি করার ঘোষণা প্রকাশ্যে দিতে পারেন? রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো কি কোনো দলের কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হওয়ার কথা? নাকি দেশের প্রতি দায়িত্ব পালন করার কথা? বিরোধীদলের ওপর গোয়েন্দা সংস্থা লেলিয়ে দেওয়ার এই সংস্কৃতি আমাদের তো হাসিনার আমলের কথাই মনে করিয়ে দেয়। অথচ রং-বেরংয়ের কার্ড ছাপানো কর্মসূচিতে নানা অনিয়মের কথা শোনা যাচ্ছে। সরকার কি এসব নিয়ে আজ পর্যন্ত একটা তদন্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে? উত্তর হলো, না।

এই সংসদ সদস্য লেখেন, রাষ্ট্রীয় সংস্থাকে দিয়ে বিরোধীদলের ওপর গোয়েন্দাগিরি করার যে বার্তা প্রধানমন্ত্রী দিয়েছেন, সেটা অত্যন্ত বিপদজনক। রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে গুরুত্বপূর্ণ ও মৌলিক কাজ থেকে সরিয়ে শুধু বিরোধী রাজনৈতিক দলের পেছনে লেলিয়ে দেওয়া এবং বিরোধীদলকে টার্গেট করে নজরদারি প্রযুক্তির অপব্যবহার করা প্রমাণিতভাবে একটি ফ্যাসিবাদী চরিত্র। প্রধানমন্ত্রীর স্বীকারোক্তি রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে অপব্যবহারের গভীরতর বার্তা দেয়, যা নিন্দনীয়।

হাসনাত বলেন, ‘গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একাধিক সংবাদ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বিএনপি সরকার উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিকে বাইপাস করে বড় বড় প্রায় সব প্রকল্পে ডাইরেক্ট পারচেজ মেথড বা ডিপিএম পদ্ধতিতে ঝুঁকছে। অত্যন্ত ন্যক্কারজনকভাবে এখানেও তারা বাংলাদেশ সেনাবাহিনী নৌবাহিনীর মতো প্রতিষ্ঠানকে কিংবা আন্তঃবাহিনীর পরিচালিত বিএমটিএফকে সামনে রাখছে। অথচ পেছনে কাজগুলো বিএনপি নেতাদের ডিপিএম পদ্ধতিতে দেওয়ার ফন্দি করছে। ফ্যামিলি কার্ড এবং ফার্মার কার্ডে সেনাবাহিনী কিংবা নৌবাহিনী কিংবা আন্তঃবাহিনীর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের লোগো ব্যবহার করে বিএনপি নেতারা দুর্নীতি ও লুটপাটের যে মহড়া সাজিয়েছে, তাতে করে আমাদের বাহিনী গুলোর সম্মান ধুলায় মিশবে। বাংলাদেশের বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে ডেবিট কার্ড কিংবা ক্রেডিট কার্ড সরবরাহকারী একজন বিএনপি-এমপির প্রতিষ্ঠান যেখানে ১২৫-১৩০ টাকায় প্লাস্টিক কার্ড সরবরাহ করে, সেখানে ফার্মার কার্ড, ফ্যামিলি কার্ডে সর্বমোট দাম পড়ছে প্রায় ৩০০ থেকে ৩৬৫ টাকা। খরচের যৌক্তিকতা কী? উপরন্ত ডেটাবেজ করার নাম করে ২০১০ কোটি টাকা হাতানোর চক্রান্ত শুরু হয়েছে।’

হাসনাত লেখেন, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো সবসময় বাংলাদেশের গরিব মানুষের ডেটাবেজ হালনাগাদ করে। তদুপরি মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ডেটা, ইউটিলিটি যেমন বিদ্যুৎ পানি গ্যাস বিল, মোবাইল টপআপ, কিংবা ক্ষুদ্রঋণের তথ্য, অথবা খানা জরিপসহ বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর বহুবিধ ডেটাবেজের মাধ্যমে দেশের দরিদ্র এবং অতি দরিদ্র মানুষের প্রায় নিখুঁত ডেটাবেজ বিদ্যমান বাজেটেই করা সম্ভব। এখানে দুর্নীতি ও লুটপাটের ফন্দি ভিন্ন, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়কে অতিরিক্ত বরাদ্দ দেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা থাকে না। তথাপি বিএনপি এখানে লুটপাটের জন্য ২০১০ কোটি টাকার অপখরচের প্রকল্প সাজিয়েছে। বিএনপি নেতাদের এ ধরনের লুটপাট কেন্দ্রিক প্রকল্প প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জানার কিংবা ইচ্ছার বাইরে গিয়ে হচ্ছে, এমনটা মনে করার কোনো কারণ নাই। প্রধানমন্ত্রী প্রতিটি সভা সেমিনারে ফ্যামিলি কার্ড ও ফার্মার কার্ড প্রমোট করেন, বিরোধীদলকে খোটা দেন। এ অবস্থায়, সাধারণ দামের দুই গুণ বা তিনগুণ দামে কার্ড কেনার প্রকল্পে বিএনপির লুটপাটকে জায়েজ করতে, বাংলাদেশের সেনাবাহিনী এবং নৌবাহিনীর মতো প্রতিষ্ঠানকে ডিপিএম এর ঢাল হিসাবে ব্যবহার করার মাধ্যমে কলঙ্কিত করার বড় চক্রান্ত হচ্ছে। সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তাদের মেরুদন্ড শক্ত করে বলার সময় হয়েছে যে, মানুষকে ভাতা দিতে কোনো জনতুষ্টিবাদী প্লাস্টিক কার্ডের প্রয়োজন নেই, প্রয়োজন ডেটাবেজ, যা উৎস থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে হালনাগাদ হবে।’

তিনি লেখেন, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর মাধ্যমে ক্রমাগত হালনাগাদকৃত দারিদ্র্যের ডেটাবেজ, আয় ব্যয় ও খানা জরিপ সম্ভব ও আছেও একপ্রকার যা আরও ভালো করা যায়। স্বয়ংক্রিয়ভাবে দরিদ্র অতি দরিদ্র, এবং চাহিদাসম্পন্ন মানুষের ডেটাবেজ সোর্স থেকে সংগৃহীত ফার্স্ট হ্যান্ড তথ্যের মাধ্যমে করে বিবিএসকে প্রতিষ্ঠানিকভাবে শক্তিশালী করা দরকার। কিন্তু বিএনপি হাঁটছে উল্টো পথে।

তিনি আরও লেখেন, সম্পদ ব্যবস্থাপনায় সরকারের প্রশাসনিক এবং পলিসি সংক্রান্ত কাজে প্রতিনিয়ত দারিদ্র্যের ডেটাবেজ লাগে, এটা বিজনেস এজ ইউজুয়াল, ডে টু ডে কাজ, দারিদ্র্যের ডেটাবেজ প্রজেক্ট দিয়ে করা যাবে না। কারণ, প্রজেক্ট কয়েক বছর পরে শেষ হয়ে গেলে দারিদ্র্যের ডাটাবেজ কে বানাবে?

এনসিপির এই নেতা লেখেন, এমনিতেই শেখ হাসিনা আমাদের সামরিক ও আধা-সামরিক বাহিনীগুলোকে দিয়ে ক্রমাগতভাবে রাজনৈতিক গুম খুন, ক্রসফায়ারসহ বিচার বহির্ভূত হত্যা করে, আমাদের এজেন্সিগুলোকে জাতীয়, আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কলঙ্কিত করেছে। ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞাও এসেছে। আই হ্যাভ এ প্লানের ভেতরে এজেন্সিগুলোর সাইনবোর্ডকে কাজে লাগিয়ে ডিপিএম লুটপাটের মহাপরিকল্পনাকে আমরা নিন্দা জানাই। একইসঙ্গে বাংলাদেশের এজেন্সিগুলোকে বিএনপি নেতাদের লুটপাটের ভাগীদার না হতে আগাম সতর্কতা জানাই।

পোস্টে তিনি লেখেন, একটা দীর্ঘ সংগ্রাম ও রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে অর্জিত ৫ আগস্টের পরে আমাদের বাহিনীগুলো গত দুই বছর রাজনৈতিক অপব্যবহার থেকে বেশকিছুটা সরে এসেছে। কিন্তু তারেক রহমান আবারও এজেন্সিকে দিয়ে বিরোধী রাজনৈতিক দল ও নেতাদের টার্গেট করার বার্তা দিয়েছেন। এই উভয় রাজনৈতিক ও আর্থিক লুটপাটের অপচর্চা, অপব্যবহার হওয়া থেকে আমাদের সব সামরিক বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে যথাসম্ভব দূরে থাকতে হবে। বাংলাদেশ ক্যান নট এফোর্ড এনাদার ফেইজ অফ অটোক্র্যাটিক জার্নি।

শেষে তিনি লেখেন, মনে রাখতে হবে, রাষ্ট্রীয় বাহিনী সরকারি দলের সম্পত্তি নয়। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো কোনো দলের দলদাস হওয়ার জন্য তৈরি করা হয় নাই। বরং রাষ্ট্রীয় বাহিনী বাংলাদেশের জনগণের সেবক। সরকার এবং বিরোধীদলসহ ১৮ কোটি মানুষের হয়ে কাজ করার জন্যই সব প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানকে দেশের বদলে দলের হীন স্বার্থরক্ষার কাজে লাগানো মানে শুধু সাধারণ একটা নিয়ম ভঙ্গ করা না। বরং এটি জনগণের অর্পিত দায়িত্বের সঙ্গে সরাসরি প্রতারণা করা।