...|...|...

ক্যাম্পাস

বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় চবির সব স্থাপনায় সৌরবিদ্যুৎ চায় ছাত্রদল

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬, বিকেল ৩:২১
Shares
বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় চবির সব স্থাপনায় সৌরবিদ্যুৎ চায় ছাত্রদল

ছবি: প্রতিনিধি

বিদ্যুৎ সাশ্রয়, প্রচলিত বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীলতা কমানো এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) সকল স্থাপনায় সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের দাবি জানিয়েছে শাখা ছাত্রদল। এ দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. শাফায়াত হোসেন।

তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনে ছাত্রদল মনোনীত প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদপ্রার্থী ছিলেন।

স্মারকলিপিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল আবাসিক হল, অনুষদ, বিভাগ, গ্রন্থাগার ও প্রশাসনিক ভবনসহ উপযুক্ত স্থাপনাগুলোতে পর্যায়ক্রমে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ও ব্যবহারের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যুৎ ব্যয় কমানো এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, বাংলাদেশকে আধুনিক, পরিবেশবান্ধব, জ্বালানি-সাশ্রয়ী ও টেকসই রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ। এ লক্ষ্যে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি, ব্যক্তিগত ও উদ্যোক্তা পর্যায়ে উৎপাদনকে উৎসাহিত করা এবং উৎপাদিত বিদ্যুতের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। নিজস্ব চাহিদা পূরণের পর উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের সুযোগ তৈরি করা গেলে জাতীয় বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির অবদানও বাড়বে।

এতে আরও উল্লেখ করা হয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, দৈনন্দিন জীবনযাপন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একইভাবে শ্রেণিকক্ষ, গবেষণাগার, গ্রন্থাগার ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ প্রয়োজন। এসব স্থাপনার উপযোগী ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপন করা হলে প্রচলিত বিদ্যুতের ওপর নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা ও আবাসিক কার্যক্রম সচল রাখার সুযোগ তৈরি হতে পারে। এ জন্য প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সংরক্ষণব্যবস্থা ও কারিগরি সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়নের প্রস্তাবও দিয়েছে ছাত্রদল। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ভবনের ছাদের উপযোগিতা, বিদ্যুতের চাহিদা, কারিগরি সক্ষমতা ও সম্ভাব্য ব্যয় যাচাই করে পর্যায়ক্রমে প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা বলা হয়। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব তহবিল, সরকারি বরাদ্দ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার সহায়তাসহ সম্ভাব্য অর্থায়নের উৎস অনুসন্ধানের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

স্মারকলিপিতে প্রাথমিক পর্যায়ে উপযুক্ত কয়েকটি আবাসিক হল ও অনুষদে পরীক্ষামূলকভাবে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করে পরবর্তী সময়ে তা পুরো ক্যাম্পাসে সম্প্রসারণের প্রস্তাব করা হয়। উৎপাদিত বিদ্যুতের উদ্বৃত্ত জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের কারিগরি ও আর্থিক সম্ভাব্যতা যাচাই এবং এ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য সরকারি নীতিমালা অনুসরণের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রকল্পের বাস্তবায়ন, রক্ষণাবেক্ষণ ও কার্যকারিতা মূল্যায়নে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন এবং একটি বাস্তবায়ন রূপরেখা প্রণয়নের প্রস্তাব দেওয়া হয়।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যুৎ ব্যয় সাশ্রয়, পরিবেশ সংরক্ষণ ও জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানিবিষয়ক সচেতনতা বাড়ানো সম্ভব হবে। এ লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ ও উপাচার্যের সদয় হস্তক্ষেপ কামনা করেন ছাত্রদল নেতা শাফায়াত হোসেন।

উদ্যোগটির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে চবি শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. শাফায়াত হোসেন বলেন, ‘বর্তমান সময়ে বিদ্যুৎ ঘাটতি মোকাবিলা, খরচ কমানো এবং শিক্ষার্থীদের আবাসিক জীবন স্বাভাবিক রাখতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো জরুরি। বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হলে বিদ্যুৎ ব্যয় কমানোর পাশাপাশি মূল গ্রিডের ওপর নির্ভরশীলতাও হ্রাস পাবে। বিশেষ করে বিদ্যুৎ সংকটের সময়ে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও দৈনন্দিন কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে সৌরবিদ্যুৎ কার্যকর ভূমিকা রাখবে।’