ফেনী পৌর এলাকার এক আবাসিক হোটেলের বাথরুমে চুলা ও গ্যাস সিলিন্ডার বসিয়ে চিনি জ্বাল দিয়ে কৃত্রিম উপায়ে ‘খাঁটি মধু’ তৈরি করার অভিযোগ উঠেছে। ২ কেজি আসল মধুর সাথে ১০ কেজি চিনি মিশিয়ে তৈরি করা হতো এই তথাকথিত ‘খাঁটি মধু’।
রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতে বড় মসজিদ রোডের ‘হোটেল ট্যুরিস্ট আবাসিক’-এ অভিযান চালিয়ে এই সংঘবদ্ধ চক্রের চারজন সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ।
আটক ব্যক্তিরা হলেন মোহাম্মদ মহসিন, মেহেদী হাসান, মো. রাসেল ও জসিম উদ্দিন। তারা কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার বাসিন্দা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হোটেলটির ছয়তলায় অভিযান চালায় ফেনী মডেল থানা পুলিশ। এ সময় বাথরুমের ভেতর চুলায় চিনি জ্বাল দিয়ে ভেজাল মধু তৈরির প্রমাণ পাওয়া যায়। পরে আলামতসহ চারজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা ভেজাল মধু তৈরির কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। তাদের দাবি, দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে এভাবে ভেজাল খাদ্যপণ্য তৈরি করে আসছে চক্রটি।
আটক ব্যক্তিদের মধ্যে চক্রের দলনেতা হিসেবে পরিচিত মোহাম্মদ মহসিন জানান, বাজারে আসল মধুর দাম বেশি হওয়ায় কম দামে মধু কিনতে আগ্রহীদের লক্ষ্য করে তারা এই প্রতারণা করতেন। প্রতি কেজি আসল মধুর দাম ১ হাজার ২০০ টাকার বেশি হওয়ায় কম দামে মধু বিক্রির সুযোগ কাজে লাগাতেন তারা।
মহসিনের ভাষ্য অনুযায়ী, ২ কেজি আসল মধু ও ১০ কেজি চিনি মিশিয়ে ভেজাল মধু তৈরি করতে খরচ হতো প্রায় ৩ হাজার ৫০০ টাকা। পরে তা বাজারে প্রায় ৬ হাজার টাকায় বিক্রি করা হতো। প্রতিদিন প্রায় ১০ কেজি ভেজাল মধু তৈরি করা হতো বলেও দাবি করেন তিনি।
এ ছাড়া চক্রটিতে মোট ৩৮ জন সদস্য রয়েছেন বলে জানান মহসিন। তাদের মধ্যে ২৪ জন পাঁচগাছিয়া এলাকায় থাকেন এবং বাকি ১৪ জন হোটেলটির বোর্ডিংয়ে অবস্থান করেন বলে দাবি করেন তিনি।
হোটেলটির ম্যানেজার রুস্তম আলী বলেন, আটক ব্যক্তিরা প্রায় আট বছর ধরে ওই হোটেলে থাকলেও তাদের কর্মকাণ্ডে কখনো সন্দেহ হয়নি। তারা এভাবে মানুষের সাথে প্রতারণা করবেন, তা কল্পনাও করেননি বলে জানান তিনি।
ফেনী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) সজল কান্তি দাশ বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে চারজনকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ভেজাল মধু তৈরির বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
তিনি বলেন, চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।


