...|...|...

খুলনা

বাগেরহাটে আখের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি

শেখ সোহেল, বাগেরহাট
প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:৩৩ | আপডেট: ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ১০:১৪
Shares
বাগেরহাটে আখের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি

বাগেরহাটের মোল্লাহাটে কৃষকের মাঠজুড়ে সারি সারি আখগাছ। ছবি: টাইমস টুডে

বাগেরহাটের মোল্লাহাটে কৃষকের মাঠজুড়ে এখন সবুজের সমারোহ। সারি সারি আখগাছে ছেয়ে গেছে বিস্তীর্ণ জমি। কম উৎপাদন খরচ, ভালো ফলন ও লাভের সম্ভাবনায় দিন দিন আখ চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। বিশেষ করে উপজেলার উদয়পুর ইউনিয়নের গাড়ফা গ্রামে এবার আখের বাম্পার ফলনে কৃষকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে নতুন আশার সঞ্চার। উৎপাদিত আখের ন্যায্যমূল্য ও সহজ বাজারজাতকরণ নিশ্চিত হলে আগামীতে এ অঞ্চলে আখের আবাদ আরও বাড়বে বলে আশা করছেন কৃষকরা।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে সবুজ আখের ক্ষেত। সারি সারি লম্বা আখগাছ বাতাসে দুলছে। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, পুরো মাঠ যেন সবুজ চাদরে ঢাকা। ধানসহ অন্যান্য ফসলের তুলনায় আখে লাভের সম্ভাবনা বেশি হওয়ায় অনেক কৃষকই এখন এ ফসলের দিকে ঝুঁকছেন।

গাড়ফা গ্রামের কৃষক হাফিজু চৌধুরী বলেন, এবার আমাদের এলাকায় আখের ফলন খুবই ভালো হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আখগাছগুলো বেশ সতেজ ও স্বাস্থ্যবান হয়েছে এবং আশানুরূপ ফলন পাওয়া যাচ্ছে। আখ চাষে উৎপাদন খরচও তুলনামূলক কম। সঠিকভাবে পরিচর্যা করলে ভালো ফলন পাওয়া যায়। ধানসহ অন্যান্য ফসলের তুলনায় আখে লাভের সম্ভাবনাও বেশি।

তিনি বলেন, তবে সবচেয়ে বড় বিষয় হলো বাজারে ন্যায্যমূল্য পাওয়া। উৎপাদনের পর ভালো দামে আখ বিক্রি করতে পারলে এ বছর ভালো লাভ হবে। আখের বাজারদর ভালো থাকলে কৃষকদের মধ্যে এ ফসল চাষে আগ্রহ আরও বাড়বে। আগামী মৌসুমে বর্তমানের চেয়ে আরও বেশি জমিতে আখ চাষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও সহযোগিতা পেলে ভবিষ্যতে আখ চাষের পরিমাণ আরও বাড়াতে চাই।

একই গ্রামের কৃষক বোরহান বলেন, আগে আমরা ধান চাষ করতাম। কৃষি অফিসের পরামর্শে এবার আখ চাষ শুরু করেছি। ফলন ভালো হয়েছে। পরিচর্যা ঠিকমতো করলে আখ থেকে ভালো আয় করা সম্ভব। তাই ভবিষ্যতেও আখ চাষ চালিয়ে যেতে চাই।

কৃষকরা জানান, এ বছর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ফিলিপাইন, রংবিলাস ও ঈশ্বরদী-৪৫সহ বিভিন্ন উন্নত জাতের আখের আবাদ হয়েছে। এসব জাতের ভালো ফলন দেখে অন্য কৃষকরাও আখ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। ফলে ধীরে ধীরে বাড়ছে এ ফসলের আবাদ।

গাড়ফা গ্রামের বাসিন্দা আবু সাইদ বলেন, এবার মাঠজুড়ে আখের সবুজ সমারোহ সত্যিই দৃষ্টি কাড়ছে। আগে এ এলাকায় এত বেশি আখের আবাদ দেখা যেত না। এখন কৃষকদের মধ্যে আখ চাষের আগ্রহ বাড়ছে। ফলনও বেশ ভালো হয়েছে। আখ চাষে লাভের সম্ভাবনা দেখে আমরাও আগামীতে নিজেদের জমিতে আখ চাষের কথা ভাবছি।

আখের ক্ষেত দেখতে আসা স্থানীয় বাসিন্দা হামিম শেখ বলেন, ধানের জমির চেয়ে এবার আখের ক্ষেত বেশ ভালো হয়েছে। কৃষকরা যদি ন্যায্যমূল্য পান, তাহলে এ অঞ্চলে আখ চাষ আরও বাড়বে। এতে কৃষকের পাশাপাশি এলাকার অর্থনীতিও চাঙা হবে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উন্নত জাতের ব্যবহার, আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি ও নিয়মিত কারিগরি পরামর্শের কারণে মোল্লাহাটে আখ চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। মাঠপর্যায়ে কৃষকদের প্রশিক্ষণ, রোগবালাই দমন, সার প্রয়োগ ও পরিচর্যার বিষয়ে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মোতাহার হোসেন বলেন, মোল্লাহাটে আখ চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। মাটির গুণাগুণ ও আবহাওয়া উপযোগী হওয়ায় কৃষকরা ভালো ফলন পাচ্ছেন। উন্নত জাতের আখ চাষে আমরা কৃষকদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কারিগরি পরামর্শ দিচ্ছি।

তিনি বলেন, উন্নত জাতের বীজ, সঠিক সময়ে সার ও সেচ প্রয়োগ এবং রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ করা গেলে ফলন আরও বাড়ানো সম্ভব। উৎপাদিত আখের ন্যায্যমূল্য ও সহজ বাজারজাতকরণ নিশ্চিত হলে আগামীতে এ অঞ্চলে আখের আবাদ আরও বাড়বে।