...|...|...

খেলা

ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি সম্পর্কে অজানা ১০ তথ্য

টাইমস টুডে স্পোর্টস
প্রকাশ: ৩ জুলাই ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:২২ | আপডেট: ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ১:০২
Shares
ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি সম্পর্কে অজানা ১০ তথ্য

ছবি: সংগৃহীত

ফুটবল মানেই উত্তেজনা, গ্যালারি ভর্তি উন্মাদনা আর মাঠের লড়াই। কিন্তু দিনশেষে সব দেশ ও খেলোয়াড়দের লক্ষ্য থাকে একটিই— সোনালি সেই ট্রফিটি উঁচিয়ে ধরা। ফুটবলের এই সর্বোচ্চ সম্মান ‘ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি’ জয় করা বিশ্বের অন্যতম কঠিন কাজ। ১৯৩০ সালে টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার পর থেকে ৯৬ বছরের ইতিহাসে মাত্র ৮টি দেশ এই গৌরবের ট্রফিটি হাতে পেয়েছে। ৫ বার জিতে তালিকার শীর্ষে ব্রাজিল, এরপরই ৪ বার করে জিতেছে জার্মানি ও ইতালি। এছাড়া আর্জেন্টিনা ৩ বার, ফ্রান্স ও উরুগুয়ে ২ বার এবং স্পেন ও ইংল্যান্ড জিতেছে ১ বার করে।

এই সোনালি ট্রফিটিকে ঘিরে রয়েছে ইতিহাস, রোমাঞ্চ আর চুরির মতো চাঞ্চল্যকর সব ঘটনা। পাঠকদের জন্য ট্রফিটি সম্পর্কে ১০টি অজানা ও আকর্ষণীয় তথ্য তুলে ধরা হলো:

১. ১৮ ক্যারেট সোনায় কারুকাজ
বিশ্বকাপ ট্রফিটি মূলত ১৮ ক্যারেট সোনা দিয়ে তৈরি। ট্রফিটির নিচের অংশে রয়েছে দুই স্তরের সবুজ ‘মালাকাইট’ পাথর। এর মোট ওজন ৬.১৪২ কিলোগ্রাম। ট্রফিটির ভেতরটি ফাঁপা হলেও এর বাহ্যিকরূপ আকাশচুম্বী। এতে প্রায় ৫ কেজি খাঁটি সোনা রয়েছে, যার বর্তমান বাজারদর এপ্রিল ২০২৬ অনুযায়ী প্রায় ৫ লক্ষ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার। অবশ্য এর ঐতিহাসিক মূল্যর কাছে এই দাম খুবই সামান্য।

২. ট্রফিটির দুটি সংস্করণ
আজ আমরা যে ট্রফিটি দেখি, সেটি কিন্তু শুরু থেকে ছিল না। প্রথম ট্রফিটির নাম ছিল ‘জুলে রিমে ট্রফি’। রূপার ওপর সোনার প্রলেপ দেওয়া সেই ট্রফিটি ছিল গ্রিক বিজয়ের দেবী ‘নাইকি’র আদলে। ১৯৭০ সালে ব্রাজিল তৃতীয়বার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর স্থায়ীভাবে সেটি নিজেদের দেশে রাখার অনুমতি পায়। এরপরই ফিফা বর্তমানের এই ট্রফিটি তৈরি করায়, যা ১৯৭৪ সালে প্রথম উঁচিয়ে ধরেন পশ্চিম জার্মানির খেলোয়াড়রা।

৩. জুতোর বাক্সে লুকিয়ে রাখা
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ট্রফিটি হারানোর বড় শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তখন ফিফার তৎকালীন ভাইস প্রেসিডেন্ট ওত্তোরিনো বারাসি গোপনে রোমের একটি ব্যাংক থেকে ট্রফিটি সরিয়ে নেন। নাৎসি বাহিনীর হাত থেকে এটি রক্ষা করতে তিনি যুদ্ধের পুরোটা সময় ট্রফিটি নিজের বিছানার নিচে একটি জুতোর বাক্সে লুকিয়ে রেখেছিলেন।

৪. ট্রফি চুরি: দুই শহর, দুই পরিণতি
১৯৬৬ সালে লন্ডনে একটি প্রদর্শনী চলাকালে প্রথমবার ট্রফিটি চুরি হয়। তখন ‘পিকলস’ নামের একটি কুকুর ঝোপের আড়ালে খবরের কাগজে মোড়ানো অবস্থায় ট্রফিটি খুঁজে পায়। তবে ১৯৮৩ সালে ব্রাজিলে দ্বিতীয়বার চুরির পর আর সেটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। পরে ব্রাজিল সরকার একটি অনুলিপি বা রেপ্লিকা তৈরি করে নেয়।

৫. ২ লক্ষ ডলারে কেনা ‘নকল’ ট্রফি
১৯৬৬ সালের চুরির ঘটনার পর ইংল্যান্ডের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন নিরাপত্তার খাতিরে একটি রেপ্লিকা তৈরি করেছিল। ১৯৯৭ সালে ফিফা একটি নিলাম থেকে সেই নকল ট্রফিটি ২ লক্ষ ডলারে কিনে নেয়, যা এখন ইংল্যান্ডের ন্যাশনাল ফুটবল মিউজিয়ামে শোভা পাচ্ছে।

৬. আসল ট্রফির স্থায়ী ঠিকানা
অনেকেই মনে করেন চ্যাম্পিয়ন দেশ আসল ট্রফিটি নিজেদের দেশে নিয়ে যায়। আসলে কিন্তু তা নয়। আসল ট্রফিটি থাকে সুইজারল্যান্ডের জুরিখের ফিফা মিউজিয়ামে। বিজয়ী দেশগুলোকে কেবল একটি স্বর্ণালি রেপ্লিকা বা ‘ওয়ার্ল্ড কাপ উইনার্স ট্রফি’ দেওয়া হয়।

৭. ট্রফির নিচে বিজয়ী সর্পিল
প্রতিটি বিশ্বকাপের পর ট্রফির নিচের প্লেটটি বদলে ফেলা হয়। সেখানে নতুন বিজয়ীর নাম আগের চ্যাম্পিয়নদের নামের সাথে সর্পিল আকারে খোদাই করা হয়। আর পুরোনো প্লেটটি চলে যায় ফিফা মিউজিয়ামে।

৮. ট্রফি ভেঙেছিল জার্মানি!
২০১৪ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর উল্লাসে এতটাই মেতেছিল জার্মান দল যে, ট্রফিটির একটি ছোট অংশ ভেঙে যায়। তবে ভাগ্য ভালো ছিল যে, সেটি ছিল তাদের দেওয়া রেপ্লিকা ট্রফিটি, আসলটি নয়।

৯. রাজকীয় নিরাপত্তা ও ভ্রমণ
আসল ট্রফিটি খুব কমই বাইরে আনা হয়। যখনই এটি ট্রফি ট্যুর বা ফাইনাল ম্যাচের জন্য ভ্রমণ করে, তখন বিশেষ এজেন্টদের কড়া নিরাপত্তায় এটি যাতায়াত করে। যেন কোনোভাবেই এর কোনো ক্ষতি না হয়।

১০. বিশ্বকাপ ট্রফি ছোঁয়া বারণ
ফুটবল বিশ্বে একটি অলিখিত প্রথা আছে— ফাইনাল খেলার আগে কোনো খেলোয়াড় ট্রফিটি স্পর্শ করেন না। তবে দাপ্তরিক নিয়ম আরও কঠোর। শুধুমাত্র বিশ্বকাপ জয়ী দলের সদস্য এবং রাষ্ট্রপ্রধানরাই খালি হাতে আসল ট্রফিটি ধরতে পারেন। বাকি সবার জন্য গ্লাভস পরা বাধ্যতামূলক। তবে এবার ২০২৬ বিশ্বকাপে সেই নিয়ম ভাঙ্গতে যাচ্ছে কেননা এবার চ্যাম্পিয়ন দলকে নিজ হাতে ট্রফি তুলে দিবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ফুটবল বিশ্বকাপের এই ট্রফিটি তাই কেবল একটি ট্রফি নয়, এটি কোটি কোটি মানুষের আবেগ আর ইতিহাসের এক জীবন্ত সাক্ষী।