১৯৯৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার মিয়ামিতে দুটি বেসামরিক বিমান ভূপাতিত করে চারজনকে হত্যার ঘটনায় কিউবার সাবেক প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
আদালতে জমা হওয়া নথিপত্র অনুযায়ী, এই প্রাণঘাতী ঘটনার আগে কিউবান চররা ফ্লাইটের তথ্য পাচার করেছিল বলে অভিযোগ আনা হয়েছে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফ্লোরিডা ডিপার্টমেন্ট অফ ল এনফোর্সমেন্টের তদন্তের পর গত শুক্রবার মিয়ামির এক বিচারক রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে প্রথম ডিগ্রি হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে এই পরোয়ানা স্বাক্ষর করেন। মিয়ামি হেরাল্ড ও টাম্পা বে টাইমস-এর হাতে আসা আদালতের নথিপত্র থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও ফ্লোরিডার এখতিয়ার
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ফ্লোরিডার এই ঘটনার বিচার করার আইনি এখতিয়ার রয়েছে। কারণ কিউবার দুই চর মিয়ামি ও কি ওয়েস্টে সক্রিয় ‘ব্রাদার্স টু দ্য রেসকিউ’ নামক গ্রুপে অনুপ্রবেশ করেছিল এবং বিমান ভূপাতিত করার আগে কিউবার কর্তৃপক্ষের কাছে ফ্লাইটের সমস্ত তথ্য সরবরাহ করেছিল।
উল্লেখ্য, ‘ব্রাদার্স টু দ্য রেসকিউ’ হলো ফ্লোরিডাভিত্তিক একটি অলাভজনক সংস্থা, যা কিউবার সরকারের বিরোধিতায় পরিচিত কিউবান প্রবাসীদের দ্বারা গঠিত হয়েছিল।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, ওই গুপ্তচর নেটওয়ার্কটি তাদের চরদের ১৯৯৬ সালের ২৪ থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ওই গ্রুপের কোনো বিমানে নাড়ার নির্দেশ দিয়েছিল। এমনকি বিমানগুলো ভূপাতিত করার ঠিক একদিন আগে, অর্থাৎ ২৩ ফেব্রুয়ারি এক চর ফ্লোরিডা ত্যাগ করে কিউবায় ফিরে যান।
আদালতের নথিপত্রে বলা হয়েছে, (ব্রাদার্স টু দ্য রেসকিউ-এর) বিমানে থাকা ব্যক্তিদের প্রথম ডিগ্রি হত্যার অপরাধ সংঘটনে আসামী রাউল মোদেস্তো কাস্ত্রো রুজ অন্যদের সাথে একমত হয়েছিলেন—এমন যৌক্তিক ও যথেষ্ট কারণ রয়েছে।
প্রসঙ্গত, ১৯৯৬ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ‘ব্রাদার্স টু দ্য রেসকিউ’-এর পরিচালিত দুটি ছোট বিমান কিউবার যুদ্ধবিমানগুলো ভূপাতিত করে, যার ফলে বিমানে থাকা চারজনই নিহত হন। সে সময় কিউবা দাবি করেছিল যে বিমানগুলো তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করেছিল এবং আত্মরক্ষার্থেই তারা এই পদক্ষেপ নিয়েছিল। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দাবি করে যে বিমানগুলো আন্তর্জাতিক জলসীমায় ছিল। পরবর্তীতে ‘আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা’-র তদন্তেও এই তথ্যের সত্যতা মেলে এবং সংস্থাটি জানায় যে ঘটনাটি কিউবার আকাশসীমার বাইরে ঘটেছিল।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ফ্লোরিডায় ষড়যন্ত্রের প্রমাণ হিসেবে যথেষ্ট তথ্য রয়েছে, কারণ চররা ফ্লাইটের তথ্য শেয়ার করেছিল এবং নৌবাহিনীর এয়ার স্টেশন পর্যবেক্ষণ করেছিল।
চলতি বছরের মার্চ মাসে ফ্লোরিডার অ্যাটর্নি জেনারেল জেমস উথমায়ার এই ঘটনায় কাস্ত্রোর ভূমিকা নিয়ে একটি রাজ্য-পর্যায়ের ফৌজদারি তদন্তের ঘোষণা দেওয়ার কয়েক মাস পর এই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হলো। ঘটনাটির ৩০ বছরপূর্তি ঘনিয়ে আসার প্রেক্ষাপটে এই পরোয়ানা জারি করা হলো। মিয়ামিতে এক সংবাদ সম্মেলনে অ্যাটর্নি জেনারেল উথমায়ার আনুষ্ঠানিকভাবে এই গ্রেফতারি পরোয়ানা ঘোষণা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
দ্বিতীয় পরোয়ানা ও রাউল কাস্ত্রোর পরিচয়
এই ঘটনায় রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে এটি দ্বিতীয় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা। এর আগে গত মে মাসে মার্কিন বিচার বিভাগও কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে হত্যা ও হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এনেছিল।
উল্লেখ্য, ঘটনার সময় রাউল কাস্ত্রো কিউবার সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান ছিলেন। তিনি প্রয়াত ফিদেল কাস্ত্রোর ভাই। ফিদেল কাস্ত্রো প্রায় ৫০ বছর ধরে কিউবা শাসন করার পর ২০১৬ সালে মারা যান। ফিদেল গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ার পর ২০০৬ সালে সাময়িকভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের মাধ্যমে রাউল কাস্ত্রো ২০০৮ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত কিউবার প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেন।


