ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করতে গিয়ে একটি প্রশ্ন বহুবার শুনেছি— ‘ফার্মাসিস্ট হয়ে মার্কেটিংয়ে কেন?, ফার্মাসিস্ট কি মার্কেটিং বোঝে?, ফার্মাসিস্টের কাজ তো ল্যাব বা প্ল্যান্টে; মার্কেটিং করবে বিজনেস ব্যাকগ্রাউন্ডের পেশাজীবীরা।’
ফার্মাসিউটিক্যাল মার্কেটিং সাধারণ কোনো পণ্যের মার্কেটিংয়ের মতো নয়। একটি ওষুধের ব্যবহার নির্ভর করে রোগ নির্ণয়, রোগীর বয়স, অ্যালার্জি, সঠিক মাত্রা, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, অন্য ওষুধের সাথে পারস্পরিক প্রতিক্রিয়া, কার্যকারিতা ও নিরাপত্তার ওপর। তাই ফার্মাসিউটিক্যাল মার্কেটিং শুধু বিক্রয় বা প্রচারণা নয়; এটি একটি বৈজ্ঞানিক, ক্লিনিক্যাল, বাণিজ্যিক ও নৈতিক দায়িত্ব। এখানেই একজন ফার্মাসিস্টের শিক্ষাগত ভিত্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ফার্মাকোলজি, ড্রাগ মেকানিজম, ফার্মাসিউটিক্স, ডোজ, ওষুধের পারস্পরিক প্রতিক্রিয়া, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এবং থেরাপিউটিক জ্ঞানের বৈজ্ঞানিক ভিত্তি মার্কেটিং কার্যক্রমে একটি বিশেষ মূল্য যোগ করে।
একজন ফার্মাসিস্ট বৈজ্ঞানিক তথ্য বিশ্লেষণ করতে পারেন, চিকিৎসকদের সাথে কার্যকর বৈজ্ঞানিক যোগাযোগ তৈরি করতে পারেন, বিক্রয় দলকে প্রশিক্ষণ দিতে পারেন এবং মেডিকেল, রেগুলেটরি ও বাণিজ্যিক বিভাগের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করতে পারেন। তবে শুধু ফার্মেসি ডিগ্রি থাকলেই কেউ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভালো মার্কেটার হয়ে যান না।
মার্কেটিং একটি আলাদা দক্ষতার ক্ষেত্র। এখানে ব্যবসায়িক ধারণা, কৌশল, যোগাযোগ দক্ষতা, নেতৃত্ব এবং বাস্তবায়নের ক্ষমতা প্রয়োজন। বৈজ্ঞানিক জ্ঞান হলো ভিত্তি; সফল মার্কেটিংয়ের জন্য প্রয়োজন ব্যবসায়িক সক্ষমতাও।
ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যসেবা পেশাজীবীদের সাথে বৈজ্ঞানিক যোগাযোগ তৈরি করতে হয়, যেখানে মেডিকেল জ্ঞান, চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা, ক্লিনিক্যাল প্রমাণ এবং আপডেটেড তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আমরা সাধারণ কোনো পণ্য নিয়ে কাজ করি না; আমরা ওষুধ নিয়ে কাজ করি। যেখানে প্রতিটি সিদ্ধান্ত বিজ্ঞান, রোগীর নিরাপত্তা এবং রোগীর সুস্থতার সাথে সম্পর্কিত। এই শিল্প একটি বহুমাত্রিক ক্ষেত্র। ফাইন্যান্স, সাপ্লাই চেইন, বিজনেস, সেলস ও প্রযুক্তি—প্রতিটি ক্ষেত্রের দক্ষতা প্রয়োজন। তবে এই ব্যবস্থার কেন্দ্রবিন্দু হলো ওষুধ, আর সেখানে ফার্মাসিস্টের বৈজ্ঞানিক অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফার্মাসিস্টকে অন্য কোনো পেশার ওপরে রাখার প্রয়োজন নেই; আবার তাদের অবদানকে অবমূল্যায়ন করারও কোনো কারণ নেই।
তাই আজ প্রশ্নটি হওয়া উচিত নয়—‘ফার্মাসিস্ট হয়ে মার্কেটিংয়ে কেন ‘ বরং প্রশ্ন হওয়া উচিত— ‘ফার্মাসিস্টের বৈজ্ঞানিক জ্ঞান ও ব্যবসায়িক দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে ফার্মাসিউটিক্যাল মার্কেটিংকে কীভাবে আরও বৈজ্ঞানিক, নৈতিক ও রোগীকেন্দ্রিক করা যায়?’
সেক্ষেত্রে প্রশ্নটির উত্তর হবে- বিজ্ঞান ও কৌশলের সমন্বয়, ক্লিনিক্যাল বোঝাপড়া ও বাজারের অন্তর্দৃষ্টির সমন্বয় ও বাণিজ্যিক প্রবৃদ্ধির সাথে রোগীর মূল্যবোধের সংযোগ। কিন্তু ফার্মাসিউটিক্যাল শিল্পে বাজারের পেছনের ওষুধের বিজ্ঞান আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
লেখক-
রেজিস্টার্ড গ্রেড-এ ফার্মাসিস্ট

