...|...|...

রাজধানী

পরিবেশবান্ধব উৎপাদন নিয়ে সেমিনারে বক্তারা

প্লাস্টিক দূষণ রোধে উৎপাদকদের দায়বদ্ধতা নিশ্চিতের আহ্বান

টাইমস টুডে প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:৪২ | আপডেট: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, সন্ধ্যা ৭:৫৮
Shares
প্লাস্টিক দূষণ রোধে উৎপাদকদের দায়বদ্ধতা নিশ্চিতের আহ্বান

ইপিআর, পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ও টেকসই পণ্য নকশা নিয়ে ঢাকায় সেমিনার। ছবি:

বাংলাদেশে প্লাস্টিক দূষণ কমানো, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত করা এবং পরিবেশবান্ধব উৎপাদনব্যবস্থা গড়ে তুলতে উৎপাদকদের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও উন্নয়ন সহযোগীরা।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাজধানীর দ্য ওয়েস্টিন ঢাকায় পরিবেশ অধিদফতর (ডিওই) ও জাতিসংঘের শিল্প উন্নয়ন সংস্থা (ইউনিডো) আয়োজিত এক সেমিনারে এ বিষয়ে আলোচনা হয়। সেমিনারে বর্ধিত উৎপাদক দায়বদ্ধতা (এক্সটেন্ডেড প্রডিউসার রেসপনসিবিলিটি—ইপিআর), সম্পদ-সাশ্রয়ী ও পরিচ্ছন্ন উৎপাদন (আরইসিপি) এবং পরিবেশবান্ধব পণ্য নকশার (ডিজাইন ফর এনভায়রনমেন্ট—ডিএফই) বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা করা হয়।

‘বাংলাদেশে টেকসই প্লাস্টিক ব্যবহার ও সামুদ্রিক বর্জ্য প্রতিরোধে সমন্বিত উদ্যোগ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত এ সেমিনারে অর্থায়ন করেছে ঢাকায় অবস্থিত রয়্যাল নরওয়েজিয়ান দূতাবাস। অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী পর্বে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হাকন আরাল্ড গুলব্রানসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন ইউনিডোর বাংলাদেশ প্রতিনিধি আলমগীর হোসেন। পরিবেশ অধিদফতরের পরিচালক ড. মাসুদ ইকবাল মো. শামীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রকল্পের জাতীয় পরিচালক ও পরিবেশ অধিদফতরের উপপরিচালক ড. আবদুল্লাহ আল মামুন। পরিবেশ অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মো. লুৎফর রহমানের ভিডিও বার্তাও উপস্থাপন করা হয়।

সেমিনারের কারিগরি অধিবেশনে প্লাস্টিক খাতে ইপিআর নীতির কার্যকর বাস্তবায়নের উপায় তুলে ধরা হয়। প্রকল্পের জাতীয় বিশেষজ্ঞ মাকসুদ সিনহা এ বিষয়ে উপস্থাপনা দেন। পরে ইউনিডোর সাবেক বাংলাদেশ প্রতিনিধি ড. জাকি উজ জামানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত প্যানেল আলোচনায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, পরিবেশ অধিদফতর, রয়্যাল নরওয়েজিয়ান দূতাবাস, বাংলাদেশ প্লাস্টিক পণ্য প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি এবং প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

আলোচনায় প্লাস্টিক পণ্যের উৎপাদন ও ব্যবহারের পর সৃষ্ট বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সরকার, উৎপাদক ও অন্যান্য অংশীজনের দায়িত্ব এবং সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।

সেমিনারের পরবর্তী অধিবেশনগুলোতে শিল্পকারখানায় কাঁচামাল, জ্বালানি ও অন্যান্য সম্পদের দক্ষ ব্যবহার এবং উৎপাদনজনিত বর্জ্য কমানোর বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়। ইউনিডোর প্রকল্প দল আরইসিপি কার্যক্রমের অর্জন ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা উপস্থাপন করে। এ পর্বে আকিজ প্লাস্টিকস লিমিটেড, এক্সোপ্লাস্ট লিমিটেড এবং আরএফএল গ্রুপের টেল প্লাস্টিক লিমিটেডের প্রতিনিধিরা তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

এ ছাড়া পরিবেশের ওপর পণ্যের নেতিবাচক প্রভাব কমাতে নকশা পর্যায় থেকেই করণীয় নির্ধারণের বিষয়ে আলোচনা হয়। এ অধিবেশনে এসিআই প্রিমিও প্লাস্টিক, প্রাণ-আরএফএল এবং স্কয়ার টয়লেট্রিজ লিমিটেডের প্রতিনিধিরা শিল্পক্ষেত্রে পরিবেশবান্ধব পণ্য নকশা প্রয়োগের অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন।

সমাপনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. নুরুন নাহার এবং যুগ্ম সচিব লুবনা ইয়াসমিন। পরিবেশ অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক সুলাইমান হায়দার সমাপনী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

আয়োজকেরা জানান, নীতিগত উদ্যোগ ও শিল্পকারখানার বাস্তব অভিজ্ঞতার মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর মাধ্যমে বাংলাদেশের প্লাস্টিক খাতকে আরও সম্পদ-সাশ্রয়ী ও বৃত্তাকার অর্থনীতিভিত্তিক ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে নেওয়া এ উদ্যোগের লক্ষ্য। এ রূপান্তর ত্বরান্বিত করতে প্রকল্পটির আওতায় নীতিগত সহায়তা, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা এবং প্লাস্টিক দূষণ ও সামুদ্রিক বর্জ্য প্রতিরোধে বাস্তবভিত্তিক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।