কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) অধ্যয়নকালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ততার মধ্য দিয়ে নিজের রাজনৈতিক শিক্ষার শুরু হয়েছিল বলে জানিয়েছেন আমজনতার দলের সদস্যসচিব মো. তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে নিজের রাজনৈতিক জীবনের শুরুর দিকের নানা অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন তিনি।
এর আগে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান শুভ বলেছিলেন, আমজনতার দলের সদস্যসচিব তারেক রহমান কুবি ছাত্রদলের কর্মী ছিলেন। তার এ বক্তব্য নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর নিজের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ও অবস্থান ব্যাখ্যা করেন তারেক রহমান।
ফেসবুক পোস্টে তারেক রহমান লেখেন, ‘শুভ ভাই সঠিক বলেছেন, প্রাণের সংগঠন ছাত্রদলের হাত ধরেই আমার রাজনৈতিক শিক্ষা। ২০১১ সালে ছাত্রদলের মিছিলের একেবারে সামনের লাইনেই ছিলাম। আমার মনে আছে, রানীর দিঘির পাড়ে সন্ধ্যায় কুবি ছাত্রলীগের শহর শাখা আমার গলায় এন্টিকাটার ধরেছিল। ২০১৩ সালে কোটা আন্দোলনে আমরা একটি দল ঢাকায় এসে অংশ নিলে চারুকলার সামনে আক্রান্ত হই। ২০১৪ সালের নির্বাচনকেন্দ্রিক হরতাল-অবরোধে খুব সক্রিয় ছিলাম আমি। এর পর থেকেই রাজনীতি থেকে নিজেকে সরিয়ে নিই, পড়াশোনার পাশাপাশি ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ি।’
২০১৮ সালের কোটা আন্দোলনের প্রস্তুতি নিয়েও নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন তারেক রহমান। তিনি লেখেন, ‘২০১৮ সালের কোটা আন্দোলন শুরুর আগে পাবলিক লাইব্রেরিতে পড়তাম। হাতে লেখা লিফলেট সবার টেবিলে টেবিলে রেখে দিতাম। অনেক কষ্টে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করেছিলাম একটা বড় আন্দোলনের জন্য। তখন আমি আর কোনো দলীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলাম না। তবে ছাত্ররাজনীতির সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি কোটা আন্দোলনে।’
ওই আন্দোলনে গ্রেফতার হওয়ার ঘটনাও উল্লেখ করেন তিনি। তারেক রহমান লেখেন, ‘২০১৮ সালের ১৪ মার্চ আমি সহ ৫৪ জন আটক হলে আমার বন্ধু, বর্তমানে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মোশারফ হোসাইনকে ফোন করি। ছাত্রদলের অপর সহযোদ্ধা কামরুল ভাইয়ের উদ্যোগে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরুদ্ধ করা হয়। আমাদের মুক্তি পর্যন্ত সেই অবরোধ জারি ছিল। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই অবরোধ ছিল কোটা আন্দোলনের প্রথম রাজপথের প্রতিরোধ।’
আন্দোলনের শুরুর দিকের সহযোদ্ধাদের স্মরণ করে তিনি আরও বলেন, ‘আমার গা শিউরে ওঠে, কুবিয়ান হয়ে ঢাবিতে ছাত্রলীগের ডেরায় ঢুকে কীভাবে এই আন্দোলনের উদ্যোগ নিয়েছিলাম। দীন মোহাম্মদ ভাই, ভিপি নুর ভাই, রাশেদ খান ভাই, মামুন ভাই, ফারুক হাসান ভাই, সোহরাব হোসেন ভাইয়েরা এসে আমার সঙ্গে যুক্ত হলেন। সবাই মিলে অসাধারণ এক লড়াইয়ের অধ্যায় ছিল।’
পোস্টের শেষাংশে তারেক রহমান উল্লেখ করেন, জাতীয়তাবাদের লড়াইয়ের শিক্ষা তিনি ছাত্রদল থেকেই পেয়েছেন। স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম এবং ‘গণতন্ত্রের মা’ মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার জাতীয়তাবাদী আদর্শকে নিজের শিকড় হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
এ ছাড়া ভারতীয় আগ্রাসনবিরোধী পণ্য বর্জন আন্দোলন, এক দফার যুগপৎ আন্দোলন এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিজের সরাসরি তত্ত্বাবধান ও পরামর্শে কাজ করার কথাও পোস্টে উল্লেখ করেন তারেক রহমান।


