বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’ আরও শক্তিশালী হয়েছে। বর্তমানে ঘূর্ণিঝড়টি পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ২৫৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছে। এর কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার। তবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে তা ঘণ্টায় ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ছে।
রবিবার (১ নভেম্বর) আবহাওয়া অধিদফতরের ৫ নম্বর বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আবহাওয়াবিদ খোন্দকার হাফিজুর রহমান জানান, দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড়টি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছে। রোববার সন্ধ্যা ৬টায় ঘূর্ণিঝড়টির অবস্থান ছিল ১২ দশমিক ৬ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৪ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে।
ওই সময় ঘূর্ণিঝড়টি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ৩৭৫ কিলোমিটার, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ৩২০ কিলোমিটার, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ২৬০ কিলোমিটার এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ২৫৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল।
আবহাওয়া অধিদফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়টি আরও পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে শক্তি সঞ্চয় করতে পারে এবং প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। পরে উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে সোমবার (২ নভেম্বর) রাত নাগাদ প্রবল ঘূর্ণিঝড় হিসেবে ভারতের অন্ধ্র উপকূল অতিক্রম করার সম্ভাবনা রয়েছে।
ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্রের কাছাকাছি এলাকায় সাগর বর্তমানে খুবই উত্তাল রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
এ ছাড়া উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।


