...|...|...

জাতীয়

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উদ্যোগ, গহীন পাহাড়ে আবারও বাজবে ‘স্কুলঘণ্টা’

টাইমস টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬, সকাল ১০:১৬ | আপডেট: ৩০ আগস্ট ২০২৬, দুপুর ১:৪৩
Shares
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উদ্যোগ, গহীন পাহাড়ে আবারও বাজবে ‘স্কুলঘণ্টা’

ছবি: বাসস

টানা ভারী বর্ষণে সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়ে গিয়েছিল বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার গহীন পাহাড়ের একটি স্কুল। ফলে একপ্রকার বাধ্য হয়েই বন্ধ করে দিতে হয় অর্ধশতাধিক পাহাড়ি শিশুর শিক্ষাকার্যক্রম। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নজরে আসার পরই স্কুলটি বাঁচাতে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া হয়। ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে নতুন ভবন নির্মাণের কাজ ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে। চলতি মাসেই কাজ শেষ হলে দুর্গম পাহাড়ের বুকে আবারও মুখরিত হবে শিক্ষার্থীদের কোলাহল, বেজে উঠবে স্কুলঘণ্টা।

জানা যায়, আলীকদমের নয়াপাড়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত 'সাকহ্লানপাড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়'। ২০২২ সালে আবাসিক সুবিধাসহ প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়ে ৫০ থেকে ৬০ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। কিন্তু গত জুলাই মাসের শুরুতে টানা ভারী বৃষ্টিতে ভবনটি তছনছ হয়ে যায়।

স্কুল ভবন বিধ্বস্ত হওয়ার বিষয়টি আলীকদম উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. নূরুল ছাফার নজরে এলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী মো. সাইয়েদ বিন আবদুল্লাহকে বিষয়টি অবহিত করেন। এরপরই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সরাসরি নির্দেশনায় বান্দরবান জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে আলীকদম উপজেলা প্রশাসন দ্রুত স্কুলটি পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু করে।

আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মনজুর আলমের তত্ত্বাবধানে গত ২৩ জুলাই থেকে নতুন ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়। পাহাড়ি স্থাপত্যের আদলে বিদ্যালয় ও হোস্টেলটি নির্মাণে প্রায় ১০ লাখ টাকা ব্যয় হচ্ছে এবং ইতোমধ্যে ২০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। ইউএনও মো. মনজুর আলম বলেন, ‘নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মানসম্মতভাবে নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে শিক্ষার্থীদের দ্রুত স্বাভাবিক পাঠদানের পরিবেশ নিশ্চিত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।’

দুর্গম এলাকার একমাত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি নতুন করে গড়ে ওঠার খবরে উচ্ছ্বসিত স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসী। নয়াপাড়ার বাসিন্দা চাই হ্লা মং মারমা বলেন, ‘স্কুল ভেঙে যাওয়ায় ছেলে-মেয়েদের পড়ালেখা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ভেবেছিলাম আর বুঝি স্কুল হবে না। কিন্তু সরকার এত দ্রুত খবর পেয়ে স্কুলঘর নির্মাণ করছে দেখে খুব ভালো লাগছে।’

আশপাশের চারটি গ্রামের শিশুদের শিক্ষার একমাত্র ভরসা ছিল এই স্কুলটি। পাড়া কারবারি (গ্রামপ্রধান) দমলয় মুরুং বলেন, ‘বৃষ্টিতে স্কুলটি ভেঙে যাওয়ায় আমরা খুব কষ্ট পেয়েছিলাম। এখন আবার স্কুলটি গড়ে উঠছে—এটি আমাদের জন্য শুধু একটি ভবন নয়, আমাদের সন্তানদের স্বপ্ন। এ জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই।’

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক গর্ডেন ত্রিপুরা সরকারি এই দ্রুত পদক্ষেপে সন্তোষ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান। স্থানীয় সমাজকর্মী ইসমাইল হাসান উল্লেখ করেন, দুর্গম পাহাড়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণ সবসময়ই চ্যালেঞ্জের। প্রাকৃতিক দুর্যোগে এমন ক্ষতি পাহাড়ি শিক্ষায় বড় ধাক্কা হলেও দ্রুত প্রশাসনিক উদ্যোগে এলাকায় স্বস্তি ফিরেছে।

উদ্যোগ গ্রহণের পেছনের কারিগর কলেজ শিক্ষক মো. নূরুল ছাফা বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য ছিল কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নয়, দুর্গম এলাকার শিশুদের শিক্ষা নিশ্চিত করা। একটি স্কুল পুনর্নির্মাণের মধ্য দিয়ে মূলত একটি প্রজন্মের ভবিষ্যৎ রক্ষার সুযোগ তৈরি হলো। এদের শিক্ষা ও দক্ষতার ওপর ভর করেই বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে।’  দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী ও তার বিশেষ সহকারীকে ধন্যবাদ জানান।