...|...|...

সারাদেশ

পূজা দেখতে বেরিয়ে নিখোঁজ জিতু, পকেটের চাবিতে শনাক্ত লাশ

ফরিদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬, বিকেল ৪:৪৮
Shares
পূজা দেখতে বেরিয়ে নিখোঁজ জিতু, পকেটের চাবিতে শনাক্ত লাশ

নিহত কৌশিক সাহা জিতুর (২৩)। ছবি: টাইমস টুডে

মায়ের সাথে পূজামণ্ডপ ঘুরে বাড়ি ফিরেছিলেন। পোশাক বদলে আবারও পূজা দেখতে বের হওয়ার সময় বাড়ির গেটের চাবি পকেটে নিয়ে মায়ের কাছ থেকে বিদায় নেন। কিন্তু সেই বের হওয়াই হয়ে ওঠে শেষ। দুই দিন পর কুমার নদ থেকে উদ্ধার করা হয় সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের শিক্ষার্থী কৌশিক সাহা জিতুর (২৩) লাশ। পকেটে থাকা চাবি দিয়ে নিশ্চিত করা হয় তার পরিচয়।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ফরিদপুর পৌরসভার ভাটিলক্ষীপুর এলাকার মদনখালী স্লুইসগেট-সংলগ্ন কুমার নদ থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

কৌশিক সাহা জিতু ফরিদপুর শহরের ওয়্যারলেসপাড়া এলাকার কমলেশ সাহার ছেলে। তিনি সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের রসায়ন বিভাগের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, রবিবার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে মায়ের সাথে শহরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ঘুরে বাড়ি ফেরেন কৌশিক। পরে পোশাক বদলে আবারও পূজা দেখতে বের হন। এ সময় বাড়ির গেটের চাবি পকেটে নেওয়ার কথা মাকে জানিয়ে যান। কিন্তু রাতে বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা তার খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

পরদিন সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা কোতোয়ালি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এরপরও তার কোনো খোঁজ মেলেনি।

এদিকে মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে স্থানীয় লোকজন কুমার নদে একটি লাশ ভাসতে দেখে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ খবর দেন। পরে নৌ-পুলিশের ফরিদপুর কোতোয়ালি ফাঁড়ি ও কোতোয়ালি থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে। এ সময় লাশটি অর্ধগলিত অবস্থায় ছিল।

খবর পেয়ে কৌশিকের বাবা কমলেশ সাহাসহ স্বজনেরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তার পরনে থাকা টি-শার্ট ও প্যান্ট দেখে প্রথমে লাশটি শনাক্ত করেন তারা। পরে পকেটে পাওয়া চাবিটি পরিচয় নিশ্চিত করার গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হয়ে ওঠে।

কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাসুদ হোসেন জানান, মরদেহ পচে ফুলে যাওয়ায় পরিচয় শনাক্তে সমস্যা হচ্ছিল। এ কারণে পকেটে পাওয়া চাবিটি কৌশিকের বাড়িতে নিয়ে তালাগুলোতে পরীক্ষা করা হয়। চাবি দিয়ে বাড়ির তালা খুলে যাওয়ায় তাঁর পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়।

ঘটনার খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আজমীর হোসেন, কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহামুদুল হাসানসহ সিআইডি ও পিবিআইয়ের সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজমীর হোসেন জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। ঘটনার রহস্য উদ্‌ঘাটনে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।