হঠাৎ দিনে বা গভীর রাতে আপনার বাসার দরজায় কড়া নাড়ল পুলিশ। জানাল, আপনার বাসা তল্লাশি করা হবে। এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ ঘাবড়ে গিয়ে বিনা বাক্যব্যয়ে দরজা খুলে দেন। কিন্তু আপনার নিজের বাড়িতেও আপনার কিছু সাংবিধানিক ও আইনি গোপনীয়তার অধিকার রয়েছে। দরজা খোলার আগে এই অধিকারগুলো জানা না থাকলে আপনি বড় কোনো ষড়যন্ত্র বা ফাসানো মামলার শিকার হতে পারেন।
আইন কী বলে?
ফৌজদারি কার্যবিধি - ধারা ৯৬: আদালত প্রয়োজন হলে তল্লাশির পরোয়ানা দিতে পারেন। পরোয়ানায় কোন ঠিকানা এবং কী খোঁজা হবে তা লেখা থাকে। পুলিশ সাধারণত সেই সীমার মধ্যেই তল্লাশি করবে।
ফৌজদারি কার্যবিধি - ধারা ১০২ ও ১০৩: বৈধ তল্লাশিতে ঘরে ঢোকার সুযোগ দিতে হয়। তল্লাশির আগে এলাকার দুজন বা তার বেশি সম্মানিত ব্যক্তিকে সাক্ষী রাখা এবং জব্দ করা জিনিসের তালিকা বানিয়ে বাসার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিকে কপি দেওয়ার নিয়ম আছে।
ফৌজদারি কার্যবিধি - ধারা ১৬৫: তদন্তের প্রয়োজনীয় জিনিস দ্রুত হারিয়ে যেতে পারে- এমন কারণ থাকলে তদন্তকারী কর্মকর্তা লিখিত কারণ রেখে পরোয়ানা ছাড়াও তল্লাশি করতে পারেন। এই ক্ষমতা ও নিয়মের বাইরে নয়।
ফৌজদারি কার্যবিধি - ধারা ৫২: গ্রেফতার হওয়া কোনো নারীকে দেহ তল্লাশি করতে হলে আরেক নারীকে তা করতে হবে এবং পুরো সময় শালীনতা বজায় রাখতে হবে।
জব্দ করা জিনিসের তালিকা: তল্লাশির সময় ফোন, কম্পিউটার, টাকা বা কোনো কাগজ নেওয়া হলে কোন জিনিসটি কোথা থেকে নেওয়া হয়েছে তা তালিকায় লিখতে হবে। বাসার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি সেই তালিকার একটি কপি চাইতে পারেন।
প্রথমেই আপনার করণীয়
পরিচয় ও কাগজ দেখুন: দলনেতার নাম, পদবি, থানা বা ইউনিট ও পরিচয়পত্র লিখে নিন। পরোয়ানা ও দেওয়ানি থাকলে আদালত, মামলা নম্বর, আপনার ঠিকানা এবং কী খোঁজা হবে তা মিলিয়ে দেখুন।
পরোয়ানা না থাকলে কারণ জিজ্ঞেস করুন: কোন আইনে জরুরি তল্লাশি হচ্ছে এবং কারণটি কোথায় ফৌজদারি লেখা হয়েছে - শান্তভাবে জানতে চান। বাধা দেবেন না; আপত্তি থাকলে সাক্ষীর সামনে বলুন।
সাক্ষী রাখুন: এলাকার স্বাধীন সাক্ষী রাখার নিয়মটি মনে করিয়ে দিন। পরিবারের একজন প্রাপ্তবয়স্ক প্রমাণ সদস্য যেন পুরো তল্লাশির সময় উপস্থিত থাকেন।
জব্দতালিকা পড়ুন: ফোন, কম্পিউটার, কাগজ, টাকা বা অন্য যা নেওয়া হবে - সব ঠিকভাবে তালিকায় চুক্তি আছে কি না দেখুন। ভুল থাকলে ঠিক করিয়ে নিজের কপি নিন।
পরিবার ও আইনজীবীকে জানান: তল্লাশির শুরুতেই সময়, মামলা ও কর্মকর্তার তথ্য পাঠিয়ে দিন। আইনজীবী আসা পর্যন্ত বৈধ তল্লাশি থেমে থাকবে - এমন ধরে নেবেন না ।
যে ভুলগুলো কখনোই করবেন না
দরজা আটকে রাখা: বৈধ তল্লাশিতে বাধা দিলে জোর করে প্রবেশ, ক্ষতি ও নতুন অভিযোগের ঝুঁকি বাড়ে ৷
কাগজ বা ফোন নষ্ট করা: ফোন রিসেট, কাগজ পোড়ানো বা জিনিস লুকালে প্রমাণ নষ্টের অভিযোগ উঠতে পারে।
খালি তালিকায় সই: কী নেওয়া হয়েছে তা লেখা না থাকলে সই করবেন না। তালিকার একটি কপি অবশ্যই চান।
তল্লাশি সম্প্রচার করা: রেকর্ড করতে গিয়ে ব্যক্তিগত কাগজ বা তদন্তের গোপন তথ্য অনলাইনে দেখাবেন না। নিরাপত্তার নির্দেশ মানুন।
প্রতিকার ও অভিযোগের স্থান: পরোয়ানার বাইরে তল্লাশি, তালিকা ছাড়া জিনিস নেওয়া, ভাঙচুর বা খারাপ আচরণের অভিযোগ থাকলে ঘটনার সময়, সাক্ষীর নাম ও জব্দতালিকাসহ থানার ওসি এবং ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে জানান। মামলার আদালতে আইনজীবীর মাধ্যমে জিনিস ফেরত বা প্রয়োজনীয় আদেশ চাওয়া যায়। মারধর বা নারী তল্লাশিতে শালীনতা ভাঙা হলে চিকিৎসার কাগজ ও সাক্ষ্য রেখে আলাদা অভিযোগ করুন। জরুরি সহায়তায় ৯৯৯ এবং সরকারি আইনি পরামর্শে ১৬৬৯৯ নম্বরে কল করা যায়।

