পাকিস্তানের চলমান ঋণ কর্মসূচিগুলোর পর্যালোচনার পর দেশটির সাথে একটি স্টাফ-লেভেল বা কর্মী পর্যায়ের চুক্তি চূড়ান্ত করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল। এর ফলে আইএমএফ বোর্ডের অনুমোদন সাপেক্ষে পাকিস্তান প্রায় ১২১ কোটি মার্কিন ডলার আর্থিক সহায়তা পেতে যাচ্ছে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাতে এ তথ্য জানানো হয়।
আইএমএফ বোর্ড এই চুক্তি অনুমোদন করলে পাকিস্তান এক্সটেন্ডেড ফান্ড ফ্যাসিলিটি-এর আওতায় প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার এবং জলবায়ু-কেন্দ্রিক রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি ফ্যাসিলিটি-এর আওতায় ২১ কোটি ডলার তুলতে পারবে। এর মাধ্যমে এই দুটি কর্মসূচির অধীনে মোট ছাড়ের পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ৫ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারে।
উল্লেখ্য, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করা এবং বৈদেশিক ঋণের কিস্তি পরিশোধের জন্য পাকিস্তানকে নিয়মিতভাবেই বাহ্যিক এই অর্থায়নের ওপর নির্ভর করতে হয়।
আইএমএফ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইএফএফ-এর সহায়তায় পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাব সফলভাবে মোকাবিলা করেছে এবং তাদের কঠোর নীতিগুলো সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করেছে।
তবে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, জ্বালানি তেলের দামের অস্থিরতা, বৈশ্বিক আর্থিক খাতের কঠোর পরিস্থিতি এবং বাণিজ্য বা সাপ্লাই চেইনে বিঘ্ন ঘটার কারণে এখনও ঝুঁকি যথেষ্ট বেশি রয়েছে বলে সতর্ক করেছে আইএমএফ।
এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল মার্কেট ইন্টেলিজেন্সের প্রধান অর্থনীতিবিদ আহমেদ মুবিন এর আগে চলতি বছরের শুরুতে বলেছিলেন যে, উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি আমদানি, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স এবং ওই অঞ্চল থেকে পাওয়া আর্থিক সহায়তার ওপর অতিরিক্ত মাত্রায় নির্ভরশীলতার কারণে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বড় অর্থনীতিগুলোর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের ক্ষেত্রে পাকিস্তানই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে।


