...|...|...

আইন ও আদালত

দীপ্ত টিভির কর্মকর্তা তানজিল হত্যা

পরিবহনমন্ত্রী রবিউলসহ ৯ জনকে মামলায় সম্পৃক্ত করার আবেদন নামঞ্জুর

টাইমস টুুডে প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৫ অক্টোবর ২০২৬, বিকেল ৪:৪৫
Shares
পরিবহনমন্ত্রী রবিউলসহ ৯ জনকে মামলায় সম্পৃক্ত করার আবেদন নামঞ্জুর

সড়ক পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল। ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর হাতিরঝিল এলাকায় দীপ্ত টিভির কর্মকর্তা তানজিল জাহান তামিমকে হত্যার মামলায় সড়ক পরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমসহ ৯ জনের অব্যাহতি বহাল রেখেছেন আদালত। তাদের মামলায় যুক্ত করতে বাদী যে রিভিশন আবেদন করেছিলেন, সোমবার (৫ অক্টোবর) শুনানি শেষে তা খারিজ করা হয়েছে।

ঢাকার ১৩তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ জাহিদুল ইসলামের আদালত এ আদেশ দেন। আদালতের বেঞ্চ সহকারী সোহেল মিয়া আদেশের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, অভিযোগপত্রভুক্ত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলার কার্যক্রম আগের মতোই চলবে।

আদেশের পর বাদীপক্ষের আইনজীবী আব্দুল আলীম অসন্তোষ জানান। তিনি বলেন, এই আদেশ তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয় এবং এর বিরুদ্ধে তারা উচ্চ আদালতে যাবেন।

২০২৪ সালের ১০ অক্টোবর হাতিরঝিল থানার মহানগর আবাসিক এলাকায় নিজ বাসায় হামলার শিকার হন তামিম। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। পরদিন তার বাবা সুলতান আহমেদ বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা করেন।

এজাহারে ১৬ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১১-১২ জনকে আসামি করা হয়। নামীয় আসামিদের মধ্যে ছিলেন ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান প্লেজেন্ট প্রপার্টিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মির্জা আব্দুল লতিফ, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শেখ রবিউল আলম এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের উপপরিচালক মোহাম্মদ মামুন।

মামলা হওয়ার দিনই ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) সংবাদ সম্মেলন করে জানায়, তামিমের বাবার জমিতে চুক্তির ভিত্তিতে ভবন নির্মাণ করেছিল প্লেজেন্ট প্রপার্টিজ। ওই ভবনের ফ্ল্যাট ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধ থেকেই ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ও মামুনসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে তামিমকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।

তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর পিবিআই ঢাকা মহানগর উত্তরের উপপরিদর্শক জাকারিয়া আলম আদালতে প্রতিবেদন দেন। তাতে ১৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র এবং একজন কিশোরের বিরুদ্ধে দোষীপত্র দাখিল করা হয়। তবে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ না পাওয়ার কথা উল্লেখ করে রবিউল আলমসহ ৯ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

এই সুপারিশের বিরুদ্ধে ৮ জানুয়ারি নারাজি আবেদন করেন বাদী সুলতান আহমেদ। ৩ মার্চ ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদের আদালত সেই আবেদন নামঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করে ৯ জনকে অব্যাহতি দেন। এর বিরুদ্ধেই বাদী দায়রা আদালতে রিভিশন করেছিলেন।

অভিযোগপত্রে থাকা আসামিরা হলেন প্লেজেন্ট প্রপার্টিজের এমডি মির্জা আব্দুল লতিফ ও সিইও ফাইজুল আহম্মেদ ওরফে সুমন, মামুনুর রশীদ মামুন, কোরবান আলী, এস এম ইব্রাহিম হোসাইন, বাধন, গাজী জাকির হোসেন, রাসেল, মনির হোসেন, শাহরাজ উদ্দিন, আমিরুল ইসলাম ওরফে আমির, সুমন মল্লিক ও মাহফুজার রহমান।

অব্যাহতি পাওয়া ৯ জন হলেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের উপপরিচালক মোহাম্মদ মামুন, শেখ রবিউল আলম, ফজলুর রহমান, আরিয়ান, নাসরিন আক্তার, রাসেল, মাহফুজুর রহমান, মোজাম্মেল হক কবির ও ইমাম হোসেন।