সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রাণঘাতী হামলার পর দেশটির বিমানবন্দর ও আকাশসীমা ব্যবহার না করতে বিমান সংস্থা, যাত্রী ও কর্মীদের সতর্ক করেছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। সংবাদমাধ্যম রয়টার্স জানায়, রবিবার (১১ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় এ সতর্কতা জানায় ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীটি।
হুথিদের দাবি, সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলো তাদের সামরিক অভিযানের লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠতে পারে। তবে পবিত্র শহর মক্কা ও মদিনার বিমানবন্দরকে এ সতর্কতার বাইরে রাখা হয়েছে।
বার্তায় হুথিরা জানায়, বিমান সংস্থা, বিশেষজ্ঞ, কর্মী ও যাত্রীদের সৌদি আরবের বিমানবন্দর এবং আকাশসীমা ব্যবহার থেকে বিরত থাকা উচিত। তাদের সতর্কবার্তা গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে হুথিরা বলেছে, ভবিষ্যতে কোনো হামলা প্রতিহত করতে ব্যর্থ হলে তার দায় সৌদি আরবকেই নিতে হবে।
এর আগে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় ১২ জন নিহত ও তিন শতাধিক মানুষ আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। নিহতদের মধ্যে সৌদি আরবের চারজন ও বাংলাদেশের দুই নাগরিক রয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র, জর্ডান, ফিলিস্তিন, সিরিয়া, সুদান ও মিসরের নাগরিকরাও নিহতদের তালিকায় রয়েছেন বলে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
এদিকে ইয়েমেনে সৌদি সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকলে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে হুথি-নিয়ন্ত্রিত দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। রোববার এক বিবৃতিতে তারা জানায়, পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে ‘যেমন আচরণ, তেমন জবাব’ নীতির ভিত্তিতে। সৌদি আরব ইয়েমেনে সামরিক তৎপরতা ও হস্তক্ষেপ বন্ধ না করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলেও সতর্ক করেছে মন্ত্রণালয়।
গত মাসে লোহিত সাগরের উপকূলবর্তী একটি কৌশলগত এলাকা হুথিদের দখলে যাওয়ার পর ইয়েমেনে সামরিক তৎপরতা জোরদার করেছে সৌদি আরব। হুথিদের বিরুদ্ধে বিমান হামলার পাশাপাশি ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীকেও সহায়তা করছে দেশটি।
শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, হুথিদের বিরুদ্ধে সৌদি হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের অংশ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বৃহত্তর যুদ্ধের মধ্যেই ইয়েমেনকে ঘিরে সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে।
এদিকে রিয়াদের বিমানবন্দরে হামলার পরও নির্ধারিত আন্তর্জাতিক জ্বালানি সম্মেলন আয়োজনের সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে সৌদি আরব। পাঁচ দিনব্যাপী ‘ডব্লিউপিসি এনার্জি কংগ্রেস’ রোববার রিয়াদের একটি সম্মেলনকেন্দ্রে শুরু হয়েছে। এতে ৭০ জনের বেশি মন্ত্রী, ৩০০ জন কোম্পানি নির্বাহী এবং ২৫টির বেশি আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার প্রতিনিধির অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। তবে তাঁরা সশরীরে নাকি ভার্চুয়ালি অংশ নিচ্ছেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
অন্যদিকে নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে সৌদি কর্তৃপক্ষ রোববার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও প্রশাসনিক কর্মীদের সশরীরে ক্লাস স্থগিত করে অনলাইনে পাঠদানের ব্যবস্থা চালু করেছে।
সৌদি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্ষয়ক্ষতি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে ফ্লাইট চলাচল কখন স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময় জানানো হয়নি।
এর আগে একই সপ্তাহে রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আরও দুটি হামলায় চারজন নিহত হন। এ সময় বিমানবন্দরের টারম্যাকে রাখা সৌদি আরবের একটি বাণিজ্যিক বিমানও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ পরিস্থিতিতে সৌদি বিমানবন্দর ও আকাশসীমা নিয়ে হুথিদের নতুন সতর্কবার্তায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।



