নেপালে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যার পানি ভারতের গন্ধক নদী হয়ে গঙ্গায় প্রবেশ করে ফারাক্কা বাঁধ অতিক্রম করে বাংলাদেশে আসতে পারে। এরপর এ পানি যমুনার সঙ্গে মিলিত হয়ে পদ্মা নদীর প্রবাহে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে গঙ্গা-পদ্মা অববাহিকায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানিয়েছেন কানাডার সাসকাচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া ও জলবায়ুবিষয়ক গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ।
তিনি জানান, তিব্বত-নেপাল সীমান্তে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যার পানি ভোটি কোশি ও ত্রিশুলি নদী হয়ে নারায়ণী-গন্ধক নদীব্যবস্থার মাধ্যমে ভারতের বিহারের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এরই মধ্যে ভারতের কেন্দ্রীয় পানি কমিশন গন্ধক নদীর ভাটি এলাকায় সম্ভাব্য আকস্মিক পানি বৃদ্ধির বিষয়ে সতর্কতা জারি করেছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিহারের ভালমিকিনাগরের গন্ধক বাঁধের ৩৬টি গেট খুলে দিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
মোস্তফা কামাল পলাশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গন্ধক নদীর অতিরিক্ত পানি বিহারের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে হাজিপুর-সোনপুর এলাকার কাছে গঙ্গায় মিলিত হবে। এরপর গঙ্গার মূল প্রবাহের সঙ্গে পূর্বদিকে অগ্রসর হয়ে ফারাক্কা বাঁধ অতিক্রম করে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারে। পরে এ পানি যমুনার সঙ্গে মিলিত হয়ে পদ্মার প্রবাহে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
পানির সম্ভাব্য গতিপথ হলো-ভালমিকিনগর → গন্ধক → হাজিপুর/সোনপুর → গঙ্গা → পূর্ব বিহার → ফারাক্কা → বাংলাদেশ।
তবে নেপালে সৃষ্ট এই নির্দিষ্ট পাহাড়ি ঢলের পানি ঠিক কখন বাংলাদেশে পৌঁছাবে, তা বর্তমান পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে নির্ভরযোগ্যভাবে নির্ধারণ করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন তিনি।
নদীপথে অগ্রসর হওয়ার সময় পাহাড়ি বন্যার পানির শক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে। ভারতের কেন্দ্রীয় পানি কমিশনও ভাটি এলাকায় পৌঁছানোর সময় ঢলের শক্তি ক্ষয় হওয়ার বিষয়টি জানিয়েছে।
বর্তমানে বিহারের গঙ্গার কয়েকটি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে পানি বিপৎসীমার ওপরে রয়েছে। ফলে নেপাল থেকে আসা অতিরিক্ত পানি গঙ্গায় যুক্ত হওয়ার পর ভাটি এলাকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে।
বাংলাদেশের গঙ্গা-পদ্মা নদীর তীরবর্তী এলাকা, বিশেষ করে চরাঞ্চলের মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে আগামী কয়েক দিন নদীর পানির উচ্চতার পরিবর্তনের ওপর সতর্ক নজর রাখার পরামর্শ দিয়েছেন গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ।



