ভারতের দিল্লিতে কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত বিক্ষোভস্থল যন্তর মন্তরে প্রবেশ করে স্লোগান দেওয়ায় ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র দুই শীর্ষনেতাকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ভোরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভের সময় তাঁদের আটক করা হয়। সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, দলের নেতা আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসকে পুলিশ যন্তর মন্তর থেকে নিয়ে যাচ্ছে। ভিডিওতে তাঁদের অন্য বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের ব্যারিকেড টপকে ভেতরে প্রবেশ করতে এবং ভারতের পতাকা হাতে স্লোগান দিতে দেখা যায়।
আটকের পর রাঙ্কা, দাস ও দীপকে নিজেদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টে ভিডিও ও বার্তা প্রকাশ করতে দেখা যায়। এক্সে দেওয়া পোস্টে দীপকে লেখেন, ‘আপনারা এই প্রতিরোধকে বাতিল বা অবৈধ ঘোষণা করতে পারবেন না।’ দাসও যন্তর মন্তরকে ‘পুনর্দখল’ করার দাবি করেন। পরে রাঙ্কাকে আটক অন্যদের সঙ্গে একটি পুলিশ বাসে বসে ইনস্টাগ্রাম লাইভে দেখা যায়। সেখানে তাঁরা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় জানান। তবে পুলিশ তাঁদের কোথায় নিয়ে গেছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
এর এক দিন আগে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, দিল্লিতে গণবিক্ষোভের ঐতিহ্যবাহী স্থান যন্তর মন্তর আর বিক্ষোভের নির্ধারিত স্থান হিসেবে থাকবে না। এর পরিবর্তে তিনটি বিকল্প স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে, যেখানে অনুমতি নিয়ে বিক্ষোভ করা যাবে।
এর আগে যন্তর মন্তরে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনের অনুমতি চেয়ে দিল্লি পুলিশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছিল সিজেপি। অনুমতি না পেলে আরও কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারিও দিয়েছিল দলটি।
ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই দিল্লিতে বিক্ষোভ ও রাজনৈতিক তৎপরতা বাড়ছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে কয়েক দিন ধরেই আন্দোলন চলছে। শনিবার সিজেপির ডাকা বিক্ষোভ ঘিরে রাজধানীতে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। বেশ কয়েকটি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়, ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয় এবং বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও আধা-সামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। ওই সময় সাংবাদিকসহ হাজারো মানুষকে আটক করে পরে ছেড়ে দেওয়া হয়। বিক্ষোভকারীদের টেনেহিঁচড়ে বাসে তোলার ভিডিও ও ছবিও ছড়িয়ে পড়ে।
এদিকে, সোমবার বিরোধী দলগুলো দিল্লির কনট প্লেস থেকে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত মিছিল করে। একই দিন কংগ্রেসও ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়াকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করে। দলটির অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে কয়েক কোটি মানুষের নাম বাদ পড়েছে।
সমালোচকদের আশঙ্কা, সংশোধনের ফলে যোগ্য ভোটাররাও তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারেন এবং তাঁদের ভোটার হিসেবে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করা কঠিন হয়ে উঠতে পারে। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরোধীদের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়া ক্ষমতাসীন বিজেপির জন্য সুবিধা তৈরি করছে। তবে বিজেপি ও নির্বাচন কমিশন উভয়েই এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
এদিকে, ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভোটার নিবন্ধনে পরিবর্তন নিয়ে অন্য দুই নির্বাচন কমিশনারের উদ্বেগ উপেক্ষা করেছিলেন জ্ঞানেশ কুমার। তবে নির্বাচন কমিশনের দাবি, তাদের সিদ্ধান্তগুলো সর্বসম্মত ছিল।



